নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি অধীরের
নদিয়া: নদিয়ার নাকাশিপাড়ায় কংগ্রেস নেতা আনিসুর রহমান এবং তাঁর ২৪ বছরের ছেলে আবু সুফিয়ানকে গুলি করে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে একদল দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে। শনিবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ বেথুয়াডহরি রেল গেটের কাছে এই ঘটনা ঘটে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং হামলার পিছনে কারা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চারচাকা গাড়িতে করে বাড়ি ফিরছিলেন আনিসুর রহমান এবং তাঁর ছেলে আবু সুফিয়ান। বেথুয়াডহরি রেল গেটের কাছে তাঁদের গাড়ির পথ আটকে দাঁড়ায় একদল দুষ্কৃতী। অভিযোগ, প্রথমে গাড়ি লক্ষ্য করে পর পর কয়েক রাউন্ড গুলি চালানো হয়। এর পর গাড়ি থামিয়ে বাবা ও ছেলেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়।
গুরুতর জখম অবস্থায় ঘটনাস্থলেই দু’জনের মৃত্যু হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। হামলার খবর পেয়ে নাকাশিপাড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পরে শুরু হয় তদন্ত। কী কারণে এই হামলা, কারা এর সঙ্গে যুক্ত এবং ঘটনার নেপথ্যে কোনও রাজনৈতিক বিরোধ রয়েছে কি না, সব দিকই খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
স্থানীয় কংগ্রেসের অভিযোগ তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে
এই হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয় কংগ্রেস নেতৃত্বের তরফে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। তাঁদের দাবি, জেলবন্দি তৃণমূল নেতা জুব্বার শেখের নির্দেশেই এই হামলা চালানো হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও পুলিশের তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।
স্থানীয় কংগ্রেস নেতা টিপু সুলতানের অভিযোগ, ‘এলাকা দখল করতে দুষ্কৃতীদের দিয়ে জেলে থেকে জুব্বার এই ঘটনা ঘটিয়েছে। প্রশাসন সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত করলে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে। আমরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
তবে পুলিশের তরফে এখনও এই অভিযোগের বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত মন্তব্য করা হয়নি। কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গ্রামীণ সুরজিৎ কুমার দে জানিয়েছেন, ঘটনা সদ্য ঘটেছে এবং তদন্ত চলছে। তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব নয় বলেও তিনি জানিয়েছেন।
অধীরের তীব্র নিন্দা
নদিয়ায় দলের নেতা ও তাঁর ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সমাজমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তিনি ঘটনার নিন্দা করার পাশাপাশি দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
অধীর বলেন, ‘নদিয়ার কংগ্রেস নেতা আনিসুর রহমান ও তাঁর পুত্রের হত্যার তীব্রতম ভাষায় নিন্দা ও ধিক্কার জানাই। ভয় আউট, ভরসা ইন-এর স্লোগান দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে এই সরকার, সেখানে স্বাধীনতা দিবসের দিনে এমন জঘন্য ঘটনা মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাধীন ভাবে রাজনীতি করার অধিকার নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলে দেয়।’
তিনি আরও বলেন, ঘটনার সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দ্রুত অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। একই সঙ্গে শোকাহত পরিবারের পাশে কংগ্রেস রয়েছে বলেও জানান তিনি।
কালা দিবস পালনের ঘোষণা কংগ্রেসের
ঘটনার প্রতিবাদে রাজ্যজুড়ে কর্মসূচির ঘোষণা করেছে প্রদেশ কংগ্রেস। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার জানিয়েছেন, বিরোধীদের কণ্ঠস্বর বন্ধ করার যে কোনও প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে তাঁদের রাজনৈতিক লড়াই চলবে।
তিনি বলেন, ‘এই রাজ্যে সংখ্যালঘু এবং বিরোধীদের কণ্ঠরোধের অপচেষ্টার বিরুদ্ধে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের লড়াই চলবেই। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে ১৬ আগস্ট সারা রাজ্য জুড়ে কংগ্রেস কালা দিবস পালন করবে।’
ফলে নদিয়ার জোড়া খুনের ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। একদিকে পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে, অন্য দিকে কংগ্রেসের তরফে নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি রাজনৈতিক ভাবে প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়েছে।
তদন্তে একাধিক প্রশ্ন
এই ঘটনায় এখন পুলিশের সামনে একাধিক প্রশ্ন। হামলাকারীরা কারা, তাঁদের সঙ্গে নিহতদের কোনও পুরনো বিরোধ ছিল কি না, হামলার নেপথ্যে রাজনৈতিক কারণ রয়েছে কি না এবং স্থানীয় কংগ্রেসের তোলা অভিযোগের কোনও ভিত্তি রয়েছে কি না— সবই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার ধরন নিয়েও তদন্তকারীরা তথ্য সংগ্রহ করছেন। প্রথমে গুলি চালানো এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলার অভিযোগ থাকায় পরিকল্পিত ভাবে হামলা চালানো হয়েছিল কি না, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হতে পারে।
অন্য দিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। স্বাধীনতা দিবসের রাতেই রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তি এবং তাঁর ছেলেকে এ ভাবে হামলা করে খুনের অভিযোগ ওঠায় এলাকায় নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
তবে তদন্ত সম্পূর্ণ হওয়ার আগে ঘটনার নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে হামলাকারীদের পরিচয় এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।
