August 11, 2026
রাজ্য

আরজি কর কাণ্ডে ফের জিজ্ঞাসাবাদ, ঘটনার রাতে হাসপাতালে থাকা সকলকে তলব সিবিআইয়ের

আরজি কর হাসপাতালের ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় ফের তদন্তে গতি আনল সিবিআই। ঘটনার রাতে যে ভবনে নির্যাতিতা কর্মরত ছিলেন, সেই ভবনের চিকিৎসক, নার্স, নিরাপত্তাকর্মী-সহ সকলকে নতুন করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে। আগের তদন্তে কোনও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা সূত্র নজর এড়িয়ে গিয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এই পদক্ষেপ বলে সূত্রের খবর।

বিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার পর সীমা পাহুজার নেতৃত্বাধীন তদন্তকারী দল ওই ভবনে উপস্থিত চিকিৎসক থেকে নিরাপত্তাকর্মী— সকলেরই বয়ান রেকর্ড করেছিল। তবে পরবর্তী সময়ে নির্যাতিতার পরিবার সেই তদন্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে। পরিবারের দাবি ছিল, কয়েক জন কর্মীর বক্তব্যে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকলেও সেগুলিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

বিশেষ করে এক নার্সের বয়ান নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। তাঁদের অভিযোগ, ওই নার্সের মোবাইলে ঘটনার রাতের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা ঘটনার রেকর্ড থাকতে পারে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই নতুন করে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

নতুন তদন্তকারী দল চলতি সপ্তাহ এবং আগামী সপ্তাহ জুড়ে ওই ভবনে কর্মরত চিকিৎসক, নার্স ও নিরাপত্তাকর্মীদের বয়ান রেকর্ড করবে। পাশাপাশি, রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের তরফে যে পৃথক তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেখানেও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। আরজি কর মামলায় নতুন করে তদন্তের ক্ষেত্রে প্রায় ৩০ জনকে নজরে রাখা হয়েছে বলেও সাম্প্রতিক রিপোর্টে উঠে এসেছে।

এদিকে, সিবিআইয়ের নতুন তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে ইতিমধ্যেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছে কলকাতা হাই কোর্ট। আদালত তদন্তকারী সংস্থাকে আগের তদন্তের ফলাফলে প্রভাবিত না হয়ে ঘটনাটির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নতুন করে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে। ৬ অগস্টের শুনানিতে আদালত তদন্তের অগ্রগতি নিয়েও প্রশ্ন তোলে।

২০২৪ সালের ৯ অগস্ট আরজি কর হাসপাতালে এক মহিলা চিকিৎসকের দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ ওঠে। কলকাতা পুলিশের পর তদন্তভার নেয় সিবিআই। মূল অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়কে গ্রেফতার করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে আদালতে তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পান। তবে নির্যাতিতার পরিবার শুরু থেকেই তদন্তের একাধিক দিক নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছে।

নতুন করে তদন্তে হাসপাতালের ওই ভবনে উপস্থিত প্রত্যেকের বয়ান নেওয়ার সিদ্ধান্ত সেই পুরনো প্রশ্নগুলিরই উত্তর খোঁজার চেষ্টা বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষত, ঘটনার রাতে ঠিক কী ঘটেছিল এবং কোনও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা প্রমাণ প্রথম দফার তদন্তে বাদ পড়েছিল কি না, সেটিই এখন তদন্তকারীদের অন্যতম লক্ষ্য।

Related posts

Leave a Comment