নায়ক সাহাল
নিজস্ব প্রতিনিধি: ডুরান্ড কাপে দাপট অব্যাহত মোহনবাগানের। শনিবার কিশোর ভারতী ক্রীড়াঙ্গনে সিআইএসএফ প্রোটেক্টর্সকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে প্রতিযোগিতার কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা পাকা করে ফেলল সবুজ-মেরুন। গ্রুপ ‘এ’-তে তিন ম্যাচে তিন জয় নিয়ে শীর্ষস্থানও নিশ্চিত করেছে তারা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে দেখা যায় মোহনবাগানকে। প্রায় ৭৫ শতাংশ বলের দখল ছিল তাদের কাছে। প্রথমার্ধেই চার গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় সবুজ-মেরুন।
এই ম্যাচের মূল আকর্ষণ অবশ্যই সাহাল আব্দুল সামাদ। প্রথমার্ধেই হ্যাটট্রিক করে দলের জয়ের ভিত গড়ে দেন এই মিডফিল্ডার। শুধু তিন গোলই নয়, দ্বিতীয়ার্ধে তাঁর অসাধারণ ‘নো-লুক’ থ্রু পাস থেকেই আসে জেমি ম্যাকলারেনের গোল। ফলে ম্যাচের সেরা নিয়ে কোনও সংশয়ই থাকেনি।
১৭ মিনিটে প্রথম গোল পায় মোহনবাগান। দেজান দ্রাজিচের দুর্দান্ত পাস থেকে টেকচাম অভিষেক সিংয়ের শট ডিফ্লেক্ট হয়ে পৌঁছয় লিস্টন কোলাসোর কাছে। লিস্টন নিজে শট না নিয়ে বল বাড়িয়ে দেন সাহালের দিকে। কাছ থেকে গোল করতে ভুল করেননি তিনি।
এর মাত্র দু’মিনিট পরেই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সাহাল। মনবীর সিংয়ের বাড়ানো বল ধরে দ্রাজিচ ডান দিক দিয়ে উঠে নিখুঁত ক্রস করেন। গোলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সাহাল সেই বল জালে পাঠিয়ে দেন।
২৪ মিনিটে মোহনবাগানের তৃতীয় গোল। অভিষেকের ক্রস নিয়ন্ত্রণ করে দুর্দান্ত দক্ষতায় বল জালে পাঠান মনবীর সিং। এরপর ৩৭ মিনিটে আসে সাহালের হ্যাটট্রিক। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে একাধিক প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে ডান পায়ের নিখুঁত শটে গোল করেন তিনি।
বিরতির পর একাধিক পরিবর্তন করেন কোচ প্যানাগিওতিস দিলম্পেরিস। মাঠে নামেন আশিস রাই, অ্যালেক্স সাজি, কিয়ান নাসিরি এবং অভিষেক ধনঞ্জয় সূর্যবংশী। তবে দ্বিতীয়ার্ধে মোহনবাগানের কোনও বিদেশি খেলোয়াড়কে মাঠে নামানো হয়নি। সমর্থকদের নজরে থাকা মিগুয়েল ফিগেরাকেও রিজার্ভ বেঞ্চে রাখা হয়নি।
৬৮ মিনিটে আসে মোহনবাগানের পঞ্চম গোল। সাহালের অসাধারণ ‘নো-লুক’ পাস থেকে বল পেয়ে যান পরিবর্ত হিসেবে নামা জেমি ম্যাকলারেন। গোলরক্ষককে সামনে পেয়ে কোনও ভুল করেননি অস্ট্রেলীয় স্ট্রাইকার।
এর পাঁচ মিনিট পরেই ষষ্ঠ গোল। লিস্টন কোলাসো ও অভিষেকের দারুণ বোঝাপড়ার পর বক্সে পৌঁছে যান অভিষেক। তাঁর নিখুঁত শটে সিআইএসএফের জালে আরও একবার বল জড়িয়ে যায়।
শেষ দিকে সিআইএসএফ কয়েকটি আক্রমণ গড়ে তুললেও মোহনবাগানের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। গোলরক্ষক বিশাল কাইথকেও কয়েকটি সুযোগে পরীক্ষা দিতে হয়। শেষ পর্যন্ত ৬-০ ব্যবধানেই জয় পায় সবুজ-মেরুন।
তিন ম্যাচে তিন জয় নিয়ে গ্রুপ ‘এ’-র শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে মোহনবাগান। গ্রুপ পর্বে এখনও পর্যন্ত ১৫টি গোল করেছে তারা, বিপরীতে একটিও গোল হজম করেনি। তিন ম্যাচেই ক্লিন শিট রেখেছেন বিশাল কাইথ।
তবে বড় জয়ের পরেও কিছুটা চিন্তার জায়গা রয়েছে মোহনবাগানের। ম্যাচে মোট ২৯টি শট নিয়েছিল তারা এবং তৈরি করেছিল ২৫টি গোলের সুযোগ। কিন্তু গোলের লক্ষ্যে ছিল মাত্র ১০টি শট। অর্থাৎ আক্রমণে দাপট থাকলেও সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে আরও উন্নতির জায়গা রয়েছে।
এদিকে, মোহনবাগানের মতোই ইস্টবেঙ্গলও গ্রুপ পর্বে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে। তবে তাদের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা এখনও নিশ্চিত হয়নি। সেই সমীকরণ পরিষ্কার হতে অপেক্ষা করতে হবে আরও কয়েক দিন।
মোহনবাগানের ক্ষেত্রে অবশ্য হিসাব পরিষ্কার—তিন ম্যাচে তিন জয়, ১৫ গোল এবং একটিও গোল হজম না করে ডুরান্ড কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সবুজ-মেরুন।
