সংবাদ কলকাতা: রাখিবন্ধন উৎসবের আবহে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবাদ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন রয়েছে বলে দাবি করলেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। সম্প্রতি বাম ছাত্র সংগঠন ও এবিভিপির সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। সেই ঘটনার পরেই যাদবপুরে রাখিবন্ধন ও বন্দে মাতরমকে সামনে রেখে বিশেষ কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে।
শুক্রবার প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, রাখি শুধু ভাই-বোনের সম্পর্কের প্রতীক নয়, এটি সামাজিক বন্ধনেরও মাধ্যম। তাঁর দাবি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রাখির মাধ্যমে সামাজিক ঐক্যের বার্তা দিয়েছিলেন। সেই রাখির সঙ্গে বন্দে মাতরম যুক্ত করে যাদবপুরে জাতীয়তাবাদের বার্তা দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

দিলীপ ঘোষের অভিযোগ, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু মানুষ বিচ্ছিন্নতাবাদী মানসিকতা নিয়ে কাজ করছেন। সেই কারণেই সেখানে রাষ্ট্রবাদের বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, রাখিবন্ধন ও বন্দে মাতরমের মাধ্যমে সমাজকে আরও ঐক্যবদ্ধ করার বার্তা দেওয়া উচিত।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে রাখিবন্ধন উৎসবের দিন প্রায় ১০ হাজার কণ্ঠে বন্দে মাতরম গাওয়ার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে বিশেষ পোস্টারও দেখা গিয়েছে। এই আবহে দিলীপ ঘোষ বলেন, জোরদার রাখিবন্ধন এবং বন্দে মাতরমের আয়োজনের মাধ্যমেই জাতীয়তাবাদের বার্তা আরও শক্তিশালী করা দরকার।
সম্প্রতি বাম ছাত্র সংগঠন ও এবিভিপির সংঘর্ষের জেরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। সেই ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবাদ প্রতিষ্ঠার কথা জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার সেই উদ্যোগের পক্ষে সওয়াল করলেন দিলীপ ঘোষ।

এদিন ভবানীপুর, আলিপুর এবং যাদবপুরে রাখিবন্ধন উৎসবে অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অন্যদিকে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল পথশিশুদের হাতে রাখি পরিয়ে দেন। সব মিলিয়ে রাখিবন্ধন উৎসবকে ঘিরে রাজ্যের রাজনীতিতে জাতীয়তাবাদ ও রাষ্ট্রবাদ নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
