দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা সিএফ (Certificate of Fitness), কর এবং পারমিট পুনর্নবীকরণের জরিমানা এককালীন মকুবের দাবি জানাল শহর ও শহরতলির বাস পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত অপারেটরদের সংগঠন ‘সিটি সাব আরবান বাস সার্ভিস’। এই মর্মে পরিবহণ দফতরের প্রধান সচিব রবি ইন্দর সিংহের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে সংগঠনটি।
সোমবার পাঠানো ওই চিঠিতে ৪ মে ২০২৬ পর্যন্ত বকেয়া সমস্ত সিএফ ফাইন, ট্যাক্স ফাইন এবং পারমিট নবীকরণের জরিমানা এককালীন মকুব করার আবেদন জানানো হয়েছে।
সংগঠনের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে জমতে থাকা জরিমানার অঙ্ক এতটাই বেড়েছে যে বহু বাসমালিকের পক্ষে গাড়ির প্রয়োজনীয় নথি নবীকরণ এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এর প্রভাব সরাসরি পড়ছে গণপরিবহণ পরিষেবায়। পর্যাপ্ত সংখ্যক বাস রাস্তায় না থাকায় সমস্যায় পড়ছেন সাধারণ যাত্রীরাও।

এই পরিস্থিতিতে গণপরিবহণ ব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করার স্বার্থে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে পুরনো জরিমানা মকুবের আবেদন করেছে সংগঠনটি। পাশাপাশি ‘বাহন’ পোর্টালে জমে থাকা জরিমানাগুলির ক্ষেত্রেও বিশেষ বিবেচনার আর্জি জানানো হয়েছে।
বাস সংগঠনের দাবি, এককালীন জরিমানা মকুবের অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত সমস্ত বাসের সিএফ নবীকরণ, বকেয়া কর পরিশোধ এবং পারমিট নবীকরণ করা হবে। যাত্রী পরিষেবার উপযোগী করে বাসগুলি ফের রাস্তায় নামানোরও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
তবে ৪ মে ২০২৬-এর পর নিয়ম ভেঙে হওয়া জরিমানাগুলি এই ছাড়ের আওতায় না রাখার কথা স্পষ্ট করেছে সংগঠন। ওই সময়ের পরের সমস্ত জরিমানা নির্ধারিত নিয়ম মেনেই পরিশোধ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

সংগঠনের মতে, পুরনো জরিমানা মকুব হলে হাজার হাজার বাসচালক, কন্ডাক্টর ও পরিবহণকর্মী এবং তাঁদের পরিবার উপকৃত হবেন। একই সঙ্গে শহর ও শহরতলির গণপরিবহণ ব্যবস্থাতেও স্বাভাবিক গতি ফিরবে।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক টিটু সাহা বলেন, বাস পরিষেবা স্বাভাবিক না হলে কর্মজীবী মানুষ, পড়ুয়া এবং নিম্ন আয়ের যাত্রীদের যাতায়াতের সমস্যা আরও বাড়বে। তাই পরিবহণ দফতরের কাছে দ্রুত ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
এখন পরিবহণ দফতর এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সে দিকেই তাকিয়ে বাসমালিক ও অপারেটররা।
