ভাটপাড়া— ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের পুরসভাগুলিতে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক অচলাবস্থা কাটাতে বড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিল রাজ্য সরকার। শ্রম ও পরিবহণ মন্ত্রী অর্জুন সিং জানিয়ে দিলেন, পুরপ্রশাসক বসিয়ে বছরের পর বছর পুরসভা চালানো যায় না। তাই আগামী নভেম্বরেই ভাটপাড়া-সহ ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের একাধিক পুরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ভাটপাড়া পুরসভায় পুরপ্রশাসকদের নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অর্জুন সিং বলেন, নাগরিক পরিষেবা সচল রাখতে দ্রুত নির্বাচিত বোর্ড গঠন করা জরুরি। তাঁর কথায়, ‘পুরপ্রশাসক দিয়ে দীর্ঘদিন পুরসভা চালানো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তাই নভেম্বরেই নির্বাচন করার পরিকল্পনা রয়েছে।’
এদিন পুরসভার কাজের ধরন নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। চেয়ারম্যানের দপ্তরের পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘পুরসভার চেয়ারম্যানের দপ্তর কি পাঁচতারা হোটেল? এত বিলাসিতার প্রয়োজন কী?’
মন্ত্রী জানান, কাঁচড়াপাড়া, হালিশহর, নৈহাটি, ভাটপাড়া, গারুলিয়া এবং ব্যারাকপুর পুরসভার চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলরদের গণপদত্যাগের ফলে নাগরিক পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে। সাধারণ মানুষের স্বার্থেই দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে স্বাভাবিক প্রশাসন ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
বৈঠকে ভাটপাড়া পুরসভার অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের পেনশনের বকেয়া নিয়েও কড়া অবস্থান নেন অর্জুন সিং। তিনি আধিকারিকদের নির্দেশ দেন, যাঁদের পেনশনের কাগজপত্র এখনও সম্পূর্ণ হয়নি, তাঁদের বকেয়া দ্রুত মিটিয়ে দিতে হবে। মন্ত্রীর বক্তব্য, ‘যাঁরা দীর্ঘদিন পুরসভার জন্য কাজ করেছেন, তাঁদের পেনশন আটকে রাখা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
একই সঙ্গে পুরসভার একাংশের কর্মীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, আগের সরকারের আমলে যাঁরা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন, তাঁদের এখনই নিজেদের সংশোধন করা উচিত। অন্যথায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
নভেম্বরে পুরভোটের সম্ভাবনা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা—এই দুই ঘোষণাকে ঘিরে ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে।
previous post
