30 C
Kolkata
August 31, 2026
দেশ

তামিলনাড়ুতে মুসলিম ছাত্রীদের বিনামূল্যে পড়াশোনা নিয়ে প্রশ্ন

চেন্নাই: তামিলনাড়ুতে মুসলিম ছাত্রীদের স্নাতক পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বিজয় থলপতির নেতৃত্বাধীন সরকারের এই ঘোষণাকে বিরোধীদের একাংশ ‘সংখ্যালঘু তোষণ’ বলে আক্রমণ করেছে। অন্যদিকে সরকারের দাবি, অর্থনৈতিক কারণে যাতে সংখ্যালঘু পরিবারের মেয়েদের উচ্চশিক্ষা থমকে না যায়, তা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংখ্যালঘু উন্নয়নমন্ত্রী এএম শাহজাহান জানিয়েছেন, সরকারি, আধা-সরকারি এবং সরকারি কোটায় ভর্তি হওয়া বেসরকারি কলেজে পড়া মুসলিম ছাত্রীরা এই সুবিধা পাবেন। কলা, বিজ্ঞান, ইঞ্জিনিয়ারিং, চিকিৎসাবিজ্ঞান, কৃষি ও আইন-সহ বিভিন্ন বিষয়ে স্নাতক স্তর পর্যন্ত তাঁদের কোনও শিক্ষা-ফি দিতে হবে না। এই প্রকল্পের জন্য ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে (Minority Education) বিতর্ক শুরু হয়েছে।

সরকারের বক্তব্য, মেয়েদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়লে শুধু তাঁদের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাই তৈরি হবে না, পরবর্তী প্রজন্মের শিক্ষার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা হলে সামগ্রিক সামাজিক উন্নয়ন সম্ভব বলেই মনে করছে সরকার।

এর পাশাপাশি ওয়াকফ বৃত্তির পরিধি বাড়িয়ে দশম শ্রেণি পর্যন্ত করা হয়েছে। আগে প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়ারা এই সুবিধা পেতেন। চেন্নাইয়ে সংখ্যালঘু মহিলাদের জন্য পৃথক কলেজ তৈরির পরিকল্পনাও জানিয়েছে তামিলনাড়ু ওয়াকফ বোর্ড (Tamil Nadu Waqf Board)।

এছাড়া ওয়াকফ ও চার্চের সম্পত্তিতে কমিউনিটি হল এবং বাণিজ্যিক পরিকাঠামো তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগকে সংখ্যালঘু সমাজের উন্নয়নের পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হলেও বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটব্যাঙ্কের কথা মাথায় রেখেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

একাধিক হিন্দু সংগঠনও প্রশ্ন তুলেছে, আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা হিন্দু মহিলাদের জন্য একই ধরনের সুবিধা কেন থাকবে না। ফলে শিক্ষা ও সংখ্যালঘু উন্নয়নের যুক্তি বনাম ধর্মভিত্তিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ—এই দুইয়ের টানাপোড়েনে বিজয় সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।

Related posts

Leave a Comment