সংবাদ কলকাতা: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিন ঘিরে দেশজুড়ে নানা কর্মসূচি। পশ্চিমবঙ্গেও বিজেপির তরফে একাধিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সল্টলেকে বিজেপির রাজ্য সদর দপ্তরে প্রধানমন্ত্রীর একটি মোমের মূর্তি উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি তথা সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য।
উল্লেখ্য, নরেন্দ্র মোদীর জন্ম ১৯৫০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর গুজরাতের ভাদনগরে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, শৈশবে পরিবারের চায়ের দোকানে কাজ করতেন তিনি। ২০২৬ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর তাঁর ৭৬তম জন্মদিন পালিত হচ্ছে। অর্থাৎ ৭৭তম নয়, এ বছর তাঁর বয়স ৭৬ বছর পূর্ণ হয়েছে।
জন্মদিন উপলক্ষে সল্টলেকের রাজ্য বিজেপি দপ্তরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মোদীর মোমের মূর্তি উন্মোচন করেন শমীক ভট্টাচার্য। জানা গিয়েছে, আসানসোলের শিল্পী সুশান্ত রায় প্রায় দু’মাস ধরে মূর্তিটি তৈরি করেছেন। বিজেপির দাবি, দলের তরফে কোনও অর্ডার দেওয়া হয়নি। শিল্পী নিজেই মূর্তিটি তৈরি করে তা বিজেপির হাতে তুলে দিয়েছেন।

মূর্তি উন্মোচনের পর বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে মোদীর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন ও নেতৃত্ব নিয়ে বক্তব্য রাখেন শমীক। তাঁর কথায়, ‘ভারতীয় সংসদীয় রাজনীতির ইতিহাসে দীর্ঘ ২৫ বছর প্রশাসনিক সর্বোচ্চ পদে থেকে অপ্রাসঙ্গিক ভারতকে অন্য উচ্চতায় যিনি নিয়ে গিয়েছেন তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।’
এদিন জন্মদিন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা কামনায় বিভিন্ন কর্মসূচির কথাও জানান বিজেপি নেতারা। দলীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘আশীর্বাদের প্রদীপ’ জ্বালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও এই কর্মসূচির জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, মানুষের আশীর্বাদ তাঁর দেশসেবার সংকল্পকে আরও শক্তিশালী করে।
অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে ১৭ সেপ্টেম্বরকে ‘অন্নপূর্ণা দিবস’ হিসেবে পালনের ঘোষণা করা হয়েছে। এই উপলক্ষে রাজ্যে অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধাভোগীদের নিয়ে একাধিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

মোদীর জন্মদিন উপলক্ষে কলকাতার ঠনঠনিয়া এলাকাতেও যজ্ঞের আয়োজন করা হয় বলে জানা গিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা কামনায় আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি এলাকার বিভিন্ন স্কুলের পড়ুয়াদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
সব মিলিয়ে, প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনকে ঘিরে বিজেপির সাংগঠনিক কর্মসূচির পাশাপাশি রাজ্য সরকারের ঘোষিত ‘অন্নপূর্ণা দিবস’ নিয়েও বাংলায় দিনভর একাধিক অনুষ্ঠান চলছে।
