১৪ দিনের এসটিএফ হেফাজতে হামিম
রাজ্য পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স (Special Task Force) পূর্ব বর্ধমানে বড়সড় অভিযান চালিয়ে হামিম মণ্ডল (Hamim Mondal) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা (ISI) এবং নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মুহাম্মদ (Jaish-e-Mohammed)-এর সঙ্গে যুক্ত একটি আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল। বৃহস্পতিবার বর্ধমান শহরের রেনেসাঁ আবাসন (Renaissance Apartment, Bardhaman) থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার আদালতের নির্দেশে ১৪ দিনের জন্য এসটিএফ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
তদন্তকারী সূত্রের দাবি, সমাজমাধ্যম (Social Media) ব্যবহার করেই হামিমের সঙ্গে পাকিস্তানের কুখ্যাত অপরাধী শাহজাদ ভাট্টি (Shahzad Bhatti) গোষ্ঠীর যোগাযোগ তৈরি হয়েছিল। এই যোগাযোগের মাধ্যমে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের গতিবিধি, সফরসূচি এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা হয়েছিল কি না, তা এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এসটিএফের দাবি, ধৃতের মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ এবং অন্যান্য বৈদ্যুতিন যন্ত্র থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ধার হয়েছে। সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য আর্থিক লেনদেন, হাওয়ালা চক্র, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং পশ্চিমবঙ্গে আরও কেউ এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে।
এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলেন, ‘এটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িত। এসটিএফ খুব শীঘ্রই বিস্তারিত জানাবে।’ তিনি আরও জানান, শুধু তিনি নন, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাইও (Umesh Rai) এই চক্রের নজরে ছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
গোয়েন্দাদের মতে, সমাজমাধ্যমের মাধ্যমে তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তুলে ধীরে ধীরে বেআইনি কাজে যুক্ত করার একটি পরিকল্পিত কৌশল এই ধরনের আন্তর্জাতিক চক্র ব্যবহার করে থাকতে পারে। হামিমের ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
তবে তদন্তকারী সংস্থা স্পষ্ট করেছে, হামিম মণ্ডলের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ এখনও তদন্তাধীন। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে দোষী বলা যায় না। আগামী কয়েক দিনের জিজ্ঞাসাবাদে এই মামলার আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
