দিল্লি— রাশিয়া থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখলে ভারতের পণ্যে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানোর ক্ষমতা পেতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অফ ২০২৬’ বুধবার মার্কিন হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে ২৬২-১৫৯ ভোটে পাশ হয়েছে। এর আগে বিলটি মার্কিন সেনেটেও অনুমোদিত হয়েছে। এখন ট্রাম্পের স্বাক্ষরের অপেক্ষা।
এই আবহে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে নয়াদিল্লি। বৃহস্পতিবার বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ভারতের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার উপর নির্ভর করে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন উৎস থেকে অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য শক্তি সম্পদ কেনা অব্যাহত রাখবে ভারত।
বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, মার্কিন নতুন আইনের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে ভারত নজর রাখছে। বিলটি নিয়ে আইনসভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগেই মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হয়েছিল বলেও জানিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের বক্তব্য, রাশিয়া থেকে তেল বা গ্যাস আমদানির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শুল্ক বা নিষেধাজ্ঞা চাপানো হলে তার প্রভাব শুধু ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
নতুন পরিস্থিতিতে ভারতের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার কথাও জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক। সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় বাণিজ্য ও শিল্পমহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে সরকার কাজ করবে বলে জানানো হয়েছে।

নতুন মার্কিন বিলটি রাশিয়ার উপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি রুশ তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতা দেশগুলির উপরও চাপ তৈরির সুযোগ দিচ্ছে। আইনে পরিণত হলে ট্রাম্পের হাতে এই ধরনের দেশগুলির পণ্যে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা থাকবে। ভারত ও চিন এই ব্যবস্থার সম্ভাব্য প্রভাবের মধ্যে রয়েছে।
মার্কিন আইনসভার নিম্নকক্ষে বিলটি ২৬২-১৫৯ ভোটে পাশ হয়েছে। রিপাবলিকানদের পাশাপাশি ডেমোক্র্যাটিক পার্টিরও একাংশ সদস্য বিলের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। সেনেটে এর আগে বিলটি বিপুল সমর্থন পেয়েছিল।
ওয়াশিংটনের যুক্তি, রাশিয়া বিভিন্ন দেশে তেল ও গ্যাস বিক্রি করে যে বিপুল অর্থ আয় করছে, তা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানোর ক্ষেত্রে মস্কোর আর্থিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। সেই কারণেই রাশিয়ার জ্বালানি বাণিজ্যে চাপ তৈরি করতে চাইছে আমেরিকা। ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়া তুলনামূলক কম দামে অপরিশোধিত তেল বিক্রি শুরু করলে ভারত ও চিন-সহ একাধিক দেশ সেই বাজারে বড় ক্রেতা হয়ে ওঠে।
ভারতের ক্ষেত্রে রাশিয়ার তেলের গুরুত্বও যথেষ্ট। দেশের বিপুল জ্বালানি চাহিদা মেটাতে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে নিয়মিত অপরিশোধিত তেল আমদানি করতে হয়। ফলে রুশ তেল নিয়ে আমেরিকার এই নতুন পদক্ষেপ ভারত-মার্কিন বাণিজ্য এবং জ্বালানি নীতিতে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।
তবে এখনই ভারতের উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হচ্ছে না। বিলটি ট্রাম্পের স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে এবং আইনে পরিণত হওয়ার পর সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহার করা হবে, সেটিই পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
