সংবাদ কলকাতা:— বৃষ্টি থামিয়ে শেষ পর্যন্ত এশিয়ান গেমসে ছন্দে ফিরল ভারত। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনাল বৃষ্টিতে ভেস্তে যাওয়ার পর দীর্ঘ অপেক্ষা এবং অনুশীলনে বাধার ধাক্কা সামলে শ্রীলঙ্কাকে ১২৪ রানে উড়িয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিল ভারতীয় ক্রিকেট দল। সোনার পদকের লড়াইয়ে এ বার সামনে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান। তার আগে সতীর্থদের নিজেদের সেরা ক্রিকেট খেলার বার্তা দিয়েছেন অলরাউন্ডার অক্ষর পটেল।
শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ১৬৯/৭ রান তোলে ভারত। কঠিন এবং ঘূর্ণি সহায়ক পিচে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন ইশান কিষাণ। ৪৬ বলে অপরাজিত ৮০ রান করে ভারতকে লড়াইয়ের জায়গায় পৌঁছে দেন তিনি। অন্য দিকে বৈভব সূর্যবংশীর ২১ বলে ৩৮ রানের ঝোড়ো ইনিংস ভারতের রান বাড়িয়ে দেয়।
জবাবে ভারতের বোলিংয়ের সামনে কার্যত দাঁড়াতেই পারেনি শ্রীলঙ্কা। মাত্র ৯.৫ ওভারে ৪৫ রানে অলআউট হয়ে যায় তারা। জসপ্রীত বুমরাহ এবং অক্ষর পটেল দু’টি করে উইকেট নেন। ভারতীয় বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের পাশাপাশি দুর্দান্ত ফিল্ডিংও ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেয়। শ্রীলঙ্কার ইনিংসে দুটি রানআউটও হয়।

ম্যাচের পর অক্ষর বলেন, ‘জিততে হলে আমাদের ব্যাটিং এবং বোলিং— দু’দিকেই ভাল পারফর্ম করতে হবে। আমরা কয়েক দিন ধরে অপেক্ষা করছিলাম। চারপাশে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছিল। এত দিন খেলার বাইরে থাকার পর এ ভাবে নিজেদের মানসিক ভাবে তৈরি করে মাঠে নেমে পারফর্ম করা সত্যিই প্রশংসনীয়।’
প্রথম ওভারেই বুমরাহর জোড়া ধাক্কা
দীর্ঘ বিরতির পর সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ সেমিফাইনালে নামতে হয়েছিল ভারতকে। কিন্তু মাঠে নামার পর তার কোনও প্রভাব দেখা যায়নি। বরং শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে ছিলেন ভারতীয় বোলাররা।
প্রথম ওভারেই জোড়া উইকেট তুলে নিয়ে শ্রীলঙ্কার টপ অর্ডারকে চাপে ফেলে দেন বুমরাহ। পরে অক্ষরও পর পর আঘাত করেন। পিচে অস্বাভাবিক বাউন্স এবং ঘূর্ণির সুবিধা কাজে লাগিয়ে ভারতীয় বোলাররা শ্রীলঙ্কার ব্যাটারদের একেবারেই স্বস্তিতে খেলতে দেননি।
মাত্র ৪৫ রানে শ্রীলঙ্কার ইনিংস শেষ হওয়ার পিছনে বোলারদের পাশাপাশি ফিল্ডারদের ভূমিকাও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। দুটি রানআউট ভারতের ফিল্ডিংয়ের আগ্রাসন এবং সতর্কতার প্রমাণ হয়ে ওঠে।
ইশান-বৈভবের ব্যাটে বড় রান
এর আগে ভারতের ইনিংসের মূল ভিত গড়ে দেন ইশান কিষাণ। কঠিন পিচে শুরুতে ঝুঁকি কম নিয়ে খেললেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে স্পিনারদের বিরুদ্ধে আক্রমণ বাড়ান তিনি। শেষ পর্যন্ত ৪৬ বলে অপরাজিত ৮০ রান করে দলকে বড় স্কোরে পৌঁছে দেন।
তাঁকে ভাল সঙ্গ দেন বৈভব সূর্যবংশী। মাত্র ২১ বলে ৩৮ রান করে ভারতের রান তোলার গতি বাড়িয়ে দেন তিনি। অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার এবং অক্ষর দ্রুত ফিরে গেলেও শেষ দিকে দায়িত্ব নিয়ে ইনিংস শেষ করেন ইশান।

ফাইনালে ফের ভারত-পাকিস্তান
প্রথম সেমিফাইনালে বৃষ্টিবিঘ্নিত ১৩ ওভারের ম্যাচে বাংলাদেশকে ছয় উইকেটে হারিয়ে আগেই ফাইনালে পৌঁছে গিয়েছিল পাকিস্তান। ফলে এশিয়ান গেমসের সোনার পদকের লড়াইয়ে আবারও মুখোমুখি হতে চলেছে ভারত ও পাকিস্তান।
তবে ফাইনালের আগে প্রতিপক্ষের নাম নিয়ে না ভেবে নিজেদের ক্রিকেটের উপরই জোর দিচ্ছেন অক্ষর। তাঁর বার্তা স্পষ্ট— ব্যাট হাতে বড় রান তুলতে হবে, বল হাতে নিয়মিত উইকেট নিতে হবে। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে যে পারফরম্যান্স করেছে ভারত, পাকিস্তানের বিরুদ্ধেও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলেই সোনার স্বপ্ন পূরণের রাস্তা তৈরি হবে।
