সংবাদ কলকাতা: চার দলীয় নেতাকে একসঙ্গে বহিষ্কার করে এবার দলেরই শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির কোপে ডায়মন্ড হারবারের জেলা সভানেত্রী সোমা ঘোষ। রাজ্য বিজেপিকে না জানিয়ে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগে তাঁকে শোকজ করেছে বঙ্গ বিজেপি। কেন চার নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল, তার লিখিত জবাব সাত দিনের মধ্যে দিতে বলা হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ডায়মন্ড হারবারের জেলা সভানেত্রী হিসেবে সোমা ঘোষ চার নেতাকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেন। সেই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়েছিল। বিষয়টি রাজ্য নেতৃত্বের নজরে আসার পরই তাঁর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে পদক্ষেপ করা হয়।
বিজেপির শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির প্রমুখ প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঠানো শোকজ নোটিসে বলা হয়েছে, রাজ্য বিজেপিকে উপেক্ষা করে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চার নেতাকে বহিষ্কারের কারণ এবং সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে দলের নিয়ম মেনে চলা হয়েছিল কি না, তা ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে সোমা ঘোষকে।

যে চার নেতাকে বহিষ্কার করেছিলেন সোমা, তাঁরা হলেন বিজয় দাস, সঞ্জিত শাসমল, অশোক কর্মকার এবং অমিত সর্দার। বিজয় দাস রামনগরের ২২৭ নম্বর বুথের সভাপতি, সঞ্জিত শাসমল রামনগরের ২২৪ নম্বর বুথের সভাপতি এবং অমিত সর্দার রামনগরের ২৩৭ নম্বর বুথের সভাপতি। অন্যদিকে অশোক কর্মকার ভাদুরা অঞ্চলের বিজেপি নেতা।
দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে ওই চার নেতার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছিল। দলবিরোধী কার্যকলাপ, দলীয় শৃঙ্খলা লঙ্ঘন, বিরোধীদের সঙ্গে যোগসাজশ এবং তোলাবাজির মতো অভিযোগের উল্লেখ করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।

তবে জেলা নেতৃত্বের নেওয়া সেই সিদ্ধান্তই এবার প্রশ্নের মুখে। রাজ্য নেতৃত্বকে না জানিয়ে চার নেতাকে একসঙ্গে বহিষ্কার করার বিষয়টি দলীয় সাংগঠনিক নিয়মের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল কি না, তা নিয়েই ব্যাখ্যা চেয়েছে বিজেপি। সাত দিনের মধ্যে সোমা ঘোষের জবাব পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ করা হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে খবর।
একদিকে চার নেতার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ, অন্যদিকে জেলা নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজ্য বিজেপির শোকজ—দুই ঘটনাকে ঘিরে ডায়মন্ড হারবারে দলের অন্দরে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। এখন সোমা ঘোষ কী জবাব দেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে দল শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
