31.3 C
Kolkata
July 10, 2026
রাজ্য

এক মাসেই রাজস্বে হাজার কোটি টাকার উল্লম্ফন, দুর্নীতি রুখেই কোষাগার ভরার দাবি রাজ্য সরকারের

কলকাতা— ক্ষমতায় আসার পর প্রথম বাজেট পেশের সময় থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল, বিপুল ঋণের বোঝা নিয়েও কীভাবে উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং পরিকাঠামো খাতে বড় ব্যয়ের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে নতুন সরকার। সেই প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় দাবি করেছিলেন, দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি বন্ধ করেই রাজ্যের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, বীরভূমের পাথর খাদান থেকে আগে বছরে সরকারের রাজস্ব আদায় হতো মাত্র আট কোটি টাকা। অথচ নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মাত্র এক মাসেই সেই খাত থেকে ৮৩ কোটি টাকা রাজস্ব এসেছে। তাঁর অভিযোগ, এতদিন বিপুল অঙ্কের অর্থ সরকারি কোষাগারে না গিয়ে দুর্নীতির মাধ্যমে অন্যত্র চলে যেত।

সরকারি সূত্রের দাবি, ৯ মে নতুন সরকার গঠনের পর থেকে ৯ জুন পর্যন্ত মাত্র এক মাসে রাজ্যের রাজস্ব আদায় গত আর্থিক বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় এক হাজার কোটি টাকা বেশি হয়েছে। অর্থদপ্তরের মতে, এই বৃদ্ধি মূলত দুর্নীতির পথ বন্ধ করা এবং বিভিন্ন দপ্তরে স্বচ্ছতা আনার ফল।

আগের সরকারের আমলে জমি রেজিস্ট্রি ও আবগারি শুল্ক রাজস্বের প্রধান উৎস ছিল। তবে বর্তমান সরকারের দাবি, খনিজ সম্পদ, বালি, কয়লা ও পাথর খাদান-সহ একাধিক ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ ছিল। সেই সব ক্ষেত্রে নজরদারি বাড়ানো, অনলাইন ব্যবস্থার স্বচ্ছ প্রয়োগ এবং প্রশাসনিক কড়াকড়ির ফলে এখন সরকারের আয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

এই প্রেক্ষাপটেই পূর্বতন সরকারের আমলের আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির শ্বেতপত্র তৈরির কাজও শুরু হয়েছে। অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তর নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রিগোষ্ঠী ইতিমধ্যেই বৈঠক করে বিভিন্ন দপ্তর থেকে তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সরকারের দাবি, তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই জনগণের সামনে পূর্ববর্তী প্রশাসনের আর্থিক চিত্র তুলে ধরা হবে।

নবান্ন সূত্রের দাবি, বীরভূমের একটি পাথর খাদান থেকে আগে বছরে যেখানে প্রায় ৬০ কোটি টাকা রাজস্ব পাওয়া যেত, বর্তমানে সেই একই খাদান থেকে প্রতি মাসে ৮০ থেকে ৯০ কোটি টাকা পর্যন্ত সরকারি কোষাগারে জমা পড়ছে। সরকারের মতে, রাজস্ব আদায়ের এই বৃদ্ধি প্রমাণ করছে যে দুর্নীতি রোধ করা গেলে উন্নয়নের জন্য অর্থের অভাব হয় না।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় আরও দাবি করেছিলেন, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে রাজস্ব লুঠের সঙ্গে রাজনীতি ও প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের একাংশের যোগ ছিল। সেই কারণেই দুর্নীতির প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে। সরকারের বক্তব্য, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, কঠোর নজরদারি এবং রাজস্ব সংগ্রহে প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগের ফলেই রাজ্যের আর্থিক অবস্থার উন্নতি শুরু হয়েছে।

Related posts

Leave a Comment