July 11, 2026
রাজ্য

পাকা বাড়ি থাকতেও পিএম আবাসের টাকা! বীরভূমে ২২ জনকে ফেরতের নোটিস, কড়া পদক্ষেপ প্রশাসনের

বীরভূম: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের পর প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (PM Awas Yojana) প্রকল্পে অযোগ্য উপভোক্তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ শুরু করেছে বীরভূম জেলা প্রশাসন। ইতিমধ্যেই নলহাটি-২ ব্লকের ২২ জন উপভোক্তাকে আবাস যোজনার প্রথম কিস্তির টাকা ফেরত দেওয়ার নোটিস পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ, পাকা বাড়ি থাকা সত্ত্বেও ভুয়ো তথ্য দিয়ে তাঁরা প্রকল্পের সুবিধা নিয়েছেন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নলহাটি-২ ব্লকের ভদ্রপুর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের মোস্তফাডাঙ্গা গ্রামের ২২ জনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, তাঁদের অধিকাংশেরই আগে থেকেই পাকা বাড়ি ছিল। তা সত্ত্বেও তাঁরা আবাস যোজনার প্রথম কিস্তি হিসেবে ৬০ হাজার টাকা গ্রহণ করেছেন। এরপরই ব্লক প্রশাসনের তরফে তাঁদের টাকা ফেরতের নোটিস পাঠানো হয়েছে।

নোটিস পাওয়া অনেকেই নিজেদের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছেন। কারও দাবি, পাকা বাড়িটি পরিবারের অন্য সদস্যের নামে। আবার কেউ জানিয়েছেন, ছেলে আলাদা হয়ে যাওয়ায় তাঁর নামে আবাসের আবেদন করা হয়েছিল। তবে প্রশাসনের দাবি, প্রকল্পের নিয়ম ভঙ্গ করে তথ্য গোপন করে সুবিধা নেওয়া হলে সেই টাকা ফেরত দিতেই হবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রকৃত গৃহহীনদের বঞ্চিত করে অনেক অযোগ্য ব্যক্তি আবাস যোজনার সুবিধা পেয়েছেন। তাঁদের দাবি, যাঁদের নামে টাকা এসেছে, তাঁদের অনেকেরই আগে থেকেই পাকা বাড়ি রয়েছে। কেউ কেউ আবার ওই টাকায় নতুন কংক্রিটের বাড়ি নির্মাণও শুরু করেছেন।

তবে প্রশাসনের নোটিস পাওয়ার পরও অধিকাংশ উপভোক্তা টাকা ফেরত দিতে অনীহা প্রকাশ করেছেন। নোটিসপ্রাপ্ত সাইদুল ইসলাম বলেন, পাকা বাড়িটি তাঁর কাকার। তিনি আবাসের টাকা পেয়ে নতুন বাড়ির কাজ শুরু করেছেন। এখন টাকা ফেরতের নির্দেশে সমস্যায় পড়েছেন। অন্যদিকে শেখ আনিকুল ইসলাম জানান, তিনি ছেলের বাড়িতে থাকেন। তাঁর নামে টাকা এসেছিল এবং সেই অর্থে বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করেছেন। এখন টাকা ফেরতের নির্দেশ পাওয়ায় উদ্বেগে রয়েছেন।জেলা প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়েছে, নোটিস পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে টাকা ফেরত না দিলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা থেকেও তাঁদের বঞ্চিত করা হতে পারে।

নলহাটি-২ ব্লকের বিডিও প্রিয়াঙ্কা সাধুখাঁ জানান, তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিলতেই টাকা ফেরতের নোটিস জারি করা হয়েছে। রামপুরহাটের বিধায়ক ধ্রুব সাহারও বক্তব্য, তথ্য গোপন করে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নেওয়া আইনবিরুদ্ধ। তাই অযোগ্য উপভোক্তাদের টাকা ফেরাতেই হবে, না হলে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

Related posts

Leave a Comment