29 C
Kolkata
October 13, 2026
রাজ্য

বাংলায় ১১ জেলায় নতুন পার্টি অফিস গড়ছে বিজেপি

সংবাদ কলকাতা:— পশ্চিমবঙ্গে সাংগঠনিক শক্তি আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে ১১টি সাংগঠনিক জেলায় নতুন দলীয় কার্যালয় তৈরির উদ্যোগ নিল বিজেপি। উলুবেড়িয়া, আসানসোল, হুগলি, বহরমপুর, ব্যারাকপুর, কলকাতা উত্তর শহরতলি ও ঝাড়গ্রাম-সহ একাধিক সাংগঠনিক জেলায় এই কাজ শুরু হচ্ছে। মঙ্গলবার বিভিন্ন জেলায় নতুন কার্যালয় নির্মাণের জন্য ভূমিপূজনের আয়োজন করা হয়। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতিনিধিরা এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। আসানসোল সাংগঠনিক জেলার কার্যালয়ের ভূমিপূজনে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা সুনীল বনসল।

দলীয় সূত্রে খবর, রাজ্যের বেশ কয়েকটি সাংগঠনিক জেলায় বিজেপির নিজস্ব কার্যালয় থাকলেও এখনও কিছু জায়গায় ভাড়া বাড়ি বা ছোট পরিসরের জায়গা থেকে সাংগঠনিক কাজ চালাতে হয়। দলের কাজের পরিধি বাড়ায় সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে এবার নিজস্ব ভবন তৈরির উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। দুর্গাপুজোর তৃতীয়ায় একযোগে একাধিক জেলায় এই নির্মাণকাজের সূচনা তারই অংশ।

বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, শুধু নির্বাচনের সময় নয়, সারা বছর ধরে সাংগঠনিক কাজ চালানো, কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা এবং বিভিন্ন কর্মসূচির পরিকল্পনার জন্য উপযুক্ত দলীয় কার্যালয় প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই প্রতিটি সাংগঠনিক জেলায় নিজস্ব ও বড় পরিসরের ভবন গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

দলীয় কার্যালয়ে থাকবে একাধিক কাজের ঘর

রাজ্য বিজেপির সহ-সভাপতি প্রবাল রাহা জানিয়েছেন, রাজ্যে দলের কাজের পরিধি বেড়েছে। ফলে ভাড়া বাড়ি বা ছোট জায়গা থেকে সমস্ত সাংগঠনিক কাজ পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ছিল। তাঁর কথায়, ‘আমাদের দল এ রাজ্যে এখন বড় হয়েছে, কাজের পরিসরও বেড়েছে। সুতরাং ভাড়া বাড়ি থেকে, অপরিসর জায়গা থেকে কাজ চালানো আর সম্ভব হচ্ছিল না।’

নতুন কার্যালয়গুলির নকশা ও ঘর তৈরির ক্ষেত্রে দলের নির্দিষ্ট নির্দেশিকা অনুসরণ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, একটি দলীয় কার্যালয়ে অপেক্ষার ঘর, বৈঠকের ঘর, সম্মেলনকক্ষ এবং সভাপতির জন্য আলাদা ঘর থাকা প্রয়োজন। এ ছাড়াও বিভিন্ন সাংগঠনিক কাজের জন্য পৃথক ঘরের ব্যবস্থা রাখা হবে। সেই নির্দেশিকা মেনেই প্রতিটি সাংগঠনিক জেলায় নতুন ভবন তৈরি করা হচ্ছে।

কোন জেলায় কে ছিলেন ভূমিপূজনে?

উলুবেড়িয়ায় নতুন দলীয় কার্যালয়ের ভূমিপূজনে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক শশী অগ্নিহোত্রী এবং ভবন নির্মাণ দলের সমন্বয়ক তথা রাজ্য বিজেপির যুগ্ম কোষাধ্যক্ষ বিদ্যাসাগর মন্ত্রী।

হুগলি সাংগঠনিক জেলার কার্যালয়ের ভূমিপূজন হয় চুঁচুড়ায়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) অমিতাভ চক্রবর্তী এবং রাজ্য সম্পাদক মনোজ পাণ্ডে।

ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলার কর্মসূচিতে যোগ দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক লকেট চট্টোপাধ্যায়।

অন্যদিকে, বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ের পাশে কলকাতা উত্তর শহরতলি সাংগঠনিক জেলার নতুন কার্যালয় তৈরি হবে। সেই কার্যালয়ের ভূমিপূজনে উপস্থিত থাকার কথা ছিল রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি তথা সাংসদ রাহুল সিংহের। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভানেত্রী মধুছন্দা কর।

বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার কর্মসূচিতে যোগ দেন রাজ্য বিজেপির সহ-সভাপতি রামপদ দাস। আসানসোলে উপস্থিত ছিলেন সুনীল বনসল। বিভিন্ন সাংগঠনিক জেলায় রাজ্য স্তরের নেতাদের পাশাপাশি দলের ভবন নির্মাণ দলের প্রতিনিধিদেরও পাঠানো হয়েছিল।

পিছিয়ে গেল ঝাড়গ্রামের কর্মসূচি

ঝাড়গ্রাম সাংগঠনিক জেলায় নতুন দলীয় কার্যালয়ের ভূমিপূজন মঙ্গলবার হওয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওই কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকার কথা ছিল পুরুলিয়ার সাংসদ তথা রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক জ্যোতির্ময় সিংহ মাহাতোর। সংসদের স্বরাষ্ট্র বিষয়ক স্থায়ী সমিতির সদস্য হিসেবে একটি আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে যোগ দিতে তাঁকে দিল্লি যেতে হওয়ায় নির্ধারিত দিনে ভূমিপূজন করা সম্ভব হয়নি।

বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ১৫ অক্টোবর, অর্থাৎ পঞ্চমীতে ঝাড়গ্রামে নতুন দলীয় কার্যালয়ের ভূমিপূজন হবে।

ক্ষমতায় এলেও সংগঠন বিস্তারে জোর

সুনীল বনসল পশ্চিমবঙ্গে দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বুথ স্তর পর্যন্ত সংগঠনকে আরও বিস্তৃত করার উপর জোর দিয়েছিল বিজেপি। দলের লক্ষ্য ছিল, রাজ্যের প্রতিটি এলাকায় সাংগঠনিক উপস্থিতি বাড়ানো এবং কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের ব্যবস্থা আরও মজবুত করা।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে রাজ্যে বিজেপির সাংগঠনিক বিস্তার নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা হয়েছে। তবে নির্বাচনী সাফল্য বা রাজনৈতিক অবস্থান যাই হোক, সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে বলেই মনে করছে দলীয় নেতৃত্ব।

বিজেপির এই নতুন উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য হল, প্রতিটি সাংগঠনিক জেলায় নিজস্ব কার্যালয় গড়ে তুলে দলের দৈনন্দিন কাজকর্মকে আরও সুসংগঠিত করা। দলীয় বৈঠক, সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ, কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনার জন্য এই কার্যালয়গুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। আগামী দিনে নতুন ভবনগুলির নির্মাণ কত দ্রুত শেষ হয় এবং সেগুলি কী ভাবে সাংগঠনিক কাজে ব্যবহার করা হয়, এখন সে দিকেই নজর থাকবে।

Related posts

Leave a Comment