31.3 C
Kolkata
July 10, 2026
টিভি-ও-সিনেমা

চেক বাউন্স মামলায় অভিনেতা রাজপাল যাদবের তিন মাসের জেল, কোটি টাকার জরিমানা

দিল্লি— চেক বাউন্স সংক্রান্ত সাতটি মামলায় বলিউড অভিনেতা রাজপাল যাদবকে তিন মাসের সাধারণ কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল দিল্লি হাই কোর্ট। একই সঙ্গে অভিনেতা এবং তাঁর স্ত্রী রাধা রাজপাল যাদবের বিরুদ্ধে বিপুল অঙ্কের জরিমানাও ধার্য করেছে আদালত। বিচারপতি স্বর্ণকান্তা শর্মা এই রায় ঘোষণা করেন।আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সাতটি মামলার প্রতিটিতেই রাজপাল যাদবকে তিন মাসের সাধারণ কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে সব কটি সাজা একসঙ্গেই কার্যকর হবে। ফলে তাঁকে মোট তিন মাসই কারাভোগ করতে হবে।


শুধু কারাদণ্ডই নয়, প্রতিটি মামলায় অভিনেতাকে ১ কোটি ৫ লক্ষ টাকা করে জরিমানা দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছে আদালত। অন্যদিকে, তাঁর স্ত্রী রাধা রাজপাল যাদবকে প্রতিটি মামলায় ৫ লক্ষ টাকারও বেশি জরিমানা দিতে হবে।

রায় ঘোষণার সময় বিচারপতি বলেন, আদালত একাধিকবার রাজপাল যাদবকে বকেয়া অর্থ মিটিয়ে বিষয়টির নিষ্পত্তির সুযোগ দিয়েছিল। তিনি এবং তাঁর আইনজীবী বারবার আদালতে প্রতিশ্রুতি দিলেও সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি। আদালতের মতে, সমঝোতার যে শর্তে তিনি সম্মতি জানিয়েছিলেন, তা কার্যকর করার ক্ষেত্রে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন।

তবে এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে আবেদন করার জন্য রাজপাল যাদবকে দু’মাস সময় দেওয়া হয়েছে।

এই মামলায় এর আগেও আইনি সমস্যায় পড়েছিলেন অভিনেতা। ২০২৪ সালের মে মাসে একটি দায়রা আদালত তাঁকে চেক বাউন্স মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছিল। পরে দিল্লি হাই কোর্ট সেই সাজা স্থগিত রাখে, কারণ আদালতে জানানো হয়েছিল যে অভিযোগকারী সংস্থার সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চলছে। বিষয়টি দিল্লি হাই কোর্টের মধ্যস্থতা কেন্দ্রেও পাঠানো হয়েছিল।

কিন্তু আদালতের পর্যবেক্ষণ, বারবার সময় চাওয়া এবং আশ্বাস দেওয়া হলেও নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ করা হয়নি। রাজপাল যাদব কিস্তিতে ২ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা দেওয়ার অনুমতি চেয়েছিলেন। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করলেও তিনি প্রতিশ্রুত অর্থ জমা দেননি।

এরপর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আদালত তাঁকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। সময় বাড়ানোর আবেদনও খারিজ হয়ে যায়। ৫ ফেব্রুয়ারি তিনি জেল কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। পরে অভিযোগকারী সংস্থার কাছে ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা জমা দেওয়ার পর আদালত অন্তর্বর্তীকালীনভাবে তাঁর সাজা স্থগিত করেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কারণেই দিল্লি হাই কোর্ট নতুন করে তিন মাসের কারাদণ্ড এবং আর্থিক জরিমানার নির্দেশ দিল।

Related posts

Leave a Comment