সংবাদ কলকাতা: প্রবীণ আইনজীবী তথা সিপিএমের প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠল। বৃহস্পতিবার ভোরে পূর্ব যাদবপুর থানা এলাকার তাঁর বাড়িতে মদের বোতল ছুড়ে জানলার কাচ ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। হামলাকারীরা তাঁকে গালিগালাজ করার পাশাপাশি হুমকিও দিয়েছে বলে জানিয়েছেন বিকাশ। ঘটনার জন্য তিনি ‘হিন্দুত্ববাদী গুন্ডাদের’ দায়ী করেছেন। ঘটনাটি নিয়ে থানায় অভিযোগও জানিয়েছেন তিনি।
বিকাশের দাবি, ভোর ৫টা নাগাদ প্রথমে এক ব্যক্তি স্কুটারে করে তাঁর বাড়ির সামনে আসেন। মুখ ঢেকে থাকা ওই ব্যক্তি বাড়ির কাচের জানলা লক্ষ্য করে একের পর এক মদের বোতল ছুড়তে থাকেন। তাঁর পিছনে আরও কয়েক জন ছিলেন বলেও দাবি করেছেন বিকাশ। হামলার সময় তাঁকে উদ্দেশ্য করে অশ্রাব্য গালিগালাজ করা হয় বলে অভিযোগ।
হামলার সময় বাড়িতে থাকা এক গৃহসহায়িকা অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন বলেও জানিয়েছেন বিকাশ। ঘটনার পর আতঙ্ক ছড়ায় বাড়িতে। পরে পুলিশ তাঁর বাড়িতে যায় এবং গোটা ঘটনার বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলে।
বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজে হামলার দৃশ্য ধরা পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, এক ব্যক্তি গামছায় মুখ ঢেকে বাইকে করে বাড়ির সামনে আসছেন। বাইক রেখে একটি ব্যাগ থেকে কাচের বোতল বার করে তিনি পর পর বাড়ির দিকে ছুড়ছেন। এরপর তাঁকে হুমকি দিতে শোনা যায় বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে ওই ফুটেজের সত্যতা স্বাধীন ভাবে যাচাই করা হয়নি।
ঘটনা নিয়ে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের অভিযোগ, রাজনৈতিক কারণে তাঁকে লক্ষ্য করেই এই হামলা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘হিন্দুত্ববাদীরা এসব করেছে। ওরা আমাকে নাকি শিক্ষা দেবে। এই ভাবে শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করছে।’ তাঁর আরও অভিযোগ, গরিব মানুষের হয়ে যাঁরা লড়াই করছেন, তাঁদেরই নিশানা করা হচ্ছে।
ঘটনার আগে সমাজমাধ্যমে বিজেপির এসসি মোর্চার রাজ্য সাধারণ সম্পাদক মদন রুইদাসের একটি পোস্টও সামনে এসেছে। শামিম আহমেদের উপর হামলার প্রসঙ্গে ওই পোস্টে বিকাশরঞ্জনকে উদ্দেশ করে হুঁশিয়ারিমূলক মন্তব্য করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। হামলার সঙ্গে ওই পোস্টের কোনও প্রত্যক্ষ যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এই ঘটনার পর আইনজীবী মহলেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আইনজীবী ফিরদৌস শামিম জানিয়েছেন, বিষয়টি কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের নজরে আনা হবে।
এর আগে পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি থেকে ফেরার পথে বামপন্থী আইনজীবী শামিম আহমেদ ও তাঁর সহযোগীদের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছিল। শামিমের দাবি ছিল, বেনাচাপাড়ায় ঘরছাড়া পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করে ফেরার সময় পুলিশের সামনেই তাঁদের গাড়িতে হামলা চালানো হয়। বাঁশ, শাবল ও লাঠি দিয়ে গাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি এক মহিলা আইনজীবীকে হেনস্থার অভিযোগও ওঠে।
এ ছাড়াও গত সেপ্টেম্বরে বারুইপুর আদালতে এসএফআই সমর্থকদের হয়ে সওয়াল করতে গিয়ে আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর ডিম ছোড়ার অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনার পর কলকাতা হাই কোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে জনস্বার্থ মামলা গ্রহণ করে। আদালতে আইনজীবীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করা হয়েছে।
সম্প্রতি ব্যাঙ্কশাল আদালতেও আইনজীবীদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের অভিযোগ সামনে আসে। এক ইউটিউবারকে আদালতে হাজির করানোর সময় তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার প্রতিবাদ করতে গিয়ে কয়েক জন আইনজীবী আক্রান্ত হন বলে অভিযোগ। চন্দননগর মহকুমা আদালতেও আইনজীবীদের নিগ্রহের অভিযোগ ঘিরে কর্মবিরতি হয়েছিল।
শামিম আহমেদের উপর হামলার প্রতিবাদে সমাজমাধ্যমে সরব হয়েছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে আইনজীবীদের ভয়মুক্ত পরিবেশে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন।
বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে হামলার ঘটনায় কারা জড়িত এবং হামলার পিছনে ঠিক কী কারণ রয়েছে, তা তদন্তেই স্পষ্ট হবে। পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে।
previous post
