28 C
Kolkata
September 18, 2026
রাজ্য

শুভেন্দুর সঙ্গে সাক্ষাতের পরই সঞ্চিতার মনোনয়ন প্রত্যাহার

নিজস্ব সংবাদদাতা, নন্দীগ্রাম— নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিলেন। শুক্রবার হলদিয়ার মহকুমাশাসকের দপ্তরে গিয়ে নিজের প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করেন তিনি। তার আগের দিনই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়েছিল। পর পর এই দুই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে কেন তিনি প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করলেন, সে বিষয়ে সঞ্চিতার তরফে এখনও কোনও স্পষ্ট কারণ জানানো হয়নি।


নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে মমতা শিবিরের হয়ে সঞ্চিতা প্রধান দে-কে প্রার্থী করা হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি মনোনয়নও জমা দেন। কিন্তু তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের মধ্যেই বৃহস্পতিবার রাতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ নতুন করে জল্পনা তৈরি করে। শুক্রবার কমিশন দুই শিবিরের জন্য বিকল্প নাম ও প্রতীক চূড়ান্ত করার পরই সঞ্চিতা মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন।

শুক্রবার সকাল থেকেই সঞ্চিতার গতিবিধি ঘিরে কৌতূহল ছিল। বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় সাংবাদিকদের কোনও প্রশ্নের উত্তর দেননি তিনি। কোথায় যাচ্ছেন বা কী সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন, তা নিয়েও প্রকাশ্যে কিছু জানাননি। এর মধ্যেই বিকেলে হলদিয়ার মহকুমাশাসকের দপ্তরে গিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন সঞ্চিতা।

নন্দীগ্রামে সঞ্চিতা ছাড়া মমতা শিবিরের আর কোনও বিকল্প বা ‘ডামি’ প্রার্থীও ছিল না। ফলে মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর এই উপনির্বাচনে মমতা শিবিরের কোনও প্রার্থী থাকল না। এরপর সাংবাদিক বৈঠক করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, নন্দীগ্রামে তাঁর শিবির কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন করবে।

নন্দীগ্রামের উপনির্বাচন ঘিরে এর আগে থেকেই তৃণমূলের দুই শিবিরের মধ্যে নাম ও প্রতীক নিয়ে টানাপড়েন চলছিল। নির্বাচন কমিশন অন্তর্বর্তী নির্দেশে ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ব্যবহারে স্থগিতাদেশ দেয়। পরে শুক্রবার মমতা শিবিরের জন্য ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ফুটবল খেলোয়াড়ের প্রতীক নির্ধারিত হয়। ঋতব্রত শিবিরের জন্য দেওয়া হয় ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং খাম প্রতীক।

নন্দীগ্রামে কংগ্রেসের প্রার্থী মিলন প্রধান। পাশাপাশি ঋতব্রত শিবিরের হয়ে লড়ছেন মহম্মদ এহেতাসামূল হক। বিজেপি প্রার্থী করেছে প্রয়াত চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথকে। বামেদের হয়ে সিপিআই প্রার্থী শান্তিগোপাল গিরি। একাধিক দল ও শিবিরের প্রার্থী থাকায় নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের সমীকরণ ইতিমধ্যেই জটিল হয়ে উঠেছে।

আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হবে। ফল ঘোষণা হবে ৯ অক্টোবর।

Related posts

Leave a Comment