বদলে গেল রাজনৈতিক পরিচয়
সংবাদ কলকাতা: রাজ্যসভা নির্বাচনের আগে বড় রাজনৈতিক পালাবদল। আনুষ্ঠানিক ভাবে বিজেপিতে যোগ দিলেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। রাজ্যসভা উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা হওয়ার একদিন পরেই সোমবার সকালে সল্টলেকে দলের রাজ্য দফতরে গিয়ে বিজেপির পতাকা হাতে তুলে নেন তিনি। পরে বিধানসভায় গিয়ে রাজ্যসভা উপনির্বাচনের মনোনয়নপত্রও জমা দেন কোয়েল।
সল্টলেকে বিজেপির রাজ্য দফতরে দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক শশী অগ্নিহোত্রী কোয়েলের গলায় উত্তরীয় পরিয়ে দেন এবং তাঁর হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপির মিডিয়া বিভাগের আহ্বায়ক অনুপম ঘোষ এবং সহ-আহ্বায়ক চন্দ্রশেখর বাসোটিয়া।
বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর নিজের রাজনৈতিক অবস্থান এবং লক্ষ্য স্পষ্ট করেন কোয়েল। তিনি বলেন, ‘বিগত কয়েক মাসে পশ্চিমবঙ্গে উন্নয়নযাত্রা চলছে। আমরা চাই পশ্চিমবঙ্গে আরও কাজ আসুক।’ রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তাঁর বক্তব্য, ‘পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নে যুক্ত হতে চাই।’

রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে তাঁকে মনোনীত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানান কোয়েল। এরপর বিধানসভায় গিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়-সহ দলের একাধিক নেতা।
তবে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরও পুরনো দল তৃণমূল কংগ্রেস সম্পর্কে কোনও বিরূপ মন্তব্য করেননি কোয়েল। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকটা দল নিজেদের মতো ভাল কাজ করার চেষ্টা করে। কাউকে ছোট না-করে বলতে পারি, আমি এমন একটা দলে যোগ দিতে পেরেছি, যারা উন্নয়নের কাজ শেষ কয়েক মাস ধরে ভাল করছে।’
সমাজমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে যাঁরা সমালোচনা করছেন, তাঁদের উদ্দেশেও শান্তির বার্তা দেন অভিনেত্রী। তাঁদের ক্ষমা করে দেওয়ার কথা জানান তিনি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সকলের জন্য কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করে কোয়েল বলেন, ‘সবার জন্য কাজ করতে চাই, সবার মঙ্গল কামনা করি।’

তবে কোয়েলের রাজনৈতিক যাত্রা একেবারে নতুন নয়। এর আগে রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফেও তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। গত ফেব্রুয়ারিতে রাজীব কুমার, বাবুল সুপ্রিয় এবং মেনকা গুরুস্বামীর সঙ্গে রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে কোয়েলের নাম ঘোষণা করেছিল তৃণমূল। গত মার্চে ভোট হওয়ার পর ৬ এপ্রিল রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে শপথ নেন তিনি। যদিও এরপর কোনও সংসদীয় অধিবেশনে যোগ দেননি।
বাদল অধিবেশন শুরুর আগে গত ১৬ জুলাই রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেন কোয়েল। তাঁর পদত্যাগের পর থেকেই তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল।
এর আগে তৃণমূলের তিন সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইকও রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। পরে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁদের রাজ্যসভা উপনির্বাচনে প্রার্থী করা হয় এবং পরবর্তীতে তাঁরা ফের রাজ্যসভায় যান।

কোয়েলের বিজেপিতে যোগদানের জল্পনা অবশ্য আরও আগে থেকেই শুরু হয়েছিল। রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পরপরই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে দেখা করেছিলেন অভিনেত্রী। সেই সাক্ষাৎ ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়। কারণ সেই সময় তৃণমূলের কয়েক জন ‘বিদ্রোহী’ সাংসদও ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছিলেন।
শেষ পর্যন্ত সেই জল্পনাই সত্যি হল। রাজ্যসভায় বিজেপির প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার পরদিনই আনুষ্ঠানিক ভাবে গেরুয়া শিবিরে যোগ দিলেন কোয়েল মল্লিক। এখন তাঁর সামনে নতুন রাজনৈতিক দায়িত্ব। রাজ্যসভার উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে সংসদে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের পক্ষে কাজ করার প্রতিশ্রুতিই দিয়েছেন তিনি।
