৪৩৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ, বাতিল ১৭ লক্ষ আবেদন
সংবাদ কলকাতা: রাজ্য সরকারের অন্নপূর্ণা যোজনায় টাকা দেওয়া শুরু হল সোমবার থেকে। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, ২০ আগস্টের মধ্যে ১ কোটি ৪৫ লক্ষ উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই প্রকল্পের টাকা পৌঁছে যাবে। সব মিলিয়ে দেওয়া হবে ৪৩৫০ কোটি টাকা। নথি যাচাইয়ের প্রথম পর্বে ১ কোটি ৬২ লক্ষ আবেদন খতিয়ে দেখা হয়েছিল। তার মধ্যে ১৭ লক্ষ আবেদন বাতিল হয়েছে। ফলে আপাতত ১ কোটি ৪৫ লক্ষ আবেদনকারী টাকা পাচ্ছেন।
রাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ১০ জুলাই পর্যন্ত অন্নপূর্ণা যোজনায় মোট ১ কোটি ৮০ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছিল। প্রথম দফায় যাচাই হওয়া আবেদনের মধ্যে আধার নম্বরের সঙ্গে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সংযোগ না থাকা-সহ বিভিন্ন কারণে ১৭ লক্ষ আবেদন বাতিল করা হয়েছে। বাকি আবেদনগুলির নথি যাচাই এখনও চলছে।
সোমবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা দেওয়া এবং আবেদন যাচাইয়ের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়। সরকারের তরফে বলা হয়েছে, বাতিল হওয়া আবেদনকারীদের ফের আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হবে। অনলাইনে নির্দিষ্ট পোর্টালের মাধ্যমে সেই আবেদন করা যাবে।
নবান্নের তরফে জানানো হয়েছে, ১৭ লক্ষ বাতিল আবেদনের মধ্যে অন্তত ১০ লক্ষ ক্ষেত্রে আধার নম্বরের সঙ্গে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সংযোগ না থাকার সমস্যা পাওয়া গিয়েছে। এ ছাড়াও সরকারি চাকরি থাকা বা আয়করদাতা হওয়ার মতো কারণে কিছু আবেদন বাতিল হয়েছে।
১১ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত যাঁরা অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য আবেদন করেছেন, তাঁদের নথি যাচাই এখনও চলছে। এই যাচাইয়ের কাজ শেষ হতে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। যাচাই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর যোগ্য আবেদনকারীদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে সরকার।
নাম বাদ পড়া আবেদনকারীদের জন্যও পুনরায় আবেদনের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট পোর্টালের ‘সোশ্যাল রেজিস্টার’ বিভাগে গিয়ে ফের আবেদন করা যাবে। সেই আবেদন জেলাশাসক স্তরে আবার যাচাই করা হবে। কোনও সমস্যা না থাকলে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারী প্রকল্পের সুবিধা পেতে পারেন। বর্তমানে পোর্টালটি বন্ধ রয়েছে। ২০ আগস্ট থেকে পুনরায় আবেদন করার সুযোগ মিলবে।
আবেদন সংক্রান্ত কোনও অভিযোগ থাকলেও পোর্টালের মাধ্যমে তা জানানো যাবে। তবে নতুন করে আবেদন করতে ইচ্ছুকদের জন্য ৩০ সেপ্টেম্বরের আগে সুযোগ থাকছে না বলে জানানো হয়েছে।
আধার ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সংযোগ নিয়ে যে সমস্যা সামনে এসেছে, তা সমাধানে ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকদেরও দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় শিবির করে সমস্যার সমাধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্নপূর্ণা যোজনায় কারা সুবিধা পাবেন, সে ক্ষেত্রেও আয়ের পাশাপাশি জমির মালিকানা নিয়ে কিছু শর্ত রয়েছে। সরকারের তরফে আগে জানানো হয়েছিল, মাসিক ১০ হাজার টাকার বেশি আয় বা পরিবারের বার্ষিক আয় ১২ লক্ষ টাকার বেশি হলে এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাবে না। জমির ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সীমা রাখা হয়েছে। সাতটি পুরনিগম এলাকার বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে ৫০ ডেসিমেলের বেশি জমি থাকলে প্রকল্পের সুবিধা না পাওয়ার নিয়ম রয়েছে। গ্রামীণ এলাকার ক্ষেত্রে জমির পরিমাণ সংক্রান্ত নিয়মে কিছু ছাড় রয়েছে।
প্রথম দফায় বিপুল সংখ্যক উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর পাশাপাশি বাতিল আবেদন এবং বাকি আবেদনগুলির যাচাই প্রক্রিয়াও চালিয়ে যাচ্ছে রাজ্য সরকার।
