সংবাদ কলকাতা: দুর্গাপুজোর আর এক মাসও বাকি নেই। উৎসবের প্রস্তুতি যখন জোরকদমে চলছে, তখনই আবহাওয়ার পূর্বাভাসে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। উত্তর আন্দামান সাগর ও সংলগ্ন এলাকায় ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বরের দিকে একটি নিম্নচাপ তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছে ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর। পরবর্তী সময়ে সেটি আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এখনই সেটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে কি না, তা নিশ্চিত করে জানায়নি মৌসম ভবন।
আবহাওয়া দপ্তরের ১৭ সেপ্টেম্বরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, উত্তর থাইল্যান্ড ও সংলগ্ন এলাকায় থাকা ঘূর্ণাবর্তটি উত্তর আন্দামান সাগরের দিকে এগিয়ে আসতে পারে। এর প্রভাবে ১৯ সেপ্টেম্বর নাগাদ ওই এলাকায় নিম্নচাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর সিস্টেমটি ধীরে ধীরে শক্তি বাড়িয়ে পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে এগিয়ে দক্ষিণ ওড়িশা এবং উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে যেতে পারে বলে প্রাথমিক পূর্বাভাস।
বেসরকারি আবহাওয়া পূর্বাভাস সংস্থা স্কাইমেটের বিশ্লেষণে অবশ্য এই নিম্নচাপ পরবর্তী সময়ে আরও শক্তিশালী হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। তাদের মতে, আগামী কয়েক দিনে সিস্টেমটি গভীর নিম্নচাপ বা তার চেয়েও শক্তিশালী রূপ নিতে পারে। তবে এর সম্ভাব্য গতিপথ ও শক্তি এখনই নিশ্চিত নয়। ঘূর্ণিঝড় তৈরি হলে বাংলাদেশের দেওয়া নাম অনুযায়ী সেটির নাম হতে পারে ‘অর্ণব’।

অর্থাৎ এই মুহূর্তে সরাসরি বাংলার দিকে ঘূর্ণিঝড় ধেয়ে আসছে—এমন কোনও নিশ্চিত পূর্বাভাস নেই। বরং আবহাওয়া দপ্তরের বর্তমান পূর্বাভাসে নিম্নচাপ তৈরির সম্ভাবনা এবং তার পরবর্তী গতিপথের উপর নজর রাখা হচ্ছে। সিস্টেমটি তৈরি হওয়ার পর তার শক্তি ও গতিপথ আরও স্পষ্ট হবে।
এর মধ্যেই দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির দাপট অব্যাহত রয়েছে। মৌসুমি অক্ষরেখার প্রভাবে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়ার কিছু এলাকায় বৃষ্টির সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে।
শনিবার পর্যন্ত পশ্চিমের কয়েকটি জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি রয়েছে। রবিবারও বৃষ্টি চলবে, যদিও বৃষ্টির পরিমাণ ও ব্যাপকতা কিছুটা কমতে পারে। উত্তরবঙ্গেও বিক্ষিপ্ত ভাবে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারের কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

কলকাতাতেও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। শুক্রবার শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৫.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪.২ ডিগ্রি। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৬০ থেকে ৯৭ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় কলকাতায় ১১.৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
সব মিলিয়ে পুজোর আগে ফের বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের সম্ভাবনা নজরে রাখছে আবহাওয়া দপ্তর। আপাতত সিস্টেমটির গতিপথ এবং শক্তিবৃদ্ধির দিকে নজর রাখাই মূল বিষয়। আগামী কয়েকটি পূর্বাভাসে পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
