27 C
Kolkata
September 22, 2026
রাজ্য

এফআইআর খারিজের আর্জিও খারিজ, টুলুর স্বস্তি নেই

সংবাদ কলকাতা: কলকাতা হাই কোর্টে ফের ধাক্কা খেলেন বীরভূমের পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডল। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর খারিজের আবেদন গ্রহণ করল না আদালত। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ টুলুর আর্জি খারিজ করে জানিয়েছে, নিম্ন আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তাঁকে হাজিরা দিতে হবে।

টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে মহম্মদবাজার থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। সেই এফআইআরে একাধিক গুরুতর ধারার পাশাপাশি ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১১১ নম্বর ধারায় সংগঠিত অপরাধের অভিযোগও আনা হয়েছে। টুলুর আইনজীবীর বক্তব্য ছিল, পুলিশি অভিযানের পর তাঁর বিরুদ্ধে যে এফআইআর করা হয়েছে, তার আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একই সঙ্গে ১১১ ধারা প্রয়োগের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হয়নি বলে আদালতে দাবি করা হয়।


রাজ্যের তরফে অবশ্য সেই দাবি খারিজ করা হয়। আদালতে রাজ্য জানায়, তদন্তে প্রাথমিক ভাবে টুলুর বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তি পাওয়া গিয়েছে। পাশাপাশি তদন্তকারী সংস্থা জানতে পারে, গত ২৩ মে তিনি দেশ ছেড়েছেন। সেই কারণেই তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পরোয়ানা জারি করা হয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়। রাজ্যের পক্ষ থেকে টুলুর বিরুদ্ধে তদন্তে হস্তক্ষেপ না করার আর্জিও জানানো হয়।

এর আগে টুলুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। সিউড়ির অতিরিক্ত মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত তাঁকে হাজির হওয়ার নির্দেশও দিয়েছিল। কিন্তু তিনি হাজির হননি। পরে তাঁর বিরুদ্ধে রেড কর্নার নোটিস জারির কথাও আদালতে জানানো হয়। সিউড়িতে টুলুর বাড়ি ‘দলিলা ভবন’-এ হুলিয়া সাঁটানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলেও জানা যায়।

টুলুর আইনজীবী সিদ্ধার্থ দাভে আদালতে প্রশ্ন তোলেন, কোনও অভিযুক্তকে যথেষ্ট সুযোগ না দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা যায় কি না। তিনি আরও জানান, নিম্ন আদালতে হাজিরা দিতে টুলুর আপত্তি নেই। তবে তাঁর বিরুদ্ধে যাতে তাৎক্ষণিক কোনও কঠোর পদক্ষেপ না করা হয়, সেই রক্ষাকবচ চাওয়া হয়েছিল।অন্য দিকে, রাজ্যের তরফে সিল করা খামে আদালতে একটি রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়।

রাজ্যের বক্তব্য, টুলু দেশের বাইরে রয়েছেন এবং তাঁকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি তা পালন করেননি। এই পরিস্থিতিতে তদন্তের স্বার্থে আদালতের হস্তক্ষেপ না করার আবেদন জানানো হয়।

এই মামলার সূত্রপাত বীরভূমের মহম্মদবাজারের ডেউচা এলাকায় টুলুর আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়িতে পুলিশি তল্লাশিকে কেন্দ্র করে। সেখানে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও সোনা উদ্ধার হওয়ার পর তদন্তের পরিধি বাড়ে। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, প্রায় ২৮.৫ কোটি টাকা নগদ এবং ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার হয়েছিল। ওই সম্পত্তির সঙ্গে টুলুর যোগ রয়েছে কি না, তা-ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ, তদন্তকারী সংস্থার কাছে টুলু বিদেশে চলে গিয়েছেন—এমন স্পষ্ট তথ্য রয়েছে। তাই নিম্ন আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তাঁর হাজির হওয়া উচিত। হাজিরার পর যদি কোনও কঠোর পদক্ষেপ করা হয়, সে ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী জামিন-সহ অন্যান্য আইনি পথ খোলা থাকবে। এই অবস্থান জানিয়ে টুলুর আবেদন খারিজ করে দেয় আদালত।

ফলে আপাতত টুলুর বিরুদ্ধে চলা তদন্তে কোনও হস্তক্ষেপ করল না কলকাতা হাই কোর্ট। পাশাপাশি এফআইআর বাতিলের আবেদনও খারিজ হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে চলা আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকছে।

Related posts

Leave a Comment