ফিনিক্স, আগস্ট ১৬ — আকাশপথে ভয়াবহ বিপদের মুখে পড়েছিল আমেরিকান এয়ারলাইন্সের দুটি যাত্রীবাহী বিমান। একই সময়ে একই কলসাইন ব্যবহার করে উড়ছিল বিমান দুটি। তার মধ্যে একটি ফিনিক্স বিমানবন্দর থেকে শিকাগোর উদ্দেশে উড়েছিল, অন্যটি শিকাগো থেকে ফিনিক্সে অবতরণের জন্য এগিয়ে আসছিল। খারাপ আবহাওয়ার কারণে অবতরণে দেরি হওয়ায় দুটি বিমান একই আকাশপথে কাছাকাছি চলে আসে। শেষ মুহূর্তে বিমানচালক এবং বিমান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার তৎপরতায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার গভীর রাতে আমেরিকার অ্যারিজোনায় এই ঘটনা ঘটে। জানা গিয়েছে, ফিনিক্স বিমানবন্দর থেকে একটি বিমান শিকাগোর উদ্দেশে উড়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। একই সময়ে শিকাগো থেকে আসা অন্য বিমানটি ফিনিক্স বিমানবন্দরে অবতরণের জন্য এগিয়ে আসছিল। কিন্তু খারাপ আবহাওয়ার কারণে অবতরণ প্রক্রিয়ায় দেরি হওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।
শিকাগোফেরত বিমানটি তখনও আকাশে থাকা অবস্থাতেই ফিনিক্স বিমানবন্দর থেকে একই কলসাইনের আর একটি বিমানকে উড়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। ফলে একই সময়ে একই নাম বা পরিচিতি ব্যবহার করে দুটি বিমান কাছাকাছি আকাশপথে চলে আসে। বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে এই ধরনের পরিস্থিতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে, কারণ বিমান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কাছে একই পরিচিতি ব্যবহার করা দুটি উড়ন্ত বিমানের অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
বিমান নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র বিষয়টি বুঝতে পারার পর দ্রুত পদক্ষেপ করে। শিকাগো থেকে ফিনিক্সের দিকে আসা বিমানটির পাইলটকে তৎক্ষণাৎ জানানো হয়, একই পথে একটি বিমান রানওয়ে থেকে উড়ে গিয়েছে। তাঁকে নির্দিষ্ট উচ্চতায় বিমান নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়, যাতে দুটি বিমানের মধ্যে নিরাপদ দূরত্ব বজায় থাকে।
অন্য দিকে, ফিনিক্স বিমানবন্দর থেকে শিকাগোর উদ্দেশে উড়ে যাওয়া বিমানটির পাইলটকেও দ্রুত সতর্ক করা হয়। তিনি যে উচ্চতায় উঠছিলেন, সেই উচ্চতা আপাতত বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। ফলে দুটি বিমানের উড়ানের উচ্চতা এবং গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করে তাদের মধ্যে প্রয়োজনীয় দূরত্ব তৈরি করা সম্ভব হয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, বিমানচালক এবং বিমান নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগের কারণে শেষ মুহূর্তে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যায়। সময়মতো দুই বিমানের পাইলটের কাছে নির্দেশ পৌঁছে যাওয়ায় মুখোমুখি সংঘর্ষের সম্ভাবনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে, একই সময়ে দুটি বিমানের ক্ষেত্রে একই উড়ান নম্বর এবং কলসাইন ব্যবহারের কারণেই এই বিপত্তি তৈরি হয়েছিল। বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে কলসাইন একটি বিমানের পরিচিতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। তাই একই সময়ে কাছাকাছি এলাকায় দুটি বিমানের ক্ষেত্রে একই কলসাইন ব্যবহার হলে বিমান নিয়ন্ত্রণে বিভ্রান্তির ঝুঁকি বেড়ে যায়।
এই ঘটনার পর বিমান চলাচলের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একই ধরনের ভুল কী ভাবে এড়ানো যায়, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে খারাপ আবহাওয়ার সময়ে যখন বিমান ওঠানামা এবং অবতরণে বিলম্ব হয়, তখন বিমান নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রের কাছে প্রতিটি উড়ানের পরিচিতি এবং অবস্থান নির্ভুল ভাবে চিহ্নিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সামান্য ভুলও তখন বড় বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
যাত্রীবাহী বিমান দুটির কতটা কাছাকাছি চলে এসেছিল এবং ঠিক কোন পর্যায়ে বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি। তবে শেষ মুহূর্তে পাইলট ও বিমান নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রের সমন্বিত তৎপরতা যে একটি সম্ভাব্য বড় দুর্ঘটনা ঠেকিয়েছে, তা স্পষ্ট। ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি একই ধরনের পরিস্থিতি যাতে ভবিষ্যতে তৈরি না হয়, সেদিকেও নজর দেওয়া হতে পারে।
previous post
