29 C
Kolkata
September 10, 2026
রাজ্য

মমতার শ্রীরামপুর সভায় হাই কোর্টের অনুমতি, মিছিল নয়, ২ ঘণ্টায় ২ হাজারের জমায়েত

সংবাদ কলকাতা: আগামী শুক্রবার শ্রীরামপুরের মাহেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় শর্তসাপেক্ষে অনুমতি দিল কলকাতা হাই কোর্ট। তবে কালীঘাট তৃণমূলের প্রস্তাবিত মিছিলের অনুমতি দেয়নি আদালত। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের নির্দেশ অনুযায়ী, মাহেশের জগন্নাথ দেব স্নানপিঁড়ি ময়দানে দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৩টে পর্যন্ত সভা করা যাবে। সভায় সর্বাধিক ২ হাজার মানুষ জমায়েত করতে পারবেন।

শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর মাহেশে কর্মসূচির পরিকল্পনা করেছিল কালীঘাট তৃণমূল। ওই কর্মসূচিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। সভার আগে মাহেশ থেকে শ্রীরামপুর আদালত পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিল করার পরিকল্পনাও ছিল তৃণমূলের। সেই মিছিলের জন্য পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন চুঁচুড়ার প্রাক্তন বিধায়ক অসিত মজুমদার।


তবে মিছিলের অনুমতি দেয়নি পুলিশ। পুলিশের তরফে যুক্তি দেওয়া হয়, মাহেশ থেকে শ্রীরামপুর আদালত পর্যন্ত মিছিল হলে জিটি রোডে যান চলাচল ব্যাহত হতে পারে। এই অনুমতি না-মেলার পরেই বিষয়টি কলকাতা হাই কোর্টে গড়ায়।

বৃহস্পতিবার মামলার শুনানিতে আদালত মিছিলের অনুমতি না দিলেও সভা করার ক্ষেত্রে ছাড়পত্র দিয়েছে। তবে সভার জন্য একাধিক শর্তও বেঁধে দিয়েছেন বিচারপতি ভট্টাচার্য। নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে কোনও কর্মসূচি করা যাবে না এবং ২ হাজারের বেশি মানুষকে সভাস্থলে জমায়েত করা যাবে না বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সভা থেকে কোনও উস্কানিমূলক মন্তব্য করা যাবে না বলেও স্পষ্ট করে দিয়েছে আদালত। বিশেষ করে এমন কোনও বক্তব্য রাখা যাবে না, যাতে কারও ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত লাগতে পারে। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করতে রাজ্যকে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েনের নির্দেশও দিয়েছেন বিচারপতি।

এ ছাড়াও কালীঘাট তৃণমূলের তরফে যে স্বেচ্ছাসেবকদের মোতায়েন করা হবে, তাঁদের নাম ও ফোন নম্বরের তালিকা বৃহস্পতিবার রাত ৮টার মধ্যে পুলিশের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সভাস্থলে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং আদালতের সমস্ত নির্দেশ কার্যকর করার ক্ষেত্রেও আয়োজকদের দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রীরামপুরের মাহেশের সভায় শর্তসাপেক্ষে অনুমতি দিল কলকাতা হাই কোর্ট। মিছিল করা যাবে না, দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৩টে পর্যন্ত সভা এবং সর্বাধিক ২ হাজার জমায়েতের নির্দেশ।


রাজনৈতিক ভাবে এই কর্মসূচির তাৎপর্যও যথেষ্ট। বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একাধিক রাজনৈতিক কর্মসূচি কলকাতাকেন্দ্রিক হয়েছে। সেই পর্বে শ্রীরামপুরে সভা হলে সেটিই কলকাতার বাইরে তাঁর প্রথম বড় রাজনৈতিক কর্মসূচি হতে চলেছে।

অন্যদিকে, মিছিলের অনুমতি না-মেলায় কালীঘাট তৃণমূলের পরিকল্পনায় কিছুটা পরিবর্তন আনতে হচ্ছে। সভার অনুমতি পাওয়ায় অবশ্য কর্মসূচি সম্পূর্ণ বাতিল হচ্ছে না। আদালতের নির্ধারিত সময় এবং জমায়েতের সীমা মেনেই শুক্রবার মাহেশে সভা করতে হবে তৃণমূলকে।

ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রীরামপুর সফর ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই আগ্রহ তৈরি হয়েছে। একদিকে আদালতের বেঁধে দেওয়া শর্ত, অন্যদিকে কলকাতার বাইরে মমতার প্রথম রাজনৈতিক কর্মসূচি—দুই কারণেই শুক্রবারের মাহেশের সভার দিকে নজর থাকবে রাজ্য রাজনীতির।

Related posts

Leave a Comment