সংবাদ কলকাতা — রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (Dearness Allowance) নিয়ে চলা মামলায় সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)-এ জমা দেওয়া স্টেটাস রিপোর্টে রাজ্য সরকার জানিয়েছে, বকেয়া অর্থের ১০০ শতাংশ নয়, ৮৫ শতাংশ পরিশোধের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বাকি ১৫ শতাংশ মকুবের আবেদনও আদালতের কাছে করা হয়েছে। সরকারের দাবি, সম্পূর্ণ বকেয়া একসঙ্গে মেটানো সম্ভব নয়। রাজ্যের আর্থিক চাপের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এই আবেদন করা হয়েছে।
স্টেটাস রিপোর্টে জানানো হয়েছে, ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সময়ের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বাবদ মোট ১১ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে। সেই অর্থ চার কিস্তিতে মেটানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের দাবি, ২০২৬ সালের জুলাই মাসেই প্রথম কিস্তির ৭ হাজার ৭৭১ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, দ্বিতীয় কিস্তি ২০২৭ সালের জানুয়ারি, তৃতীয় কিস্তি ২০২৭ সালের জুলাই এবং শেষ কিস্তি ২০২৮ সালের জানুয়ারি মাসে দেওয়া হবে।
রাজ্য আরও জানিয়েছে, ২০০৮-২০১৫ এবং ২০১৬-২০১৯—এই দুই পর্যায়ে আলাদা করে বকেয়া হিসাব করা হচ্ছে। প্রত্যেক কর্মীর ১৪১ মাসের পাওনা নির্ধারণ করতে হচ্ছে। বিভিন্ন দপ্তরের বেতন কাঠামো ভিন্ন হওয়ায় হিসাব প্রক্রিয়া জটিল হয়ে উঠেছে।
স্টেটাস রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ৯০টি ট্রেজারি থেকে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি ২০১৬ সালের আগের বেতনের নথি এখনও ডিজিটাল নয়। পুরনো নথি ডিজিটাল মাধ্যমে রূপান্তর করে নতুন পোর্টালে তথ্য সংযোজন করা হচ্ছে। প্রায় ১ লক্ষ ৩৪ হাজার কর্মীর জন্য পৃথক ই-সার্ভিস বুক তৈরি করতেও সময় লাগছে বলে দাবি সরকারের।
সরকার আদালতে আরও জানিয়েছে, রাজস্ব আয়ে চাপ এবং আর্থিক দায় বৃদ্ধি পাওয়ায় সম্পূর্ণ বকেয়া একসঙ্গে মেটানো কঠিন। সেই কারণেই বকেয়া অর্থের ১৫ শতাংশ মকুবের আবেদন জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, সরকারি কর্মীদের একাংশের আইনজীবী ফিরদৌস শামিম (Firdaus Shamim) জানিয়েছেন, কর্মীদের দাবি অপরিবর্তিত রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী বকেয়া মহার্ঘ ভাতার ১০০ শতাংশই দ্রুত পরিশোধের আবেদন জানানো হবে।
