September 17, 2026
দেশ

ইউপিআই মাশুলে কেন্দ্রের পাশে ওমর, সাধারণ গ্রাহকের উপর বোঝা না চাপানোর আর্জি

শ্রীনগর, ১৭ সেপ্টেম্বর: নির্দিষ্ট কিছু ইউপিআই লেনদেনে মাশুল বসানোর সিদ্ধান্তে কেন্দ্রীয় সরকারের পাশে দাঁড়ালেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। তবে তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, এই মাশুল যেন সাধারণ মানুষের উপর চাপানো না হয়। ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির মধ্যে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে কোনও মাশুল থাকবে না বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ২ হাজার টাকার বেশি ব্যবসায়িক ইউপিআই লেনদেনে ০.৪ শতাংশ হারে মাশুল চালু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই মাশুল মূলত ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নেওয়া হবে। ৭৫ হাজার টাকা বা তার বেশি লেনদেনের ক্ষেত্রে মাশুলের সর্বোচ্চ সীমা ৩০০ টাকা রাখা হয়েছে। ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির মধ্যে টাকা পাঠানো এবং ২ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যবসায়িক লেনদেন এই মাশুলের আওতার বাইরে থাকবে।

শ্রীনগরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ওমর বলেন, ‘এই মাশুল তো সকলের উপর চাপানো হচ্ছে না। একজন ব্যক্তি অন্য একজনকে টাকা পাঠালে কোনও মাশুল দিতে হবে না। নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম না করলে ব্যক্তিগত গ্রাহকদের ক্ষেত্রেও মাশুল প্রযোজ্য হবে না।’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইউপিআই ব্যবস্থা পরিচালনা এবং তার পরিকাঠামো বজায় রাখতে যথেষ্ট অর্থের প্রয়োজন হয়।

ওমরের বক্তব্য, কোনও পরিষেবা দীর্ঘদিন বিনা খরচে পাওয়া গেলে অনেক সময় তার পিছনে থাকা পরিকাঠামো ও পরিচালন ব্যয়ের গুরুত্ব মানুষের চোখে পড়ে না। তবে সাধারণ গ্রাহকের উপর যাতে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ না পড়ে, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কেন্দ্রের। সংস্থাগুলির কাছ থেকে মাশুল নেওয়া নিয়ে তাঁর আপত্তি নেই বলেও জানান তিনি। তাঁর যুক্তি, বিভিন্ন সংস্থা ইউপিআই ব্যবস্থার মাধ্যমে যথেষ্ট ব্যবসায়িক সুবিধা পায়।

ইউপিআইয়ের নতুন মাশুল কাঠামো নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কংগ্রেস এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে। দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, মাশুল চালুর ফলে শেষ পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের খরচ বাড়তে পারে এবং তার প্রভাব সাধারণ গ্রাহকদের উপর পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্য দিকে কেন্দ্রের বক্তব্য, মাশুল ব্যবসায়ীদের উপর প্রযোজ্য হবে এবং তা গ্রাহকের কাছ থেকে আদায় করার সুযোগ রাখা হয়নি।

কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে বিদেশি চাপের অভিযোগও অস্বীকার করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রক জানিয়েছে, দেশের ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা নিয়ে সিদ্ধান্তগুলি ভারতের নিজস্ব নীতি ও প্রয়োজনের ভিত্তিতেই নেওয়া হচ্ছে। সরকারের যুক্তি, ইউপিআইয়ের পরিকাঠামো, নিরাপত্তা, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং পরিষেবা বজায় রাখতে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক কাঠামো প্রয়োজন।

ইউপিআইয়ের নতুন মাশুল কাঠামোয় ছোট ব্যবসায়ীদের জন্যও কিছু ছাড় রাখা হয়েছে। নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে ছোট ব্যবসায়ীদের ইউপিআই গ্রহণের ক্ষেত্রে শূন্য মাশুল বজায় থাকবে। ফলে নতুন নিয়মের প্রভাব মূলত নির্দিষ্ট উচ্চমূল্যের ব্যবসায়িক লেনদেনেই সীমাবদ্ধ রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।

ওমরের এই অবস্থান বিরোধী জোটের অন্দরে ইউপিআই মাশুল নিয়ে মতপার্থক্যকে ফের সামনে নিয়ে এসেছে। এর আগে বন্দে মাতরম্‌ গাওয়া নিয়েও কংগ্রেস ও ন্যাশনাল কনফারেন্সের মধ্যে প্রকাশ্যে মতভেদ দেখা গিয়েছিল। ইউপিআই মাশুলের প্রশ্নে ওমরের বক্তব্য সেই রাজনৈতিক দূরত্বের আরও একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

Related posts

Leave a Comment