সংবাদ কলকাতা: বাংলায় নতুন শিল্প ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা নিয়ে মুম্বইয়ে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানির সঙ্গে বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার মুম্বইয়ে আম্বানির বাসভবন ‘অ্যান্টিলিয়া’-য় এই সাক্ষাৎ হয়। মঙ্গলবার সমাজমাধ্যমে সেই বৈঠকের কথা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পশ্চিমবঙ্গে শিল্পের সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থানের বিপুল সম্ভাবনা নিয়ে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
শুভেন্দুর এই মুম্বই সফরের মূল লক্ষ্য ছিল বাংলায় নতুন বিনিয়োগ টানা এবং রাজ্যে রিলায়েন্স গোষ্ঠীর ব্যবসার আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা। রিলায়েন্সের এক মুখপাত্রও বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ সরকার বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলিকে বিনিয়োগে আগ্রহী করতে এবং রাজ্যে শিল্প সম্প্রসারণের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির বিষয়ে নিজেদের আগ্রহের কথা জানিয়েছে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বৈঠক চলে বলে জানা গিয়েছে।
এর আগে ১১ সেপ্টেম্বর শুভেন্দু জানিয়েছিলেন, মুম্বই গিয়ে মুকেশ আম্বানির সঙ্গে দেখা করবেন তিনি। সেই সময়ই মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, বাংলায় বিনিয়োগের জন্য বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলির অংশগ্রহণ প্রয়োজন। আম্বানি-পুত্র অনন্ত আম্বানির আমন্ত্রণেই পরিবারের গণেশপুজোয় যোগ দিতে মুম্বই যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন তিনি।

সোমবারের সাক্ষাতের আগে অম্বানিদের গণেশপুজোয় অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী। মঙ্গলবারের সমাজমাধ্যমের বার্তায় তিনি জানান, দেশের শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির জন্য গণেশের কাছে প্রার্থনা করেছেন। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্য ও ধর্মীয় আবেগের প্রতীক হিসেবে আম্বানি পরিবারকে মা কালীর একটি বিশেষ স্মারক উপহার দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
বৈঠকে বাংলায় শিল্পের প্রসার এবং কর্মসংস্থান তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যের তরুণদের জন্য আরও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গতি দিতে বড় বিনিয়োগকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত রাজ্য সরকার।
রিলায়েন্সের পক্ষ থেকে বাংলায় সম্ভাব্য বিনিয়োগের নির্দিষ্ট অঙ্ক বা কোনও নতুন প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অবশ্য এখনও হয়নি। তবে সূত্রের খবর, রাজ্যে রিলায়েন্সের বর্তমান ব্যবসা সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
এর আগে রিলায়েন্সকে নিউ টাউনের বেঙ্গল সিলিকন ভ্যালি হাবে ডেটা সেন্টারের জন্য জমি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যে সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্প নিয়েও মুখ্যমন্ত্রী এর আগে আগ্রহের কথা জানিয়েছিলেন। নতুন বৈঠকে তথ্যপ্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর, বায়োগ্যাস-সহ একাধিক ক্ষেত্রে রিলায়েন্সের ব্যবসা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা আলোচনায় এসেছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রিলায়েন্সের পাশাপাশি রাজ্যের শিল্পবিনিয়োগ বাড়াতে অন্যান্য বড় শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গেও যোগাযোগ করছে সরকার। সম্প্রতি আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান কুমার মঙ্গলম বিড়লার সঙ্গেও রাজ্যের শিল্পবিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তবে আম্বানি পরিবারের পক্ষ থেকে এই বৈঠক নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের বাইরে পৃথক কোনও বিস্তারিত ঘোষণা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে আলোচনার পর বাংলায় ঠিক কী ধরনের নতুন প্রকল্প বা বিনিয়োগ আসে, এখন সেদিকেই নজর শিল্পমহলের।
