সংবাদ কলকাতা: অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা থেকে কোনও যোগ্য মহিলা যাতে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতে উদ্যোগী রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আশ্বাস দিয়েছেন, যোগ্য মহিলাদের প্রত্যেকেই এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। সেই লক্ষ্যেই আবেদন যাচাইয়ের প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার উপরে জোর দেওয়া হচ্ছে। নবান্ন সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাওয়ার জন্য জমা পড়ে রয়েছে ১৫ লক্ষেরও বেশি আবেদন। সেই আবেদনগুলি খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।
প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, ধাপে ধাপে এই প্রকল্পের উপভোক্তার সংখ্যা বাড়ছে। সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পেতেন রাজ্যের ১ কোটি ৫৬ লক্ষ মহিলা। অক্টোবর মাসে নতুন করে আরও ৮ লক্ষ মহিলার নাম এই প্রকল্পের তালিকায় যুক্ত হয়েছে। ফলে পুজোর মাসে মোট ১ কোটি ৬৪ লক্ষ মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় মাসিক ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
রাজ্য সরকারের এই প্রকল্পে উপভোক্তাদের সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয় ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার বা ডিবিটি পদ্ধতিতে। এর ফলে সরকারি সহায়তার টাকা সরাসরি প্রাপকদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যায়। তবে প্রকল্পে নতুন উপভোক্তার সংখ্যা বাড়লেও এখনও বহু আবেদন যাচাইয়ের অপেক্ষায় রয়েছে। সেই আবেদনগুলি দ্রুত নিষ্পত্তি করাই এখন প্রশাসনের অন্যতম লক্ষ্য।
অন্যদিকে, অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে উপভোক্তাদের অভিযোগ শোনার জন্য সম্প্রতি বিশেষ পোর্টাল চালু করেছে রাজ্য সরকার। ওই পোর্টালের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই প্রায় ২০ হাজার অভিযোগ জমা পড়েছে। আবেদন সংক্রান্ত সমস্যা, প্রকল্পের সুবিধা পেতে অসুবিধা কিংবা অন্যান্য অভিযোগের বিষয়গুলি খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। অভিযোগগুলির নিষ্পত্তির পাশাপাশি প্রকৃত যোগ্য উপভোক্তারা যাতে তাঁদের প্রাপ্য আর্থিক সহায়তা পান, তা নিশ্চিত করার উপরেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, রাজ্যে পালাবদলের পর অন্নপূর্ণা যোজনা চালু করে নতুন সরকার। এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য মহিলাদের প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য অনলাইন ও অফলাইন—দু’ভাবেই আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছিল। পাশাপাশি, বিশেষ শিবিরের আয়োজন করেও নতুন আবেদন গ্রহণ করা হয়। সেই শিবিরগুলিতে বহু মহিলা প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছিলেন।
এখন সেই আবেদনগুলির যাচাই এবং অভিযোগের নিষ্পত্তি—দুই প্রক্রিয়াই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ, আবেদন জমা পড়লেই কোনও ব্যক্তি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হন না। প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি যাচাইয়ের পরেই উপভোক্তার যোগ্যতা চূড়ান্ত করা হয়। ফলে বকেয়া আবেদনগুলির দ্রুত যাচাই শেষ হলে আরও কত জন মহিলা এই প্রকল্পের আওতায় আসতে পারবেন, তা স্পষ্ট হবে।
রাজ্য প্রশাসনের আশ্বাস, অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও যোগ্য মহিলা যেন বাদ না পড়েন, সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে। এখন দেখার, জমে থাকা ১৫ লক্ষেরও বেশি আবেদনের যাচাই কত দ্রুত শেষ হয় এবং পোর্টালে জমা পড়া অভিযোগগুলির কতটা দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়।
previous post
