29 C
Kolkata
October 24, 2026
খেলা

শেষ ওভারে জয় ভারতের, তিলকের ঝোড়ো হাফসেঞ্চুরি

ক্রাইস্টচার্চ— নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচেও জয় পেল ভারত। ১৮১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে একসময় ৭০ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে গিয়েছিল শ্রেয়স আইয়ারের দল। কিন্তু তিলক বর্মা ও নীতীশ রেড্ডির পাল্টা আক্রমণে শেষ পর্যন্ত এক বল বাকি থাকতে ৪ উইকেটে ম্যাচ জিতে নিল ভারত। এই জয়ের ফলে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ়ে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল তারা।

ক্রাইস্টচার্চে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি নিউ জিল্যান্ডের। টিম সেইফার্ট ৭, ফিন অ্যালেন ১৬ এবং ড্যারিল মিচেল মাত্র ৬ রান করে ফিরে যান। ৪১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে কিউয়িরা। সেখান থেকে ইনিংসের হাল ধরেন গ্লেন ফিলিপস ও বেভন জ্যাকবস। চতুর্থ উইকেটে তাঁদের ১১৬ রানের জুটি নিউ জিল্যান্ডকে লড়াইয়ের জায়গায় পৌঁছে দেয়।

ফিলিপস ৪৩ বলে ৭০ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৪টি চার ও ৪টি ছয়। অন্য দিকে, জ্যাকবস ৪৬ বলে করেন ৫৮ রান। তিনি মারেন ৫টি চার ও ১টি ছয়। তাঁদের দাপটেই নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৮০ রান তোলে নিউ জিল্যান্ড। ভারতের হয়ে অর্শদীপ সিংহ ৩৩ রানে ২ উইকেট নেন। প্রিন্স যাদব, নীতীশ রেড্ডি ও ভুবনেশ্বর কুমার একটি করে উইকেট পান।

১৮১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে সাবধানী ছিলেন সঞ্জু স্যামসন ও অভিষেক শর্মা। কিন্তু বড় রান করার প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি দু’জনেই। সঞ্জু ১৭ বলে ১৪ রান করে আউট হন। অভিষেক ২১ বলে করেন ২৭। এরপর তিন নম্বরে নেমে বৈভব সূর্যবংশী মাত্র ৪ রান করে ফিরে যান। অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার ৭ এবং অক্ষর পটেল ১১ রান করে আউট হলে ভারতীয় শিবিরে চাপ বাড়ে।

নিউ জিল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল মিচেল স্যান্টনার। মাত্র ২১ রান দিয়ে ৪ উইকেট তুলে নিয়ে ভারতীয় ব্যাটিংয়ের উপরের সারিকে কার্যত ধসিয়ে দেন তিনি। নাথান স্মিথ ও জ্যাকব ডাফি একটি করে উইকেট নেন। একসময় মনে হচ্ছিল, ম্যাচের রাশ পুরোপুরি কিউয়িদের হাতে চলে গিয়েছে।


সেখান থেকেই ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই শুরু করেন তিলক বর্মা ও নীতীশ রেড্ডি। চাপের মুখে নীতীশ আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেন। তাঁর সঙ্গে জুটি বেঁধে ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে থাকেন তিলক। নীতীশ ১৭ বলে ৩১ রান করে দলের জয়ের আশা বাড়িয়ে দেন। তাঁর ইনিংসে ছিল ১টি চার ও ৩টি ছয়।

শেষ দিকে তিলক বর্মার ব্যাটে আরও গতি আসে। ২৬ বলে ৫১ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ১টি ছয়। নীতীশও ১৩ বলে ২৬ রান করে অপরাজিত থাকেন। শেষ পর্যন্ত ১৯.৫ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৮১ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয় ভারত।

পরপর দুই ম্যাচ জিতে সিরিজ়ে এগিয়ে গেলেও ভারতের ব্যাটিং নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। উপরের সারির ব্যাটারেরা বড় শট খেলতে গিয়ে বারবার উইকেট হারিয়েছেন। প্রথম ম্যাচে ব্যাটারেরা বোলারদের ব্যর্থতা ঢেকে দিয়েছিলেন। দ্বিতীয় ম্যাচে বোলিং তুলনামূলক ভালো হলেও ব্যাটিংয়ের শুরুতে ধস নামার সমস্যা দেখা গেল। শেষ পর্যন্ত তিলক ও নীতীশের দায়িত্বশীল অথচ আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ভারতকে জয় এনে দিল।

Related posts

Leave a Comment