জন্মের আগেই মাধ্যমিক পাশ?
সংবাদ কলকাতা: নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনের বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের নির্বাচনী হলফনামা নিয়ে কংগ্রেসের দায়ের করা মামলা খারিজ করে দিল কলকাতা হাই কোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে। শুক্রবার মামলার শুনানি শেষ হওয়ার পর রায়দান স্থগিত রেখেছিল আদালত। মঙ্গলবার সেই মামলার নিষ্পত্তি হল।
হাসিরানির হলফনামায় বয়স এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল কংগ্রেস। তাদের অভিযোগ ছিল, নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া নথিতে হাসিরানি ১৯৬৫ সালে মাধ্যমিক পাশ করেছেন বলে উল্লেখ করেছেন। আবার হলফনামায় তাঁর বয়স ৬০ বছরের বেশি বলে জানানো হয়েছে। কংগ্রেসের বক্তব্য ছিল, ওই তথ্য অনুযায়ী তাঁর জন্ম ১৯৬৬ সালের কাছাকাছি হলে ১৯৬৫ সালে কী ভাবে তিনি মাধ্যমিক পাশ করলেন, সেই প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন।
এই তথ্যের ভিত্তিতেই হাসিরানির মনোনয়ন বাতিলের আবেদন জানিয়েছিল কংগ্রেস। মামলাকারীদের বক্তব্য ছিল, তথ্য দু’টি একসঙ্গে সত্য হতে পারে না। হয় বয়সের তথ্য ভুল, নয়তো মাধ্যমিক পাশের নথি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছিল।
মামলাটি ঘিরে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য ছিল, কোনও প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়ে তাঁর নথি যাচাই করা হয়। সেই যাচাইয়ের সময় কোনও আপত্তি থাকলে তা রিটার্নিং অফিসারের সামনে জানানো যেতে পারে। কমিশনের আইনজীবীর বক্তব্য ছিল, সেই পর্যায় পেরিয়ে যাওয়ার পরে এই ধরনের আপত্তি তোলার ক্ষেত্রে মামলাকারীর আইনি অধিকার নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
কমিশনের তরফে আরও বলা হয়, হলফনামায় কোনও তথ্য ভুল থাকলেও শুধু সেই অভিযোগের ভিত্তিতে মনোনয়ন বাতিল করা যায় না। অন্য দিকে হাসিরানির আইনজীবী জয়দীপ কর আদালতে দাবি করেন, নির্দিষ্ট সময়ে কোনও আপত্তি জানানো হয়নি। ফলে এখন ওই ভিত্তিতে প্রার্থীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা উচিত নয়। তাঁর বক্তব্য ছিল, যদি কোনও ভুল থেকেও থাকে, তা ইচ্ছাকৃত নয় এবং প্রার্থীকে সেই সুযোগ দেওয়া উচিত।
মামলার শুনানির সময় স্কুলের নথি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। কংগ্রেসের তরফে বলা হয়েছিল, হাসিরানি চৌখালি গঙ্গাখালি বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাশ করেছেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। ওই স্কুলের মাধ্যমিক স্তরে পড়ানোর অনুমোদনের সময় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিল তারা। তবে আদালতের মঙ্গলবারের মামলাখারিজের নির্দেশের বিস্তারিত কারণ এখনও প্রকাশিত হয়নি।
নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন হবে আগামী ৬ অক্টোবর। ভোটের ফল প্রকাশিত হবে ৯ অক্টোবর। বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম থেকে জয়ী শুভেন্দু অধিকারী অন্য একটি কেন্দ্র থেকেও জয়ী হওয়ায় নন্দীগ্রাম আসনটি খালি হয়। সেই কারণেই এই উপনির্বাচন হচ্ছে। বিজেপি হাসিরানি রথকে প্রার্থী করেছে।
নন্দীগ্রামের নির্বাচনী লড়াইয়ে কংগ্রেসের প্রার্থী মিলন প্রধানও রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে পুরনো মামলার জেরে গ্রেপ্তারির ঘটনা নিয়ে আলাদা আইনি প্রক্রিয়া চলছে। ফলে ভোটের আগে নন্দীগ্রামে প্রার্থীদের ঘিরে একাধিক আইনি বিষয় ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে।
মঙ্গলবারের হাই কোর্টের নির্দেশে আপাতত হাসিরানি রথের প্রার্থীপদ নিয়ে কংগ্রেসের এই মামলা খারিজ হয়েছে। তবে হলফনামায় উল্লেখ করা বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য বাস্তবে সঠিক কি না, সে বিষয়ে আদালতের বিস্তারিত লিখিত নির্দেশ প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সুযোগ নেই।
