স্বাধীনতা দিবসের আগে কাঁকুরগাছির ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে মনীষী, স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বদের মূর্তি পরিষ্কারের উদ্যোগ নিল ভারত একতা সংঘ। দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অপরিচ্ছন্ন হয়ে থাকা মূর্তিগুলির পরিচর্যার পাশাপাশি আশপাশের এলাকাও পরিষ্কার করা হয়। স্বাধীনতা সংগ্রামী ও মনীষীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি তাঁদের স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার বার্তাও দেওয়া হয় এই কর্মসূচির মাধ্যমে।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ভারত একতা সংঘের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি বৈজনাথ রায়। সংগঠনের কমিটির সদস্য বিট্টু সিংহ, কৃষানু দে, অনিকেত মাহাতো-সহ গুরজিৎ সিংহ, অজয় সাউ, অঙ্কিত সাউ এবং অন্যান্য সদস্য কর্মসূচিতে যোগ দেন।
সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় স্থাপিত বেশ কয়েকটি মূর্তি দীর্ঘদিন ধরে যথাযথ ভাবে পরিষ্কার করা হয়নি। ফলে সেগুলির গায়ে ধুলো-ময়লা জমেছিল এবং অনেক জায়গায় মূর্তির চারপাশও অপরিচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল। স্বাধীনতা দিবসের আগে বিষয়টি সামনে আসার পর সংগঠনের সদস্যরা নিজেরাই পরিষ্কারের উদ্যোগ নেন।
মূর্তি পরিষ্কারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জায়গাগুলিও পরিচ্ছন্ন করা হয়। সংগঠনের সদস্যরা জানান, দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের স্মরণে যে মূর্তিগুলি স্থাপন করা হয়েছে, সেগুলির প্রতি নিয়মিত যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। শুধু বিশেষ কোনও দিন মূর্তিতে মাল্যদান বা শ্রদ্ধা জানালেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না।
ভারত একতা সংঘের এই কর্মসূচির মূল বার্তা ছিল, মূর্তি স্থাপন যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ। সংগঠনের সদস্যদের মতে, একটি মূর্তি কোনও ব্যক্তির স্মৃতির প্রতীক। সেই স্মৃতিচিহ্ন দীর্ঘদিন অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় পড়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট মনীষী বা স্বাধীনতা সংগ্রামীর প্রতি সমাজের শ্রদ্ধার প্রকাশও প্রশ্নের মুখে পড়ে।
স্বাধীনতা দিবসের আগে কর্মসূচি হওয়ায় এর সঙ্গে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের স্মৃতি নতুন করে সামনে আসে। সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, স্বাধীনতার ইতিহাসকে শুধু বই বা বক্তৃতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শহর ও পাড়ার বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্নের মাধ্যমেও নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা দরকার।
শিশু ও তরুণ প্রজন্মকে দেশের ইতিহাস এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে পরিচিত করার ক্ষেত্রেও এই ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করছেন সংগঠনের সদস্যরা। তাঁদের বক্তব্য, শহরের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা মনীষী ও স্বাধীনতা সংগ্রামীদের মূর্তি নিয়মিত পরিষ্কার রাখলে এক দিকে যেমন পরিবেশ পরিচ্ছন্ন থাকবে, তেমনই অন্য দিকে ঐতিহাসিক স্মৃতির প্রতিও মানুষের আগ্রহ বাড়বে।
কাঁকুরগাছির এই কর্মসূচির মাধ্যমে তাই শুধু পরিচ্ছন্নতার কাজ করা হয়নি, বরং একটি সামাজিক দায়িত্বের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। আগামী দিনে সংশ্লিষ্ট মূর্তিগুলির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করার জন্য আরও সচেতনতা তৈরির প্রয়োজন রয়েছে বলে সংগঠনের সদস্যরা জানিয়েছেন।
স্বাধীনতা দিবসের আগে ভারত একতা সংঘের এই উদ্যোগ স্থানীয় স্তরে ইতিহাস, দেশপ্রেম এবং নাগরিক দায়িত্বকে একসঙ্গে সামনে নিয়ে এল। মনীষী ও স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্মৃতিকে যথাযথ সম্মান জানাতে মূর্তি স্থাপনের পাশাপাশি সেগুলিকে নিয়মিত পরিষ্কার ও সংরক্ষণ করার প্রয়োজনীয়তাই এ দিনের কর্মসূচিতে বিশেষ ভাবে তুলে ধরা হয়।
previous post
