26 C
Kolkata
October 25, 2026
কলকাতা

ছাত্র বিক্ষোভে কড়া অবস্থান এসআরএফটিআইয়ের

ফাইল চিত্র

সংবাদ কলকাতা: ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপের কারণ হিসেবে ভাঙচুর, প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি নষ্ট করা এবং শারীরিক হেনস্থার অভিযোগ তুলে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট। প্রতিষ্ঠানের দাবি, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারকে সম্মান করা হলেও সেই অধিকার কোনওভাবেই ভাঙচুর বা শৃঙ্খলাভঙ্গের ছাড়পত্র হতে পারে না। নির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রতিষ্ঠানের নিয়ম লঙ্ঘনের ভিত্তিতেই কয়েক জন পড়ুয়ার বিরুদ্ধে বহিষ্কার এবং কারণ দর্শানোর নোটিস জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

রবিবার, ২৫ অক্টোবর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কলকাতার এই চলচ্চিত্র ও গণমাধ্যম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া শাস্তিমূলক প্রক্রিয়ার সঙ্গে তাঁদের বৈধভাবে প্রতিবাদ জানানোর অধিকারকে এক করে দেখা ঠিক নয়। প্রতিষ্ঠানের দাবি, সংশ্লিষ্ট পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কিছু অসদাচরণ, ভাঙচুর, দেওয়াল ও অন্যান্য জায়গা বিকৃত করা এবং শারীরিক হেনস্থার অভিযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের নিয়ম ও পড়ুয়াদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগের প্রধান, ডিন, রেজিস্ট্রার এবং ঘটনার তদন্তে গঠিত তথ্য অনুসন্ধান কমিটির সদস্যদের নিয়ে গঠিত ডিন কাউন্সিল শাস্তিমূলক পদক্ষেপের সুপারিশ করেছিল। সেই সুপারিশের ভিত্তিতে প্রযোজ্য নিয়ম ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া মেনেই বহিষ্কার এবং কারণ দর্শানোর নোটিস জারি করা হয়েছে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের।

উপাচার্যের দপ্তরে ভাঙচুরের অভিযোগ
প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ, আন্দোলনের সময় উপাচার্যের দপ্তর দখল করে ভাঙচুর করা হয়েছিল। সেই ঘটনার ছবি রয়েছে বলেও বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, দপ্তরের জানলার কাচ ভাঙা হয়েছিল, আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং জল ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার পাইপলাইন ইচ্ছাকৃতভাবে কেটে দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে দপ্তরের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠান।

১৫ অক্টোবর প্রকাশিত আগের বিবৃতির উল্লেখ করে কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, ওই ঘটনায় এক পড়ুয়ার বিরুদ্ধে উপাচার্যকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করার অভিযোগ উঠেছিল। অন্য কয়েক জন পড়ুয়ার বিরুদ্ধে উপাচার্যকে ঘেরাও করা, ভয় দেখানো এবং গালিগালাজ করার অভিযোগও আনা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের মতে, এই ধরনের আচরণ শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের সীমা অতিক্রম করে এবং গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গের পর্যায়ে পড়ে।

তবে বিবৃতিতে ওঠা অভিযোগগুলির সত্যতা নিয়ে কর্তৃপক্ষের বক্তব্যই সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট পড়ুয়াদের পৃথক বক্তব্য বা অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের প্রতিক্রিয়া এই বিবৃতিতে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়নি।

১৩ নভেম্বর পর্যন্ত পঠনপাঠন বন্ধ
প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, চলচ্চিত্র বিভাগ এবং ইলেকট্রনিক ও ডিজিটাল মিডিয়া বিভাগের পঠনপাঠন আগামী ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। পড়ুয়াদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ক্যাম্পাস এবং হস্টেল ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং নিয়ম মেনে শিক্ষামূলক কাজকর্ম পরিচালনা করার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও কিছু পড়ুয়া এখনও বেআইনিভাবে প্রতিষ্ঠানের চত্বর দখল করে রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে কর্তৃপক্ষ। এই পরিস্থিতিতে ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক, শিক্ষক, কর্মী এবং সাধারণ মানুষের কাছে যাচাই না করা তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে না পৌঁছনোর আবেদন জানিয়েছে প্রতিষ্ঠান।


বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, শান্তিপূর্ণভাবে মতপ্রকাশ, অভিযোগ জানানো এবং প্রতিবাদ করার অধিকারকে এসআরএফটিআই সম্মান করে। শুধুমাত্র শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার জন্য কোনও পড়ুয়ার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য নয়। তবে ভাঙচুর, শারীরিক অসদাচরণ বা প্রতিষ্ঠানের বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকলে তার দায়ও এড়ানো যায় না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

অধিকাংশ পড়ুয়ার পড়াশোনার স্বার্থে আবেদন
প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য, চলতি আন্দোলনে ছাত্রছাত্রীদের একটি অংশই অংশ নিয়েছে। তাই এই আন্দোলনকে গোটা ছাত্রসমাজের মতামত বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়। কয়েক জনের কাজের কারণে যাঁরা নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চান, তাঁদের শিক্ষাজীবন এবং প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক ভাবমূর্তি যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেই আবেদনও জানানো হয়েছে।

চলচ্চিত্র ও গণমাধ্যম শিক্ষার প্রসারে কলকাতার বাইরেও বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেছে প্রতিষ্ঠানটি। ত্রিপুরা সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে আগরতলায় ত্রিপুরা ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনায় সহযোগিতা করছে তারা। সেখানে অভিনয়, চলচ্চিত্র নির্মাণ এবং ভিডিও সম্পাদনার মতো বিষয়ে পেশাদার প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


এ ছাড়া, নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর স্পিয়ার কর্পসের সঙ্গে যৌথভাবে দু’সপ্তাহের একটি গণমাধ্যম প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালানোর কথাও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই কর্মসূচিতে তরুণদের দৃশ্য-শ্রাব্য উপকরণ তৈরি, ডিজিটাল মাধ্যমে গল্প বলা এবং দায়িত্বশীল যোগাযোগের বিষয়ে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠান।

এসআরএফটিআইয়ের রেজিস্ট্রার দীপক কুমারের স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা, প্রতিষ্ঠানের নিয়ম মেনে চলা এবং প্রত্যেক সদস্যের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষা করাই কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য। পাশাপাশি গণতান্ত্রিক মতপ্রকাশের অধিকার এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি জবাবদিহি—দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার কথাও জানিয়েছে তারা।

Related posts

Leave a Comment