October 11, 2026
দেশ

নতুন ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার প্রকাশ রাজপুরোহিত

সংবাদ কলকাতা:— নির্বাচন কমিশনের নতুন ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ করা হল রাজস্থান ক্যাডারের ২০১০ ব্যাচের আইএএস আধিকারিক প্রকাশ রাজপুরোহিতকে। তিনি সঞ্জয় কুমারের জায়গায় দায়িত্ব নিতে চলেছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার নিয়োগ সংক্রান্ত কমিটি তাঁর নিয়োগে অনুমোদন দিয়েছে। প্রকাশের কার্যকালের মেয়াদ ২০৩০ সালের ৮ এপ্রিল পর্যন্ত বলে কেন্দ্রের কর্মিবর্গ ও প্রশিক্ষণ দফতরের নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ কাজকর্ম এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে যে আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তার মধ্যেই এই নিয়োগ বিশেষ তাৎপর্য পেয়েছে। কারণ, প্রাক্তন ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার সঞ্জয় কুমার কমিশনের ভোটার তালিকা ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্ব সামলাতেন। ২০২৪ সালের অগস্ট থেকে ২০২৬ সালের অগস্ট পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্বে ছিলেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত বছরের ২৪ জুন ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের নথিতে সঞ্জয় কুমারের সই ছিল। তবে তাঁর মেয়াদ সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই গত অগস্টে তাঁকে কমিশনের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এ বার তাঁর জায়গায় প্রকাশ রাজপুরোহিতকে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত হল।

তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্ব নিয়ে বিতর্ক

নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ কার্যপদ্ধতি নিয়ে সম্প্রতি একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, কমিশনের কাজের পদ্ধতি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট সচিবকে চিঠি পাঠিয়েছিলেন দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবিন্দর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী। কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের কাজকর্ম এবং দায়িত্ব বণ্টন নিয়েও আপত্তি তোলা হয়েছিল বলে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্ব থেকে সঞ্জয় কুমারকে সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েও আপত্তি ছিল সান্ধুর। একই সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের প্রধান সীমা খন্নার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এই অভিযোগ ও আপত্তির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বক্তব্য সমানভাবে প্রকাশ্যে এসেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

সীমা খন্না এর আগে ন্যাশনাল ইনফরমেটিক্স সেন্টার থেকে ডেপুটেশনে নির্বাচন কমিশনের কাজে যুক্ত হন। কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের প্রধান হিসেবে ভোটার তালিকা-সহ বিভিন্ন ডিজিটাল পরিকাঠামোর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব তাঁর হাতে রয়েছে।

ফাইল পাঠানোর পদ্ধতিতেও বদল

‘দ্য হিন্দু’-র একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, সঞ্জয় কুমার দায়িত্বে থাকাকালীন সীমা খন্নার ফাইলগুলি তাঁর মাধ্যমেই কমিশনারদের কাছে পাঠানো হত। পরে সীমা পদোন্নতি পাওয়ার পর এই পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেই সময়ে সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার মণীশ গর্গ একটি অভ্যন্তরীণ নির্দেশিকা জারি করেন। তাতে সীমার ফাইল সরাসরি নির্বাচন কমিশনারদের কাছে পাঠানোর কথা বলা হয়েছিল। যদিও ওই নির্দেশিকা বাস্তবে পুরোপুরি কার্যকর হয়নি বলে ‘দ্য হিন্দু’-র প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

সঞ্জয় কুমার দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার পরেও ফাইল পাঠানোর ক্ষেত্রে মণীশ গর্গের ভূমিকা বজায় ছিল বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি ‘লিঙ্ক অফিসার’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় সঞ্জয়ের অনুপস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাজের দায়িত্বও তাঁর উপর বর্তাত।

২০৩০ সাল পর্যন্ত দায়িত্বে প্রকাশ রাজপুরোহিত

শনিবার গভীর রাতে কেন্দ্রীয় কর্মিবর্গ ও প্রশিক্ষণ দফতরের প্রকাশিত নির্দেশিকায় প্রকাশ রাজপুরোহিতের নিয়োগের কথা জানানো হয়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার নিয়োগ সংক্রান্ত কমিটির অনুমোদনের ভিত্তিতে তাঁকে ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার পদে নিয়োগ করা হয়েছে।

ভোটার তালিকা সংশোধন, ডিজিটাল পরিকাঠামো পরিচালনা এবং নির্বাচন সংক্রান্ত প্রশাসনিক কাজের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই পরিস্থিতিতে নতুন ডেপুটি নির্বাচন কমিশনারের নিয়োগের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ কাজের পদ্ধতি নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলির দিকেও নজর থাকবে। তবে প্রকাশ রাজপুরোহিত দায়িত্ব নেওয়ার পর কমিশনের বিভাগীয় কাঠামো বা কাজের পদ্ধতিতে কোনও পরিবর্তন আসে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

Related posts

Leave a Comment