34 C
Kolkata
September 21, 2026
রাজ্য

মৎস্যখাতে কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয়ের বার্তা শুভেন্দুর

সংবাদ কলকাতা: রাজ্যের মৎস্যখাতকে আরও শক্তিশালী করে স্বনির্ভর করার লক্ষ্যে কেন্দ্রের সঙ্গে পূর্ণ সমন্বয়ের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার নিউটাউনে কেন্দ্রীয় মৎস্য, পশুপালন ও ডেয়ারি মন্ত্রী রাজীব রঞ্জন সিংয়ের সঙ্গে প্রায় দেড় ঘণ্টার পর্যালোচনা বৈঠকের পর মৎস্যখাতের উন্নয়নে একাধিক পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। বৈঠকের পর রাজ্যকে কেন্দ্রের তরফে প্রায় ৯ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তার কথা জানানো হয়।

কেন্দ্রীয় মৎস্য দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, এক দশকেরও বেশি সময় পর পশ্চিমবঙ্গে মৎস্য ও মৎস্যচাষের উন্নয়ন নিয়ে এই ধরনের শীর্ষস্তরের পর্যালোচনা বৈঠক হল। উৎপাদন বৃদ্ধি, মৎস্যচাষের সম্প্রসারণ, পরিকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তির ব্যবহার, বাজারের সঙ্গে সংযোগ এবং গোটা মৎস্যমূল্য শৃঙ্খলকে শক্তিশালী করার জন্য আগামী দিনের রূপরেখা তৈরিই ছিল বৈঠকের মূল লক্ষ্য।

বৈঠক শেষে শুভেন্দু জানান, বঙ্গোপসাগর ও সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ উপকূল, নোনা জলের মাছ চাষের এলাকা এবং দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের মতো পাহাড়ি অঞ্চলে ঠান্ডা জলের মাছ চাষ— প্রতিটি ক্ষেত্রের সম্ভাবনাকে আলাদা করে কাজে লাগানো হবে। মৎস্যজীবীদের দ্রুত কিষান ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ঋণের আওতায় আনা, ‘প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা’র সুবিধা আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং আটকে থাকা পরিকাঠামোগত প্রকল্প দ্রুত শেষ করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।


মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, গত কয়েক মাসে রাজ্যে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নে গতি এসেছে। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকার রাজনৈতিক কারণে একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা নেয়নি। তাঁর কথায়, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত চার মাসে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। মৎস্য দপ্তরের পোর্টালে প্রায় ২ লক্ষ ৮০ হাজার আবেদন জমা পড়েছে এবং প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার মৎস্যজীবীর নাম নথিভুক্তির কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

রাজ্যের মৎস্যখাতের বিপুল সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন শুভেন্দু। হায়দরাবাদের এক তরুণ উদ্যোক্তার উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদিত মাছ দেশের বিভিন্ন বড় শহরের পাঁচতারা ও সাততারা হোটেলে সরবরাহ করা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের দীর্ঘ উপকূলরেখা, অসংখ্য নদী এবং জলাশয়ের কারণে এ রাজ্যেও একই ধরনের আধুনিক মৎস্যচাষ ও বাজার তৈরির যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

শুধু উপকূল নয়, অপেক্ষাকৃত শুষ্ক জেলাগুলিতেও মৎস্যচাষ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। শুভেন্দুর দাবি, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ায় মৎস্যচাষ এবং জলসংরক্ষণের জন্য কেন্দ্রের তরফে ছয়টি ‘অমৃত সরোবর’ তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। জলসংরক্ষণের পাশাপাশি ওই জলাশয়গুলিকে মৎস্যচাষের কাজে ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে।

কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের উপর জোর দিয়ে রাজীব রঞ্জন সিংকে ‘বড় ভাই’ বলে সম্বোধন করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিনের কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের কারণে বাংলার উন্নয়ন ব্যাহত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ২০৪৭ সালের ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্য সামনে রেখে কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে পশ্চিমবঙ্গকে মৎস্যখাতেও স্বনির্ভর করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে পশ্চিমবঙ্গে ২৫.৪৩ লক্ষ টন মাছ উৎপাদন হয়েছে। বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৬১৭ কোটি টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে উৎপাদন প্রযুক্তি, উৎপাদন-পরবর্তী পরিকাঠামো, প্রক্রিয়াকরণ এবং প্রশিক্ষণ পরিকাঠামো শক্তিশালী করা হয়েছে। রাজ্যে ৩০ লক্ষেরও বেশি মৎস্যজীবীর জীবিকার সঙ্গে এই ক্ষেত্র যুক্ত।

কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে ইতিমধ্যেই ৩৪টি মৎস্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াকরণ ক্লাস্টার চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে পূর্ব মেদিনীপুরে শুকনো মাছের ক্লাস্টারও রয়েছে। মৎস্যজীবী উৎপাদক সংগঠন ও সমবায়কে শক্তিশালী করার পাশাপাশি মৎস্যখাতে ডিজিটাল ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ানোর উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।


ফলে মৎস্য উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি মৎস্যজীবীদের আয়, পরিকাঠামো, প্রশিক্ষণ, সংরক্ষণ এবং বাজার ব্যবস্থাকে একসঙ্গে শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়েই কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের এই নতুন উদ্যোগ।

Related posts

Leave a Comment