28 C
Kolkata
September 11, 2026
রাজ্য

শিল্পে বিনিয়োগের বার্তা শুভেন্দুর, বাংলায় ৫ হাজার কোটি টাকার লগ্নির দাবি

সংবাদ কলকাতা: পূর্বতন সরকারের আমলে শিল্প ও বিনিয়োগ নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। শিল্পবাণিজ্য সম্মেলন ঘিরে বড় বড় ঘোষণা হলেও বাস্তবে কতটা বিনিয়োগ এল, তা নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনা কম হয়নি। এবার সরকার বদলের পর সেই ছবিই বদলাচ্ছে বলে দাবি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। শুক্রবার সিটি সেন্টারে একটি নামী বস্ত্র বিপণন সংস্থার আউটলেট উদ্বোধনের মঞ্চ থেকে বাংলায় শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরির বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি, আগামী দিনে ওই সংস্থার হাত ধরে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ ও বিপুল কর্মসংস্থানের সম্ভাবনার কথাও জানালেন তিনি।

শুভেন্দুর দাবি, রাজ্যে ওই সংস্থা ধাপে ধাপে ১৪০টি স্টোর খুলবে। আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যেই সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। যদিও সংস্থার তরফে তিন বছরের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

শুধু খুচরো বিপণন নয়, উৎপাদন পরিকাঠামো তৈরির দিকেও সংস্থাটি এগোচ্ছে বলে জানান তিনি। পুরুলিয়ায় ইতিমধ্যেই প্রায় ১০০ একর জমি কেনা হয়েছে। সেখানে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। ওই প্রকল্পের ভূমিপুজোয় তিনি নিজে যাওয়ার কথাও জানান শুভেন্দু। ভবিষ্যতে সংস্থাটি মোট প্রায় ১ হাজার একর জমি কিনতে পারে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।


এই বিনিয়োগের সঙ্গে বড় অঙ্কের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও রয়েছে বলে দাবি শুভেন্দুর। তাঁর কথায়, আগামী দিনে রাজ্যে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ হতে পারে। শিল্প সংস্থাটির উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগের পাশাপাশি বাংলার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে।

শিল্প আনার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার কোনও সংস্থার সঙ্গে শুধুমাত্র ছবি তোলার জন্য বৈঠক করছে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, বিনিয়োগকারী সংস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করার পরেই রাজ্যে শিল্পের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। সংস্থাটি দুর্নীতির টাকায় চলছে কি না, তাদের আর্থিক স্বচ্ছতা কেমন—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, শিল্পপতিদের কাছ থেকে কোনও বেআইনি সুবিধা না নিয়ে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিনিয়োগ আনার চেষ্টা করছে বর্তমান সরকার। শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

ইতিমধ্যেই রাজ্যে একাধিক বড় শিল্পগোষ্ঠীর বিনিয়োগের পরিকল্পনা সামনে এসেছে বলে সরকারি মহলের দাবি। হাওড়ার সাঁকরাইল ফুড পার্কে আমুলের বড় দই কারখানা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। সূত্রের দাবি, এই প্রকল্পে প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ হতে পারে। লাক্স কোজি-ও বাংলায় প্রায় ৬০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

অন্যদিকে, শ্যাম স্টিলের তরফে রাজ্যে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনার কথাও সামনে এসেছে। সেমিকন্ডাক্টর শিল্পেও বাংলাকে ঘিরে আগ্রহ তৈরি হয়েছে বলে দাবি। বহুজাতিক সংস্থা মিৎসুবিশি রাজ্যে সেমিকন্ডাক্টর কারখানা তৈরির বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে বলে সূত্রের খবর।


সরকার বদলের পর আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গেও রাজ্যের শিল্প ও পরিকাঠামো নিয়ে একাধিক আলোচনা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন করণ আদানি। নিউটাউন-রাজারহাটে প্রায় ২ হাজার শয্যার অত্যাধুনিক হাসপাতাল তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে আদানি গোষ্ঠীর।

শুধু নতুন বিনিয়োগ নয়, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা শিল্প ইউনিট ফের চালুর বিষয়েও উদ্যোগের দাবি করেছে রাজ্য সরকার। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে ১৫টি জুটমিল ফের চালু হয়েছে এবং সেখানে উৎপাদন শুরু হয়েছে।

ফলে একদিকে নতুন শিল্পে লগ্নির সম্ভাবনা, অন্যদিকে বন্ধ শিল্প ফের চালুর উদ্যোগ—দুই দিকেই বাংলার শিল্পচিত্র বদলানোর চেষ্টা চলছে বলে দাবি রাজ্য সরকারের। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও সংস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দিয়েই আগামী দিনে আরও বড় শিল্পপ্রকল্প বাংলায় আনার লক্ষ্য রয়েছে।

Related posts

Leave a Comment