কল্যাণী: রঞ্জি ট্রফিতে দুরন্ত জয় দিয়ে অভিযান শুরু করল বাংলা। কল্যাণীর মাঠে দিল্লিকে ৯ উইকেটে হারিয়ে মরসুমের শুরুতেই নিজেদের শক্তি বুঝিয়ে দিল লক্ষ্মীরতন শুক্লের দল। ব্যাট হাতে শতরান করলেন সুদীপ ঘরামি ও অভিষেক পোড়েল। বল হাতে মহম্মদ শামি, মুকেশ কুমার, আকাশদীপ ও আমির গনি-সহ বাংলার বোলাররা দাপট দেখালেন। ব্যাটিং ও বোলিং— দুই বিভাগেই দিল্লিকে পিছনে ফেলে জয় তুলে নিল বাংলা।
ম্যাচের প্রথম দিন থেকেই বাংলার দাপট শুরু হয়েছিল। বোলারদের সম্মিলিত পারফরম্যান্সে দিল্লির প্রথম ইনিংস শেষ হয়ে যায় ২৪০ রানে। মহম্মদ শামি চারটি উইকেট নেন। আমির গনির ঝুলিতে আসে তিনটি উইকেট। আকাশদীপ দু’টি এবং মুকেশ কুমার একটি উইকেট তুলে নেন। বাংলার বোলারদের নিয়ন্ত্রিত আক্রমণের সামনে দিল্লির ব্যাটারেরা বড় রান করতে পারেননি। তবে হৃতিক শোকিনের অর্ধশতরানের ইনিংস দিল্লিকে কিছুটা লড়াই করার মতো জায়গায় পৌঁছে দেয়।
কল্যাণীর পিচে প্রথম দিন বাংলার বোলারেরা যে সুবিধা পেয়েছিলেন, দ্বিতীয় দিন সেই সুবিধা কাজে লাগাতে পারেননি দিল্লির বোলারেরা। ব্যাট হাতে বাংলার দুই তারকা সুদীপ ঘরামি ও অভিষেক পোড়েল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেন। তাঁদের শতরানের ইনিংসের সৌজন্যে প্রথম ইনিংসেই বড় ব্যবধান তৈরি করে বাংলা।

সুদীপের ১৩৩, অভিষেকের ১৪৯
বাংলার প্রথম ইনিংসে সবচেয়ে বড় অবদান সুদীপ ঘরামির। ১৩৩ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, গত মরসুমের ছন্দ এখনও ধরে রেখেছেন। গত মরসুমে বাংলার বর্ষসেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হওয়া সুদীপ আবারও ব্যাট হাতে নিজের দক্ষতার পরিচয় দিলেন।
অন্য দিকে, ব্যক্তিগত জীবনের সমস্যাকে দূরে সরিয়ে রেখে বড় ইনিংস খেললেন অভিষেক পোড়েল। তাঁর ব্যাট থেকে এল ১৪৯ রান। শতরান পূর্ণ করার পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তিনি। সুদীপ ও অভিষেকের ব্যাটিংয়ে ভর করে প্রথম ইনিংসে ৪২৯ রান তোলে বাংলা। অর্ধশতরান করেন সুমন্ত গুপ্তও।
প্রথম ইনিংসে ১৮৯ রানের লিড পেয়ে যায় বাংলা। ফলে ম্যাচে ফেরার জন্য দিল্লির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়। দ্বিতীয় ইনিংসে প্রথম ইনিংসের তুলনায় ভাল ব্যাটিং করলেও বাংলার বোলারদের সামনে শেষ পর্যন্ত ২৭৭ রানে থেমে যায় দিল্লির ইনিংস।
দ্বিতীয় ইনিংসেও বাংলার বোলারদের দাপট
দিল্লির হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে সবচেয়ে বেশি রান করেন অধিনায়ক আয়ুষ বদোনি। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৮৫ রান। তবে তাঁর লড়াই দিল্লিকে বড় লক্ষ্য দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল না।
বাংলার হয়ে প্রদীপ্ত তিনটি উইকেট নেন। আমির গনি ও সুমন্ত গুপ্ত দু’টি করে উইকেট তুলে নেন। মহম্মদ শামি, মুকেশ কুমার ও আকাশদীপ একটি করে উইকেট পান। ফলে দ্বিতীয় ইনিংসেও দিল্লির ব্যাটিংকে চাপে রাখতে সফল হন বাংলার বোলারেরা।
দুই ইনিংস মিলিয়ে বাংলার বোলিং আক্রমণের ধারাবাহিকতা এই ম্যাচে বড় পার্থক্য গড়ে দেয়। শামির অভিজ্ঞতা, মুকেশ ও আকাশদীপের পেস আক্রমণ এবং আমিরের কার্যকর বোলিংয়ে দিল্লিকে আটকে রাখতে সফল হয় বাংলা।
১৫.৩ ওভারেই জয়, অল্পের জন্য হল না ১০ উইকেট
দ্বিতীয় ইনিংসে দিল্লিকে ২৭৭ রানে অল আউট করার পর বাংলার সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৮৯ রান। সেই রান তুলতে বেশি সময় নেয়নি বাংলার ব্যাটারেরা। দুই ওপেনার অভিমন্যু ঈশ্বরণ ও অঙ্কুর পাল দলকে জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেন।

অঙ্কুর ৩৮ রান করে আউট হন। তবে ততক্ষণে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান প্রায় উঠে গিয়েছিল। অধিনায়ক অভিমন্যু ৩৪ এবং সুদীপ ১৬ রানে অপরাজিত থাকেন। ১৫.৩ ওভারে এক উইকেট হারিয়েই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলা। সামান্য ব্যবধানে ১০ উইকেটে জেতার সুযোগ হাতছাড়া হলেও ৯ উইকেটের জয় যথেষ্ট দাপটের পরিচয় দিয়েছে।
ব্যাটিংয়ে দুই শতরান, বোলিংয়ে দুই ইনিংসেই নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্স এবং দ্রুত জয়— সব মিলিয়ে রঞ্জি ট্রফির শুরুটা বাংলার জন্য স্বস্তিদায়ক। মরসুমের প্রথম ম্যাচেই দলীয় সংহতি ও পারফরম্যান্সের যে ছবি দেখা গেল, তাতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার বার্তাই দিল লক্ষ্মীরতন শুক্লের দল।
