খোলা থাকল দোকানপাট
সংবাদ কলকাতা: বছরের পর বছর ২১ জুলাই এলেই ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউস চত্বর যেন অন্য রূপ নিত। রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে আসা কর্মী-সমর্থকদের ভিড়ে জমজমাট হয়ে উঠত এলাকা। চায়ের দোকানে উপচে পড়া ভিড়, রাস্তাজুড়ে মানুষের ঢল, যান নিয়ন্ত্রণে কড়া ব্যবস্থা এবং ছোট দোকানপাট বন্ধ থাকার ছবি ছিল প্রায় নিয়মিত। তবে এ বছর সেই চেনা দৃশ্যের সম্পূর্ণ বদল ঘটল।
এবার শহিদ স্মরণ কর্মসূচির মূল মঞ্চ ভিক্টোরিয়া হাউস সংলগ্ন এলাকা থেকে সরিয়ে অন্যত্র হওয়ায় সকাল থেকেই এলাকা ছিল অনেকটাই শান্ত। রাস্তায় ছিল না অতিরিক্ত যানজট, দেখা যায়নি বাঁশের ঘেরা বা লোহার ব্যারিকেডের দীর্ঘ সারিও। সপ্তাহের অন্য দিনের মতোই স্বাভাবিক ছন্দে চলেছে ভিক্টোরিয়া হাউস চত্বরের জনজীবন।
প্রতি বছর নিরাপত্তার কারণে যেসব ছোট দোকান বন্ধ রাখতে হত, সেগুলিও এ বছর খোলা ছিল। ব্যবসায়ীরা স্বস্তির নিশ্বাস ফেললেও অতিরিক্ত ক্রেতার দেখা মেলেনি। চা দোকানি বিশ্বম্ভর সাউ জানান, অন্য বছর মিটিংয়ে আসা বহু মানুষ তাঁর দোকানে ভিড় করতেন। এ বছর সেই ভিড় আর হয়নি। তাঁর কথায়, ‘মিটিংয়ের জায়গা বদলে যাওয়ায় ব্যবসাও অন্যান্য দিনের মতোই হয়েছে। বাড়তি বিক্রি হয়নি।’
একই অভিজ্ঞতার কথা জানালেন ডেকার্স লেনের এক ভাতের হোটেলের কর্মী সজল হালদার। তিনি বলেন, প্রতি বছর ২১ জুলাই উপলক্ষে অতিরিক্ত খাবারের ব্যবস্থা করতে হত। কিন্তু এবার সকাল থেকেই বোঝা গিয়েছে, আগের মতো ভিড় হবে না। ফলে অতিরিক্ত প্রস্তুতির প্রয়োজনও পড়েনি।
অন্যদিকে, ভিক্টোরিয়া হাউসের কাছে মোবাইল সামগ্রীর দোকান চালান সাবির আহমেদ। তিনি জানান, অন্যান্য বছর এই দিনে দোকান বন্ধ রাখতে হলেও এবার সেই অসুবিধা হয়নি। তবে ব্যক্তিগতভাবে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় যোগ দিতে দুপুরে বিড়লা তারামণ্ডল এলাকায় যাবেন বলেও জানান।
এ বছর ২১ জুলাই উপলক্ষে শহরে তিনটি পৃথক শহিদ স্মরণ কর্মসূচির আয়োজন হয়েছে। ফলে এক জায়গায় বিপুল জনসমাগমের বদলে ভিড় ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন প্রান্তে। তারই প্রভাব স্পষ্ট হয়েছে দীর্ঘদিনের পরিচিত ভিক্টোরিয়া হাউস চত্বরে।
