30 C
Kolkata
August 21, 2026
Featured

অভিনয়ের বাইরে ক্রীড়াজগতে আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন অভিষেক বচ্চন

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

মুম্বই, ২১ আগস্ট: বলিউড অভিনেতা অভিষেক বচ্চন দীর্ঘদিন ধরে অভিনয়ের পাশাপাশি ক্রীড়াজগতের সঙ্গেও যুক্ত। পারিবারিক পরিচয়ের বাইরে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করার লক্ষ্যেই কাবাডি, ফুটবল এবং ক্রিকেটের বিভিন্ন প্রকল্পে যুক্ত হয়েছেন তিনি। সম্প্রতি সঞ্জীব কৃষ্ণনের সঙ্গে এক পডকাস্টে নিজের ক্রীড়া-যাত্রার নানা দিক তুলে ধরেছেন অভিনেতা।

অভিষেক জানিয়েছেন, ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার প্রতি তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়েছিল বাবা অমিতাভ বচ্চনের কাছ থেকে। অমিতাভ নিজেও খেলাধুলার অনুরাগী। ছোটবেলায় বাবার সঙ্গে বাড়ির বাগানে কাবাডি খেলার স্মৃতিও এখনও তাঁর মনে রয়েছে। শুধু খেলার প্রতি আগ্রহ তৈরি করাই নয়, অমিতাভ তাঁকে বিশ্বখ্যাত ক্রীড়াবিদদের সঙ্গেও পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন মুহাম্মদ আলি, পেলে, জিকো এবং সক্রেটিস। সেই সময় তৈরি হওয়া আগ্রহ পরবর্তী জীবনে তাঁর ক্রীড়া-জগতের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পথ তৈরি করে।

ক্রীড়া-ব্যবসায় অভিষেকের প্রথম বড় পদক্ষেপ ছিল প্রো কাবাডি লিগের দল জয়পুর পিঙ্ক প্যান্থার্স। শুরুতে বিষয়টি বড় কোনও ব্যবসায়িক পরিকল্পনা ছিল না বলেই জানিয়েছেন তিনি। কিন্তু দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর ধীরে ধীরে দায়িত্বও বেড়ে যায়।

প্রথম মরসুম শুরুর আগেই জয়পুরে চলে গিয়েছিলেন অভিষেক। দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে সময় কাটানোর পাশাপাশি তাঁদের অনুশীলন, খাবারদাবার এবং প্রতিদিনের প্রস্তুতি কাছ থেকে দেখতেন। দলের সঙ্গে এতটাই মিশে গিয়েছিলেন যে ছোটখাটো দৈনন্দিন কাজেও সাহায্য করতেন তিনি।

অভিষেকের কথায়, তিনি কখনও বিষয়টিকে শুধুমাত্র ব্যবসা হিসেবে দেখেননি। এখনও সেই দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হয়নি। বরং খেলোয়াড় এবং দলের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। নিজের এই মনোভাব নিয়ে রসিকতা করে জানিয়েছেন, তাঁর হিসাবরক্ষক অবশ্য এই পদ্ধতি খুব একটা পছন্দ করেন না।

কাবাডির পর ফুটবলেও পা রাখেন অভিষেক। ইন্ডিয়ান সুপার লিগের দল চেন্নাইয়িন এফসির সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। কাবাডি এবং ফুটবল, দুটিই ভারতে ক্রিকেটের তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম জনপ্রিয়। ফলে এই দুই খেলায় বিনিয়োগ এবং দর্শক তৈরি করার পথ সহজ নয় বলেই মনে করেন অভিষেক।

তাঁর মতে, ভারতে প্রায় সব খেলাকেই ক্রিকেটের সঙ্গে তুলনা করা হয়। তবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে অন্য খেলাগুলিও নিজেদের জায়গা তৈরি করতে পারবে বলে বিশ্বাস করেন তিনি।

এবার ইউরোপের ক্রিকেট নিয়েও নতুন পরিকল্পনায় যুক্ত হয়েছেন অভিষেক। ইউরোপিয়ান টি-টোয়েন্টি প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম সহ-প্রতিষ্ঠাতা তিনি। আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড এবং নেদারল্যান্ডসে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটকে আরও জনপ্রিয় করে তোলাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

অভিষেকের মতে, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ক্ষেত্রে ইউরোপ এখনও একটি বড় সম্ভাবনার জায়গা। অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকা, এশিয়া এবং উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলে ইতিমধ্যে টি-টোয়েন্টি লিগের জনপ্রিয়তা তৈরি হয়েছে। সেই কারণে ইউরোপকে তিনি এই ক্রিকেটের ‘শেষ সীমান্ত’ হিসেবে দেখছেন।

নতুন কিছু তৈরি করার দিকেই তাঁর আগ্রহ বেশি। আগে থেকে তৈরি কোনও প্রকল্প পরিচালনার চেয়ে নিজের অর্থ বিনিয়োগ করে নতুন উদ্যোগ দাঁড় করাতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তিনি। পরে একই ধরনের দীর্ঘমেয়াদি ভাবনা রয়েছে এমন বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পক্ষে অভিষেক।

ইউরোপিয়ান টি-টোয়েন্টি প্রিমিয়ার লিগের সঙ্গে প্রাক্তন ক্রিকেটার স্টিভ ওয়, ফাফ ডু প্লেসি এবং রাহুল দ্রাবিড়ের মতো তারকারাও যুক্ত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

খেলাধুলার দর্শকদের মানসিকতা নিয়েও নিজের মত জানিয়েছেন অভিষেক। তাঁর মতে, সিনেমার দর্শকের তুলনায় ক্রীড়া-অনুরাগীদের সঙ্গে দলের সম্পর্ক অনেক বেশি দীর্ঘস্থায়ী এবং আবেগপ্রবণ।

তিনি মনে করেন, কোনও দল যদি দর্শকদের কাছে সত্যিকারের এবং বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠতে পারে, তা হলে সমর্থকেরা দীর্ঘদিন সেই দলের পাশে থাকেন। তাঁদের আনুগত্য অনেক বেশি গভীর। এই কারণেই ক্রীড়া-জগতে একটি দলকে ঘিরে সমর্থকদের আবেগকে তিনি অত্যন্ত শক্তিশালী বলে মনে করেন।

অভিনয় থেকে পাওয়া পরিচয়ের বাইরে নিজের ক্রীড়া-পরিচয় তৈরি করার অভিষেকের এই যাত্রা এখন একাধিক খেলা এবং একাধিক দেশে বিস্তৃত হয়েছে।

Related posts

Leave a Comment