28 C
Kolkata
September 10, 2026
রাজ্য

নন্দীগ্রামে মমতার লড়াই নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে, দিলীপের কটাক্ষের জবাব বৈশ্বানরের

সংবাদ কলকাতা: নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার পরই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বঙ্গ রাজনীতি। তবে দুই কেন্দ্রের ভোটের থেকেও আপাতত রাজনৈতিক মহলের নজর বেশি নন্দীগ্রামের দিকে। কালীঘাট তৃণমূলের তরফে প্রার্থী কে হবেন, তা নিয়ে জল্পনার মধ্যেই উঠে আসছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। আর সেই জল্পনাকে কেন্দ্র করেই বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের কটাক্ষ ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক চাপানউতোর।

বৃহস্পতিবার সকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নন্দীগ্রামে মমতার সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘নন্দীগ্রামে উনি আগেও হেরেছেন। ভবানীপুরেও হেরেছেন। আর কোথায় কোথায় গিয়ে হারতে চান, সেটা ওঁর ব্যক্তিগত ব্যাপার। উনিই এটা ভাল বলতে পারবেন।’

দিলীপের এই মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন মমতাপন্থী তৃণমূল কাউন্সিলর বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, দলের প্রার্থী কে হবেন, সেই সিদ্ধান্ত তৃণমূলই নেবে। বৈশ্বানর বলেন, ‘আমাদের দল কাকে প্রার্থী করবে বা না করবে, তা নিয়ে আমাদের ভাবতে দিন। ওঁকে অহেতুক চিন্তাভাবনা করতে হবে না।’


নন্দীগ্রাম নিয়ে এই রাজনৈতিক চাপানউতোরের নেপথ্যে রয়েছে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের স্মৃতি। সেই নির্বাচনে নন্দীগ্রাম থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে অল্প ব্যবধানে পরাজিত হন তিনি। পরে ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে বিধানসভায় ফেরেন মমতা।

এবার নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনের সূচি ঘোষণার পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে, কালীঘাট শিবির কি ফের মমতাকে এই কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করার কথা ভাবছে? এখনও পর্যন্ত দলের তরফে এমন কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি। ফলে মমতার সম্ভাব্য প্রার্থিতা আপাতত রাজনৈতিক জল্পনার স্তরেই রয়েছে।

এর মধ্যেই তৃণমূলের ভাঙন ঘিরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। দলের এক অংশ নিজেদের ‘কালীঘাট তৃণমূল’ হিসেবে দাবি করছে। অন্য অংশ নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে তুলে ধরে ঋতব্রত শিবির নামে পরিচিত হয়েছে। নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে কে লড়বে, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

ঋতব্রত শিবিরের তরফে নির্বাচন কমিশনের কাছে দলীয় প্রতীকের দাবি জানানো হয়েছে। এই বিরোধের জেরে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে দুই শিবিরকে ডেকেছে নির্বাচন কমিশন। ফলে ওই বৈঠকের দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

নন্দীগ্রামে আলাদা প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতিও ছিল ঋতব্রত শিবিরের। কিন্তু কালীঘাট শিবিরের তরফে যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই প্রার্থী হন, তাহলে সমীকরণ বদলে যেতে পারে। দলের প্রবীণ নেতা ঋজু দত্ত জানিয়েছেন, এমন পরিস্থিতিতে সৌজন্যের কারণে তাঁদের শিবির নন্দীগ্রামে পৃথক প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।


একই ধরনের ইঙ্গিত মিলেছে বিধায়ক মদন মিত্রের বক্তব্যেও। ফলে মমতা যদি শেষ পর্যন্ত নন্দীগ্রামে প্রার্থী হন, তাহলে দুই তৃণমূল শিবিরের মধ্যে সরাসরি ভোটের লড়াই এড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।

তবে তার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত। ১২ সেপ্টেম্বরের শুনানিতে দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর কমিশন কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই ঠিক করবে উপনির্বাচনের লড়াইয়ের অনেকটা গতিপথ।

রাজনৈতিক মহলে তাই এখন দু’টি প্রশ্ন পাশাপাশি ঘুরছে—নন্দীগ্রামে কি ফের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রার্থী করবে কালীঘাট শিবির? আর জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে কমিশন শেষ পর্যন্ত কার দাবিকে স্বীকৃতি দেবে? দু’টি প্রশ্নের উত্তরই আপাতত অনিশ্চিত। তবে উপনির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার পর নন্দীগ্রাম যে ফের বঙ্গ রাজনীতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে, তা স্পষ্ট।

Related posts

Leave a Comment