August 11, 2026
বিদেশ

ভয়াবহ ভূমিকম্পে কাঁপল কলম্বিয়া, মৃতের সংখ্যা ১৩২, নিখোঁজ ২০০০

কলম্বিয়া: ভয়াবহ ভূমিকম্পে কার্যত বিপর্যস্ত কলম্বিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী কম্পনে এখনও পর্যন্ত অন্তত ১৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন প্রায় ৫৭০ জন। প্রায় ২০০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলেও প্রশাসন সূত্রে খবর। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শক্তিশালী ভূমিকম্পে কার্যত বিপর্যস্ত কলম্বিয়া (Colombia)। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ৭.৪ মাত্রার এই ভূমিকম্পে এখনও পর্যন্ত অন্তত ১৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন প্রায় ৫৭০ জন। প্রশাসনের হিসাবে প্রায় ২০০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারকাজ এগোলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ আঘাত হানে এই ভয়াবহ ভূমিকম্প (Earthquake)। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির খবর এসেছে ক্যালি (Cali) এবং পেরেইরা (Pereira) শহর থেকে। চোকে (Chocó) এবং কফি অ্যাক্সিস (Coffee Axis) এলাকাতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

কলম্বিয়ার ভূবিজ্ঞান দফতরের (Colombian Geological Service) দাবি, একবিংশ শতাব্দীতে দেশে এটাই সবচেয়ে বড় ভূমিকম্প। মূল কম্পনের পর ২১টি আফটারশক (Aftershock) হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষার (USGS) তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী বোগোটার পশ্চিমে স্যান হোসে দে পামার এলাকায় ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০৭ কিলোমিটার গভীরে ছিল ভূমিকম্পের উৎসস্থল (Epicenter)। শক্তিশালী কম্পনের প্রভাব পড়ে প্রতিবেশী পানামা (Panama) এবং ইকুয়েডরেও (Ecuador)।

ক্যালি শহরে একটি বড় হাসপাতাল (Hospital) ভেঙে পড়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নীচে বহু মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শহরের প্রায় ৩০ শতাংশ হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি স্কুল, কলেজ, সরকারি ভবন এবং সাধারণ মানুষের ঘরবাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রশাসনের প্রাথমিক হিসাবে, মোট ১৫৭৭টি বড় ও ছোট বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৩৭টি বাড়ি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধারকারী দল (Rescue Team) কাজ করছে।

ভূমিকম্পের জেরে পশ্চিম কলম্বিয়ায় বিমান পরিষেবাও পুরোপুরি ব্যাহত হয়েছে। বেশ কিছু এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

প্রশাসনের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নিখোঁজদের দ্রুত খুঁজে বের করা এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। পরবর্তী কম্পনের আশঙ্কায় উদ্ধারকারী ও সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ হিসাব এখনও পাওয়া যায়নি। ফলে আগামী দিনে বিপর্যয়ের প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হতে পারে।

Related posts

Leave a Comment