28 C
Kolkata
August 31, 2026
দেশ

প্যাকেটজাত খাবারে বাড়তি চিনি-নুন-ফ্যাটে লাল সতর্কীকরণ চিহ্নের প্রস্তাব

সংবাদ কলকাতা — প্যাকেটজাত খাবারে অতিরিক্ত চিনি, নুন এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকলে ক্রেতাদের আগেই সতর্ক করতে প্যাকেটের সামনের দিকে বিশেষ চিহ্ন চালুর প্রস্তাব দিয়েছে ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অব ইন্ডিয়া বা FSSAI। একটি জনস্বার্থ মামলায় সুপ্রিম কোর্টে দেওয়া ছয় পাতার কমপ্লায়েন্স অ্যাফিডেভিটে এই প্রস্তাব জানিয়েছে খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় প্যাকেটের সামনের দিকে লাল রঙের ষড়ভুজাকৃতি সতর্কীকরণ চিহ্ন থাকবে। কোনও পণ্যে নির্ধারিত সীমার বেশি অ্যাডেড স্যাচুরেটেড ফ্যাট, অ্যাডেড সুগার এবং নুন—এই তিনটির মধ্যে অন্তত দু’টি থাকলে প্রথম পর্যায়ে সতর্কীকরণ লেবেল দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পুষ্টি উপাদানের নির্ধারিত সীমা ঠিক করা হবে ২০২৪ সালের ICMR-NIN-এর খাদ্য নির্দেশিকার ভিত্তিতে।

পণ্যের ধরন অনুযায়ী সতর্কীকরণ লেবেলে ‘High Fat’, ‘High Sugar’, ‘High Salt’ অথবা ‘Highly Sweetened Beverage’ লেখা থাকতে পারে। ক্রেতাদের যাতে সহজেই নজরে আসে, সেজন্য প্যাকেটের পিছনে থাকা নিউট্রিশন ইনফরমেশন টেবিলের তুলনায় এই সতর্কীকরণ লেখা এক পয়েন্ট বড় ফন্টে রাখার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

FSSAI-এর পরিকল্পনা অনুযায়ী, ধাপে ধাপে এই নিয়ম কার্যকর করা হবে। প্রথম পর্যায়ে নির্ধারিত সীমার বেশি অন্তত দু’টি উপাদান থাকা খাবার এবং নির্দিষ্ট ধরনের মিষ্টি পানীয়কে এই ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। পরবর্তী পর্যায়ে নিয়ম আরও কড়া করে কোনও একটি উপাদানের মাত্রা নির্ধারিত সীমা ছাড়ালেই সতর্কীকরণ লেবেল বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রয়েছে।

এই ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য শিশু এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি ক্রেতাদের আরও সচেতনভাবে খাবার বেছে নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া। তবে সব ধরনের খাবারের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। ঘি, ভোজ্য তেল, নুন, চিনি, গুড় ও মধুর মতো একক উপাদানে তৈরি এবং স্বাভাবিকভাবেই ফ্যাট, চিনি বা নুনের মাত্রা বেশি থাকা পণ্যকে প্রস্তাবিত ফ্রন্ট-অফ-প্যাক সতর্কীকরণ থেকে ছাড় দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।


সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্নের পরেই FSSAI-এর এই নতুন প্রস্তাব সামনে এসেছে। এর আগে প্যাকেটের সামনে সরাসরি সতর্কীকরণের পরিবর্তে দৈনিক সুপারিশকৃত সীমার তথ্য দেওয়ার ব্যবস্থা প্রস্তাব করেছিল সংস্থাটি। সেই পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল শীর্ষ আদালত।

বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের বেঞ্চ জানতে চেয়েছিল, সাধারণ ক্রেতা যদি সহজে বুঝতেই না পারেন কোনও খাবারে কতটা চিনি, নুন বা স্যাচুরেটেড ফ্যাট রয়েছে, তাহলে এমন লেবেলিং ব্যবস্থার কার্যকারিতা কতটা। শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল আদালত। খাদ্যশিল্পের চাপের কাছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা নতি স্বীকার করছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছিল।

এর পরেই ক্রেতাদের চোখে পড়ার মতো স্পষ্ট ও সহজবোধ্য সতর্কীকরণ চিহ্ন চালুর প্রস্তাব দিয়েছে FSSAI। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে প্যাকেটজাত খাবার কেনার আগে পণ্যের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে দ্রুত ধারণা পাওয়ার সুযোগ পাবেন ক্রেতারা।

Related posts

Leave a Comment