July 11, 2026
বাংলাদেশ

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ইচ্ছা ঘিরে বিতর্ক, রায় কার্যকরের দাবিতে অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর চাপ বাড়াল এনসিপি

ঢাকা — বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের ইচ্ছা প্রকাশের পর নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে, আদালতের দেওয়া রায় কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হোক।

শুক্রবার ঢাকায় এক কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আদালতের রায় ইতিমধ্যেই হয়েছে। এখন সরকারের দায়িত্ব যথাযথ আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে এনে আদালতের রায় কার্যকর করা।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে শেখ হাসিনাবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের অন্যতম মুখ ছিলেন নাহিদ ইসলাম। সেই আন্দোলন থেকেই গড়ে ওঠা রাজনৈতিক দল এনসিপির নেতৃত্বে রয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়টি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি সরকারের কূটনৈতিক উদ্যোগের সঙ্গে সম্পর্কিত।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা জানান, তিনি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে চান। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি ফিরলেই ওরা হয়তো আমাকে গ্রেফতার করবে, মেরেও ফেলতে পারে। তবু আমাকে যেতে হবে।’

এই মন্তব্যের পরই এনসিপির পক্ষ থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর চাপ আরও বাড়ানো হয়েছে। নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা একটি সাক্ষাৎকারে দেখেছি, ডিসেম্বরের মধ্যে কেউ একজন দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন। দেশ দীর্ঘ ১৬ বছরের ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হয়েছে। আমরাও চাই তিনি দেশে ফিরুন এবং আদালতের দেওয়া ফাঁসির রায় কার্যকর হোক।’

তিনি আরও দাবি করেন, শেখ হাসিনা কীভাবে বাংলাদেশে ফিরবেন বা কোন প্রক্রিয়ায় তাঁকে আনা হবে, তা তিনি নিজে ঠিক করতে পারেন না। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব বাংলাদেশের সরকারের। প্রয়োজনে এ নিয়ে ভারতের সঙ্গে সরকারকেই আলোচনা করতে হবে।

নাহিদ ইসলামের বক্তব্য, ‘বাংলাদেশ সরকারই ঠিক করবে তাঁকে কখন, কীভাবে দেশে আনা হবে এবং কীভাবে আদালতের রায় কার্যকর করা হবে। এ বিষয়ে দিল্লির সঙ্গে প্রয়োজনীয় আলোচনা সরকারেরই দায়িত্ব।’

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে যান এবং সেখানে সাময়িকভাবে অবস্থান করছেন। তাঁর অনুপস্থিতিতেই বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারপ্রক্রিয়া চলে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়। যদিও শেখ হাসিনা তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন।

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ইচ্ছা এবং তা ঘিরে এনসিপির দাবি বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন সরকার এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয় এবং ভারত-বাংলাদেশের কূটনৈতিক আলোচনায় বিষয়টি কতটা গুরুত্ব পায়, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।

Related posts

Leave a Comment