উপনির্বাচনের আগে ধাক্কা দুই গোষ্ঠীরই
সংবাদ কলকাতা: আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা উপনির্বাচনের (West Bengal Assembly By-elections) ঠিক আগেই রাজ্যের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে বড়সড় ধাক্কা দিল দেশের নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India). তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিবাদের জের ধরে দলের অফিসিয়াল নাম এবং সংরক্ষিত ‘জোড়া ফুল’ (Flowers & Grass) প্রতীক ফ্রিজ করার অন্তর্বর্তী নির্দেশ জারি করেছে নির্বাচন কমিশন।
বৃহস্পতিবার রাতে জারি করা একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, অরূপ রায় (Arup Roy) এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নেতৃত্বাধীন দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর কেউই আপাতত মূল দল ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ (All India Trinamool Congress) নাম বা দলের প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee) ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী দুই পক্ষকেই আসন্ন উপনির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য কমিশন নির্দেশিত মুক্ত প্রতীকের তালিকা (Free Symbols) থেকে নতুন প্রতীক এবং আলাদা নাম বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তবে তারা চাইলে পছন্দের নামের সঙ্গে মূল দলের নাম যুক্ত রাখতে পারে।নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের পর তোপ দেগেছে বিজেপি (BJP). ভারতীয় জনতা পার্টি (Bharatiya Janata Party) এই পরিস্থিতি নিয়ে শাসকদলকে চরম খোঁচা দিয়েছে। বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের দাবি, দুর্নীতি ও অন্দরের তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণেই তৃণমূলের আজ এই করুণ পরিণতি। তৃণমূল ক্রমশ রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা হারিয়ে ধূলিসাৎ হয়ে যাচ্ছে বলে পদ্ম শিবির কটাক্ষ করেছে। তাদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল এখন পুরোপুরি অস্তিত্ব সঙ্কটে এবং উপনির্বাচনে রাজ্যের মানুষ বিজেপিকে বেছে নিতে তৈরি।
আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ঠিক আগেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরমহলের বিবাদ গড়িয়েছে চরম পরিণতিতে। ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৈরি হওয়া ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং তাঁর নিজ হাতে আঁকা ঐতিহাসিক ‘জোড়াফুল’ প্রতীক বাজেয়াপ্ত করল দেশের নির্বাচন কমিশন। টানটান স্নায়ুযুদ্ধের পর মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পরিচালিত কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আপাতত কোনো গোষ্ঠীকেই মূল তৃণমূল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে না। উপনির্বাচনে লড়তে হলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাট শিবির এবং বিরোধী গোষ্ঠী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির— উভয়কেই সম্পূর্ণ নতুন নাম ও আলাদা প্রতীক বেছে নিতে হবে।
দীর্ঘ ২৮ বছর পর পশ্চিমবঙ্গে কোনো নির্বাচন হতে চলেছে জোড়াফুল প্রতীক ছাড়া। তৃণমূলের অন্তর্কলহের জেরে গঠিত অরূপ রায়ের নেতৃত্বাধীন জাতীয় কর্মসমಿತಿ ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠী এই অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে আশাপ্রকাশ করেছে যে, দলীয় নেতৃত্ব ও জেলা সভাপতিদের সমর্থন তাঁদের দিকেই থাকায় আগামী দিনে আসল তৃণমূলের স্বীকৃতি ও প্রতীক তাঁরাই পাবেন। অন্যদিকে কালীঘাট সূত্রে জানা গিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র সরকার, বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের এক যৌথ ষড়যন্ত্র বলে তোপ দেগেছেন।
ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) জানিয়েছে, তৃণমূলের ভেতরে চরম দুর্নীতি ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে পচন ধরেছে। বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের দাবি, রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের এই চরম রাজনৈতিক বিপর্যয় প্রমাণ করে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানা চিরতরে শেষ হতে চলেছে। তৃণমূলের নিজস্ব কলহ এবং পচনের কারণেই আজ তাদের দলীয় প্রতীক পর্যন্ত সিন্দুকে বন্দি করতে হয়েছে। জনগণ এখন দুর্নীতিগ্রস্ত তৃণমূলকে প্রত্যাখ্যান করে বিজেপির ওপরই পূর্ণ আস্থা রাখছে এবং আসন্ন দুটি উপনির্বাচনেই পদ্ম ফুটবে বলে বিজেপি দৃঢ় বিশ্বাসী।
