29 C
Kolkata
September 11, 2026
দেশ

পুতিনকে ‘তিরুক্কুরল’ উপহার মোদীর, রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে একাধিক বিষয়

সংবাদ দিল্লি: ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আগে শুক্রবার দিল্লিতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয় দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে। বৈঠকের পর পুতিনকে তামিল সাহিত্যের অন্যতম প্রাচীন ও শ্রদ্ধেয় গ্রন্থ ‘তিরুক্কুরল’-এর রুশ ভাষায় অনূদিত একটি সংস্করণ উপহার দেন প্রধানমন্ত্রী।

ভারতীয় সংস্কৃতি ও সাহিত্যকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার ক্ষেত্রে মোদীর এই উপহারকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তামিল ভাষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই গ্রন্থে নৈতিকতা, ন্যায়, শাসনব্যবস্থা, সামাজিক জীবন, প্রেম এবং মানুষের দৈনন্দিন আচরণ নিয়ে গভীর আলোচনা রয়েছে। রুশ ভাষায় অনূদিত সংস্করণ পুতিনের হাতে তুলে দিয়ে ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে রাশিয়ার পাঠকদেরও পরিচয় করানোর বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী।

‘তিরুক্কুরল’ শুধু তামিল সাহিত্যেই নয়, ভারতীয় জ্ঞান-ঐতিহ্যের ক্ষেত্রেও বিশেষ মর্যাদা পায়। গ্রন্থটিতে মোট ১,৩৩০টি দ্বিপদী বা কুরল রয়েছে। ১৩৩টি অধ্যায়ে বিভক্ত এই রচনার প্রতিটি অধ্যায়ে রয়েছে ১০টি করে দ্বিপদী।


গ্রন্থটির বিষয়বস্তুকে মূলত তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে—‘আরাম’, ‘পোরুল’ এবং ‘ইনবম’। প্রথম অংশ ‘আরাম’-এ নৈতিকতা ও সৎ জীবনযাপনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। সত্যবাদিতা, সহমর্মিতা, আত্মসংযম, উদারতা, অতিথিপরায়ণতা এবং পারিবারিক দায়িত্বের মতো বিষয় রয়েছে এই অংশে।

দ্বিতীয় অংশ ‘পোরুল’ তুলনামূলক ভাবে আরও বিস্তৃত। এখানে ব্যক্তিগত জীবনের পাশাপাশি রাষ্ট্র, সমাজ ও প্রশাসনের নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। নেতৃত্ব, শাসনব্যবস্থা, ন্যায়বিচার, কূটনীতি, বন্ধুত্ব, কৃষি, শিক্ষা এবং শাসক ও নাগরিকের দায়িত্বের মতো বিষয় উঠে এসেছে। ফলে ‘তিরুক্কুরল’ শুধু নৈতিক শিক্ষার গ্রন্থ নয়, রাষ্ট্র পরিচালনা ও সামাজিক ব্যবস্থার উপরও গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে।

তৃতীয় অংশ ‘ইনবম’-এ রয়েছে প্রেম ও মানবিক সম্পর্কের নানা দিক। প্রেমের আকর্ষণ, বিচ্ছেদ, অপেক্ষা, আবেগ এবং পুনর্মিলনের মতো বিষয়কে দ্বিপদীর মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।

‘তিরুক্কুরল’-এর রচয়িতা তিরুবল্লুভর তামিল সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রায় দুই হাজার বছর আগে তাঁর জীবনকাল ছিল। মাদ্রাজের মাইলাপুরের সঙ্গে তাঁর জীবন ও স্মৃতির যোগের কথাও তামিল ঐতিহ্যে উল্লেখ করা হয়।

তিরুবল্লুভরের দর্শন ও শিক্ষার প্রভাব তামিল সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে গভীর। তাঁর রচনার বিভিন্ন বক্তব্য সময়ের সঙ্গে ভারতের বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশি ভাষাতেও ‘তিরুক্কুরল’-এর অনুবাদ হয়েছে। ফলে তাঁর ভাবনা শুধু তামিল সমাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি।


প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও বিভিন্ন সময়ে তিরুবল্লুভরের দর্শন ও রচনার কথা উল্লেখ করেছেন। তিরুবল্লুভর দিবস উপলক্ষে এর আগে তিনি বলেছিলেন, তিরুবল্লুভরের রচনা ও আদর্শ অসংখ্য মানুষকে অনুপ্রাণিত করে। তাঁকে তামিল সংস্কৃতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রতীক হিসেবেও উল্লেখ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

ব্রিকস সম্মেলনের আগে পুতিনের সঙ্গে মোদীর বৈঠকে কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি এমন একটি সাংস্কৃতিক উপহার দুই দেশের দীর্ঘ ঐতিহাসিক সম্পর্কের পরিসরকেও সামনে আনল। দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার পাশাপাশি ভারতীয় সাহিত্য ও সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার ক্ষেত্রেও এই উদ্যোগকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

Related posts

Leave a Comment