33 C
Kolkata
October 6, 2026
রাজ্য

কড়া নিরাপত্তায় নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচন, সকাল থেকেই একাধিক অভিযোগ

কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সকাল ৭টা থেকে নন্দীগ্রাম (Nandigram) ও রেজিনগর (Rejinagar) বিধানসভা কেন্দ্রে শুরু হয়েছে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ (West Bengal By Election 2026)। দুই আসন বিধায়কশূন্য হয়ে যাওয়ার পর মঙ্গলবার সেখানে ভোট হচ্ছে। নন্দীগ্রাম আসন ছেড়ে ভবানীপুর আসন ধরে রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। অন্যদিকে নওদা আসন রেখে রেজিনগর আসন ছেড়েছেন হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)।

ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর থেকেই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযোগ আসতে শুরু করে। নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান (Milan Pradhan) অভিযোগ করেন, একাধিক বুথে কংগ্রেসের এজেন্টদের বসতে দেওয়া হচ্ছে না। বুথ পরিদর্শনে বেরিয়ে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের বিক্ষোভের মুখেও পড়েন তিনি।

নন্দীগ্রামের চক্রবেড়িয়ায় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে লাঠিচার্জের অভিযোগ তোলেন মিলন প্রধান। সরবেড়িয়ায় এক সিপিআই (CPI) এজেন্টকে মারধরের অভিযোগও সামনে আসে। আহত এজেন্টকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা যায়।

নন্দীগ্রাম ১ নম্বর ব্লকের কংগ্রেস সভাপতিকেও পুলিশ আটক করে। ভোটগ্রহণ চলাকালীন অশান্তি তৈরির অভিযোগে তাঁকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়।

অন্যদিকে খেজুরি সীমান্ত দিয়ে বাইকবাহিনী নন্দীগ্রামে ঢুকছে বলে অভিযোগ তোলে কংগ্রেস (Congress)। তেখালি সেতু সিল করার দাবিও জানানো হয়। নন্দীগ্রামের ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ তুলে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার (Shubhankar Sarkar) নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে অভিযোগ জানান।

তবে বিজেপি (Bharatiya Janata Party)-র নন্দীগ্রাম প্রার্থী হাসিরানি রথের (Hasirani Rath) দাবি, এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই ভোট হচ্ছে। সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিচ্ছেন বলেও দাবি করেন তিনি। বিরোধীদের একাধিক অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও দাবি করা হয় বিজেপির তরফে।

রেজিনগরেও ভোট শুরুর পর উত্তেজনা তৈরি হয়। আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীরকে (Humayun Kabir) পুলিশের সঙ্গে বচসার পর আটক করা হয়। পরে তাঁকে রেজিনগর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ভোটারদের প্রভাবিত করা এবং আইন ভাঙার অভিযোগে পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা যায়।

হুমায়ুন কবীর পুলিশি পদক্ষেপের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, ভোটারদের উপর চাপ তৈরি করা হচ্ছে। যদিও তাঁর অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

রেজিনগরের বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকারকেও (Shakharav Sarkar) একটি বুথে ঢুকতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে। বিজেপির আরও অভিযোগ, কিছু ভোটারকে ভোট দিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং আঙুলে কালি লাগিয়ে তাঁদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া এখনও সামনে আসেনি।

সকাল ৯টা পর্যন্ত পাওয়া ভোটের হিসাবে নন্দীগ্রামে ২০.৮৯ শতাংশ এবং রেজিনগরে ১৮.০৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। অর্থাৎ ভোট শুরুর প্রথম দুই ঘণ্টাতেই দুই কেন্দ্রে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

এর মধ্যেই প্রায় পৌনে ১২টা নাগাদ নন্দীগ্রামের নন্দনায়কবাড় বুথে ভোট দিতে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এই প্রথম ভোট দেওয়ার জন্য তাঁর ভোটদান ঘিরে এলাকায় আগ্রহ দেখা যায়। কনভয় থেকে নেমে টোটোয় করে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছন তিনি।

দুই কেন্দ্রেই নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশ। ভোটগ্রহণের সময় যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি রাখা হয়েছে। দিনের বাকি সময়ে ভোটগ্রহণ কতটা শান্তিপূর্ণ থাকে, এখন সেদিকেই নজর।

Related posts

Leave a Comment