৩৪ হাজার ফুট থেকে হু-হু করে নামল বিমান
তাবুক: মাঝ আকাশে ককপিটের ভিতরে দুই পাইলটের সংঘর্ষ। অভিযোগ, সহ-পাইলট ছুরি নিয়ে ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের (Smit Machchhar) উপর হামলা করেন। সেই সময় বিমানটি প্রায় ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় ছিল। হামলার পর বিমানটি আচমকা দ্রুত নীচে নামতে শুরু করে। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে উচ্চতা প্রায় ১৭ হাজার ফুটে নেমে আসায় যাত্রীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
দুবাই থেকে তেল আবিবের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল ফ্লাইদুবাইয়ের (Flydubai) এফজেড ১০৭৩ (FZ1073) বিমান। বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ৪৯ মিনিটে উড়েছিল বিমানটি। প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর্যন্ত সব কিছু স্বাভাবিকই ছিল। কিন্তু ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় পৌঁছনোর পর ককপিটের ভিতরে আচমকাই দুই পাইলটের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়।
অভিযোগ, সেই সময় সহ-পাইলট ছুরি নিয়ে ক্যাপ্টেন স্মিতকে আক্রমণ করেন। মাথা, হাত এবং পেটে আঘাত পান ক্যাপ্টেন। রক্তাক্ত অবস্থাতেও তিনি লড়াই চালিয়ে যান। একই সময়ে বিমানের নিয়ন্ত্রণে সমস্যা তৈরি হয়। বিমান দ্রুত নীচের দিকে নামতে থাকায় যাত্রীদের মধ্যে চিৎকার শুরু হয়ে যায়।

ককপিটের ভিতর থেকে চিৎকারের শব্দও শুনতে পান যাত্রীরা। কিছু সময় পর ককপিটের দরজা খুলে যায়। তখন কেবিন ক্রু এবং যাত্রীরা দেখতে পান, ক্যাপ্টেন স্মিত রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন। অন্য দিকে, সহ-পাইলটের হাতে ছুরি ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি।
পরিস্থিতি বুঝতে পেরে কয়েক জন যাত্রী এবং বিমানে থাকা অন্য পাইলটেরা ককপিটে ঢুকে পড়েন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ইজরায়েলি যাত্রী ইয়ানিভ হায়ুন (Yaniv Hayun)। তাঁর দাবি, তিনি সহ-পাইলটকে ধরে ককপিটের বাইরে নিয়ে আসতে সাহায্য করেন। অন্য যাত্রীরাও অভিযুক্তকে দূরে সরিয়ে দেন।
ততক্ষণে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল বিমানের নিয়ন্ত্রণ ফেরানো। বিমানে ফ্লাইদুবাইয়ের আরও কয়েক জন পাইলট যাত্রী হিসেবে ছিলেন। তাঁরাই দ্রুত ককপিটের দায়িত্ব নেন। তাঁদের চেষ্টায় বিমানটির নিয়ন্ত্রণ ফেরানো সম্ভব হয়।
এর পর বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুক (Tabuk) শহরের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে বিমানটি। আহত ক্যাপ্টেন স্মিতকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। সহ-পাইলটকেও হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ককপিটে সহ-পাইলট কেন ছুরি নিয়ে হামলা চালালেন, তাঁর উদ্দেশ্য কী ছিল এবং বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল কি না—এই সব প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি। ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

বাণিজ্যিক বিমানের ককপিটে একাধিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে। ককপিটের দরজা অত্যন্ত সুরক্ষিত রাখা হয় এবং বাইরে থেকে অননুমোদিত প্রবেশ ঠেকানোর বিশেষ ব্যবস্থা থাকে। সেই নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেই কী ভাবে এই ঘটনা ঘটল, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তদন্ত শেষ হওয়ার আগে হামলার উদ্দেশ্য বা ঘটনার নেপথ্যে কোনও নির্দিষ্ট কারণ রয়েছে কি না, তা নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো হয়নি। তবে গুরুতর আহত অবস্থাতেও ক্যাপ্টেনের লড়াই এবং বিমানে থাকা অন্য পাইলটদের দ্রুত দায়িত্ব নেওয়ার ফলে শেষ পর্যন্ত বিমানটি নিরাপদে মাটিতে নামানো সম্ভব হয়েছে।
