চণ্ডীগড়: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শুক্রবার চণ্ডীগড়ে ₹৪,৭০০ কোটি টাকার ১০টি উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, চণ্ডীগড়ের পরিকাঠামো উন্নয়ন শুধু কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটির জন্য নয়, পঞ্জাব, হরিয়ানা এবং হিমাচল প্রদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক দিক থেকেও একটি উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত দেখা যায়। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন চণ্ডীগড়ের কংগ্রেস সাংসদ মনীশ তিওয়ারি।
এর আগে হরিয়ানার জিন্দ থেকে দেশের প্রথম হাইড্রোজেনচালিত যাত্রীবাহী ট্রেনেরও সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর তাঁর পঞ্জাবের জালন্ধরে গিয়ে অমৃত ভারত প্রকল্পের আওতায় আধুনিকীকরণ হওয়া ৭৫টি রেলস্টেশনের উদ্বোধন, ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক এবং জনসভায় যোগ দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২৭ সালের পঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সফর বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
সভায় প্রধানমন্ত্রী দেশের স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়ন তুলে ধরে বলেন, বর্তমানে প্রায় ১.৭৫ লক্ষ আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দিরে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপের মতো রোগের প্রাথমিক পরীক্ষা হচ্ছে। পাশাপাশি ই-সঞ্জীবনী পরিষেবার মাধ্যমে মানুষ ঘরে বসেই চিকিৎসকদের পরামর্শ পাচ্ছেন। মাতৃস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর দাবি, বর্তমানে দেশের ৯০ শতাংশেরও বেশি প্রসব হাসপাতালেই হচ্ছে, যার ফলে মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর হার কমেছে।
যক্ষ্মা নির্মূল কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী ভারতে টিবি চিকিৎসার আওতা ৯০ শতাংশের বেশি হয়েছে এবং মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২১ শতাংশ কমেছে। কোভিডের সময় ভারত যেভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ওষুধ ও চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছে দিয়েছে, তা দেশের ভাবমূর্তিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মোদী জানান, গত ১২ বছরে দেশে ১৫টি নতুন এইমস গড়ে তোলা হয়েছে এবং আয়ুষ্মান স্বাস্থ্য অবকাঠামো মিশন স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
চণ্ডীগড়কে পরিকল্পিত নগর উন্নয়ন ও স্বাস্থ্য পরিষেবার আদর্শ উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আইপিএস অফিসার ইন্দরজিৎ সিং সিধুর প্রশংসা করেন। ‘স্বচ্ছতা সে স্বাগত’ অভিযানে তাঁর ভূমিকার জন্য তাঁকে ‘স্বচ্ছতা সিপাহি’ বলেও উল্লেখ করেন মোদী। পাশাপাশি তিনি জানান, স্মার্ট সিটি প্রকল্প, ডিজিটাল অবকাঠামো, স্মার্ট পার্কিং এবং ইন্টিগ্রেটেড কমান্ড সিস্টেম গড়ে তুলতে চণ্ডীগড়ের জন্য ₹২,৫০০ কোটিরও বেশি বরাদ্দ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে.পি. নাড্ডাও উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, দেশে মেডিক্যাল শিক্ষার পরিকাঠামো দ্রুত বিস্তৃত হয়েছে। একসময় যেখানে মাত্র একটি এইমস ছিল, এখন সেই সংখ্যা ২৩-এর বেশি। একই সঙ্গে মেডিক্যাল কলেজের সংখ্যাও ৩৮৭ থেকে বেড়ে ৮১৮-এর বেশি হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও ৭৫ হাজার স্নাতক ও স্নাতকোত্তর মেডিক্যাল আসন বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।
