October 11, 2026
কলকাতা

শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে বেআইনি আটক নয়, দিল্লি পুলিশকে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের

সংবাদ কলকাতা:— শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের আইনসম্মত প্রক্রিয়া ছাড়া আটক করা যাবে না। দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে বিধিনিষেধ, গণপরিবহণ এবং ইন্টারনেট পরিষেবা নিয়ে শুনানিতে এমনই কড়া নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে দিল্লি মেট্রো ও রেল পরিষেবা স্বাভাবিক রাখা, আইন মেনে ইন্টারনেট সংযোগ চালু রাখা এবং সাধারণ মানুষের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

রবিবার, ১১ অক্টোবর বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি ভি মোহনার বিশেষ বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে আটক, যাতায়াতে বিধিনিষেধ এবং পরিবহণ পরিষেবা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিতর্কের মধ্যে আদালতের এই পর্যবেক্ষণ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৯ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া নির্দেশ অমান্য করা হয়েছে— এমন অভিযোগের ভিত্তিতে জরুরি শুনানি হয়। বিক্ষোভকারীদের আটক, ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা এবং মেট্রো ও রেল চলাচলে বিধিনিষেধ নিয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছিল।

মেট্রো, রেল ও ইন্টারনেট পরিষেবা স্বাভাবিক রাখার নির্দেশ

সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, জনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজনে আইনসম্মত বিধিনিষেধ আরোপ করা হলে তা কার্যকর হতে পারে। তবে প্রয়োজনীয় আইনি ভিত্তি ছাড়া মেট্রো ও রেল পরিষেবা ব্যাহত করা বা সাধারণ মানুষের চলাচলে বাধা দেওয়া যাবে না। আইন মেনে ইন্টারনেট পরিষেবাও অব্যাহত রাখতে হবে।

আদালত আরও স্পষ্ট করেছে, আইন নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ না করে কাউকে আটক করা যাবে না। বিশেষ করে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারার অধীনে জারি করা নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্র সমাবেশের ক্ষেত্রে এই নির্দেশ প্রযোজ্য হবে।

বিক্ষোভের অধিকার এবং জনশৃঙ্খলা বজায় রাখার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করার বিষয়টিও এই নির্দেশের কেন্দ্রে রয়েছে। আদালতের বক্তব্য অনুযায়ী, আইনসম্মত বিধিনিষেধের বাইরে গিয়ে সাধারণ মানুষের সাংবিধানিক অধিকার ও দৈনন্দিন চলাচল ব্যাহত করা উচিত নয়।

মেট্রোর ৪৫টি স্টেশনে বিধিনিষেধ নিয়ে প্রশ্ন

শুনানিতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা অভিযোগগুলি অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, শনিবার দিল্লি মেট্রো পরিষেবা স্বাভাবিকভাবেই চলেছে। তবে মেট্রোর মোট ৩০৩টি স্টেশনের মধ্যে ৪৫টিতে যাত্রীদের প্রবেশ ও প্রস্থানের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল বলে তিনি জানান।

এর পরেই সংশ্লিষ্ট স্টেশনগুলিতে কী ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল, তার বিস্তারিত তথ্য চায় সুপ্রিম কোর্ট। আদালত জানিয়েছে, দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশন, সংশ্লিষ্ট রেল কর্তৃপক্ষ এবং দিল্লি পুলিশকে গত ৯ অক্টোবরের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগের বিষয়ে জবাব দিতে হবে।

এই তিন কর্তৃপক্ষকে আদালত অবমাননার অভিযোগে নোটিসও দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবারের মধ্যে তাদের জবাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলাটি পরবর্তী শুনানির জন্য ১৩ অক্টোবর তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

আদালতে যাতায়াতে বাধা নয়

সুপ্রিম কোর্ট এবং দেশের অন্যান্য আদালতে বিচারপ্রার্থীদের যাতায়াত নিয়েও স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে বেঞ্চ। আদালত চত্বর ও তার আশপাশে এমন কোনও বিধিনিষেধ থাকা উচিত নয়, যার কারণে বিচারপ্রার্থী বা সাধারণ মানুষের মনে আদালতে প্রবেশ নিয়ে সংশয় বা ভীতি তৈরি হয়।

সেই কারণে সুপ্রিম কোর্ট ও অন্যান্য আদালতের আশপাশে জারি করা বিধিনিষেধমূলক নোটিস প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা এবং আদালতে অবাধ যাতায়াত বজায় রাখাই এই নির্দেশের মূল উদ্দেশ্য।

সব মিলিয়ে, দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পরিষেবা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ প্রশাসনের দায়িত্ব এবং নাগরিকদের অধিকার— দুই বিষয়েই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। তবে ৯ অক্টোবরের নির্দেশ অমান্য করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাব এবং পরবর্তী শুনানির পরই মামলার পরবর্তী গতিপ্রকৃতি আরও স্পষ্ট হবে।

Related posts

Leave a Comment