31 C
Kolkata
September 19, 2026
রাজ্য

‘ফুটবল প্রতীক দিয়ে প্রথমেই ফাউল’, মমতাকে কটাক্ষ শিশির অধিকারীর

নিজস্ব সংবাদদাতা, কাঁথি— নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন ঘিরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করলেন কাঁথির প্রাক্তন সাংসদ শিশির অধিকারী। মমতাপন্থী তৃণমূল কংগ্রেসের নতুন প্রতীক ‘ফুটবল’ নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘ফুটবল প্রতীক দিয়েছেন। কিন্তু, প্রথমেই ফাউল করেছেন। অলরেডি লাল কার্ডের কাছে পৌঁছে গিয়েছেন। লাল কার্ড দেখে বাইরে চলে যেতে হবে।’ নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থীর বড় জয়ের আশা প্রকাশও করেন তিনি।

নন্দীগ্রাম ও সিঙ্গুরের জমি আন্দোলনের প্রসঙ্গও ওঠে শিশিরের কথায়। তাঁর দাবি, বাংলার ভূমি আন্দোলনের ইতিহাসে প্রথমে সিপিএম নেতা ইএমএস নাম্বুদিরিপাদ, দ্বিতীয় হরেকৃষ্ণ কোঙার এবং তৃতীয় শুভেন্দু অধিকারীর নাম থাকবে। তাঁর বক্তব্য, এই তালিকায় চতুর্থ কোনও নামের প্রশ্ন নেই। উল্লেখযোগ্য ভাবে, এই প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম করেননি শিশির।

নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মমতার প্রার্থী সঞ্চিতা দে প্রধান মনোনয়ন প্রত্যাহার করার পর এই সিদ্ধান্তের কথা জানান মমতা।


গ্রেসকে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নিয়েও কটাক্ষ করেন শিশির। তাঁর বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসের ‘শেষ দৃশ্যের শেষ অভিনয়’ চলছে এবং এই পরিস্থিতিতে দলটি খড়কুটোর মতো কিছু ধরে টিকে থাকার চেষ্টা করছে। নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের গ্রেপ্তারি নিয়েও রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভাবে ফের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্ন করা হয় শিশিরকে। জবাবে তিনি সেই সম্ভাবনাকে ‘অবাস্তব’ এবং ‘কল্পনাতীত’ বলে মন্তব্য করেন। তবে এটি তাঁর রাজনৈতিক মতামত এবং কোনও নির্বাচনী ফলাফলের পূর্বাভাস নয়।

শিশিরের মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। তাঁর দাবি, নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলন যে জায়গায় পৌঁছেছিল, তার পিছনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তাঁর বক্তব্য, ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম গুলিকাণ্ডের পর মমতাই বাধা অতিক্রম করে এলাকায় পৌঁছেছিলেন এবং আন্দোলনকে বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিসরে নিয়ে গিয়েছিলেন।


সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ অবশ্য শিশিরের মন্তব্যকে ‘সন্তানস্নেহ’-এর প্রকাশ বলে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, বাবা তাঁর সন্তানকে নিয়ে আবেগ থেকে মন্তব্য করতেই পারেন। তবে একই সঙ্গে তিনি হরেকৃষ্ণ কোঙারের জমি আন্দোলনের সঙ্গে নন্দীগ্রামের আন্দোলনের তুলনা টেনে দুই আন্দোলনের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের আগে তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের পর থেকেই রাজনৈতিক উত্তাপ বেড়েছে। মমতাপন্থী শিবির নতুন নাম ও প্রতীক পাওয়ার পর সঞ্চিতা দে প্রধানও মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেছেন।

Related posts

Leave a Comment