গোয়া: প্রবীণ অভিনেতা নানা পাটেকরের আকস্মিক প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ভারতীয় চলচ্চিত্রমহলে। বৃহস্পতিবার ভোরে গোয়ার ডোনা পাউলায় নিজের বাসভবনে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় ৭৫ বছর বয়সি অভিনেতাকে। হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসকেরা প্রায় ৪৫ মিনিট তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। পরে সকাল ৫টা ২০ মিনিট নাগাদ তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে তাঁর মৃত্যুর কারণ হিসেবে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের কথা জানানো হয়েছে।
নানা পাটেকরের প্রয়াণে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শোকবার্তায় তিনি জানান, ভারতীয় চলচ্চিত্রে নানা পাটেকরের মতো তীব্রতা, স্বাতন্ত্র্য এবং অনন্য উপস্থিতির অধিকারী অভিনেতা ছিলেন হাতে গোনা। প্রতিটি চরিত্রে নানা নিজের অভিনয় দক্ষতা, বৈচিত্র্য ও সৃজনশীলতার স্বাক্ষর রেখেছেন। তাঁর অভিনীত বহু চরিত্র আগামী প্রজন্মের দর্শকদের কাছেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
মোদির কথায়, ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রেও নানা ছিলেন অত্যন্ত স্পষ্ট ও অকপট। নিজের বিশ্বাসের কথা প্রকাশ করতে তিনি কখনও পিছপা হননি। হিন্দি ও মারাঠি চলচ্চিত্রে তাঁর অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মৃত্যু ভারতীয় চলচ্চিত্রজগতে এক গভীর শূন্যতা তৈরি করেছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরিবারের সদস্য, বন্ধু এবং অগণিত অনুরাগীর প্রতি সমবেদনা জানিয়ে ‘ওম শান্তি’ বলেন তিনি।
নানা পাটেকরের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তিনি লেখেন, নানা পাটেকরের আকস্মিক প্রয়াণের খবর শুনে তিনি গভীরভাবে শোকাহত। তাঁর মতে, ভারতীয় সিনেমা এক শক্তিশালী, সৎ এবং স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বরকে হারাল।
‘পরিন্দা’, ‘ক্রান্তিবীর’ এবং ‘প্রহার’-এর মতো ছবিতে নানা পাটেকরের অভিনয়ের পাশাপাশি ‘আব তক ছাপ্পান’-এ তাঁর দাপুটে উপস্থিতির কথাও স্মরণ করেন শুভেন্দু। তাঁর অভিনয়শৈলী এমন একটি মানদণ্ড তৈরি করেছিল, যা খুব কম অভিনেতাই ছুঁতে পেরেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পর্দার বাইরের নানা পাটেকরের ব্যক্তিত্বের কথাও তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সরলতা, বিনয় এবং সামাজিক কাজের পাশাপাশি গ্রামীণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টি উল্লেখ করে শুভেন্দু লেখেন, নানা পাটেকরের কণ্ঠ, তেজস্বী ব্যক্তিত্ব এবং দীর্ঘ অভিনয়জীবনের উত্তরাধিকার মানুষের মনে চিরকাল অমলিন থাকবে। তাঁর পরিবার, বন্ধু এবং দেশ-বিদেশের অগণিত অনুরাগীর প্রতি সমবেদনা জানান তিনি।
প্রায় পাঁচ দশকের অভিনয়জীবনে হিন্দি ও মারাঠি সিনেমায় একের পর এক স্মরণীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন নানা পাটেকর। ‘পরিন্দা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘অগ্নিসাক্ষী’, ‘খামোশি’, ‘আব তক ছাপ্পান’, ‘ওয়েলকাম’-এর মতো ছবিতে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মনে গভীর ছাপ ফেলেছে। মারাঠি সিনেমাতেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। অভিনয়ের পাশাপাশি সমাজসেবার ক্ষেত্রেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। তাঁর প্রয়াণে তাই শুধু চলচ্চিত্রমহল নয়, সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রেও শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।
previous post
